চেয়ারম্যন খুনের ঘটনায় পুলিশ মহলে রদবদল হলেও মূল অভিযুক্তরা এখনও অধরা

খবর এইসময় ,হুগলি :  ভদ্রেশ্বরের পুরপ্রধান মনোজ উপাধ্যায় খুনের ঘটনায় প্রশাসনিক গাফিলতির অভিযোগে আগেই গর্দান গিয়েছে খোদ পুলিশ কমিশনার পীযুশ পান্ডে ও তেলেনিপাড়া ফাড়ির অফিসার ইনচার্জ প্রদীপ দাসের।ফের রবিবার পুরপ্রধান খুনের ঘটনায় ক্লোজ করা হল ভদ্রেশ্বরের ওসি অনুদ্যুতি মজুমদারকে।তার  জায়গায় অতিরিক্ত চার্জ দেওয়া হয়েছে চন্দননগরের কোর্ট ইনেসপেক্টর নন্দন পানিগ্রাহীকে।একের পর এক পুলিশ কর্মীর উপড়ে শাস্তির খাড়া নামলেও চারদিন পেড়িয়ে গেলেও খুনের ঘটনায় অভিযুক্ত মাত্র এক জনের গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে নানা মহলে।যদিও এদিন চন্দননগর কমিশনারেটের কমিশনার অজয় কুমার বলেন প্রশাসনিক কারনে ভদ্রেশ্বর থনার ওসি কে চুঁচুড়া পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়েছে।তাকে কোন দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।খুনের ঘটনার তদন্তে বেশ কিছু লিড পাওয়া গিয়েছে।বেশিদিন কোন অপরাধী লুকিয়ে থাকতে পাড়বে না।তবে চেয়ারম্যান খুনের পরে পুলিশ কমিশনারের অপসারন থেকে বাকি পুলিশ কর্মীদের সাসপেন্ড ও লাইনে ক্লোজের বিষয়টি নিয়ে পদস্ত পুলিশ অফিসারদের মধ্যে ব্যাপক শোরগোল পড়ে গিয়েছে।একইসঙ্গে আরো কয়েকজন জেলা পুলিশের পদস্থ কর্মীদের দায়িত্ব থেকে সড়িয়ে  দেওয়া হবে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
এদিন ভদ্রেশ্বর থানার ওসি কে পুলিশ লাইনে ক্লোজ করার সঙ্গে সঙ্গে বেশ কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করেছে তৃণমূলের একাংশ।চেয়ারম্যান খুনের ঘটনায় বিরোধীদের সুরেই ভদ্রেশ্বর থানার ওসি অনুদ্যুতি মজুমদারের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শাসক দলের নেতা কর্মীরা।তাদের কথায় কমিশনার পীযুশ পান্ডে কে বদলের আগে ওসি কে বদল করা হলে তদন্তে অনেক গতি আসত।মনোজ খুনের ঘটনায়। বিজেপির জেলা নেতৃত্ব ওসির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ করে বলে চাপদানী ভদ্রেশ্বর এলাকায় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে আতাত রয়েছে।সেই কারনেই চেয়ারম্যান কে খুন করার পরেও মূল অভিযুক্তরা কেউ ধরা পড়েনি।

চন্দননগর কেন্দ্রীয় জগদ্ধাত্রী পুজো কমিটি মনোজ উপাধ্যায়ের স্মৃতিতে জ্যোতির মোড় থেকে ভদ্রেশ্বর গেট বজার পর্যন্ত মোমবাতি মিছিল করে।

পুলিশের ভূমিকায় অসন্তুষ্ট হয়েই মনোজের মৃতদেহ সৎকারের সময়ে পুলিশ কে ৪৮ ঘন্টা সময় বেধে দিয়ে ছিলেন তৃণমূলের শীর্ষ নেতা ফিরহাদ হাকিম থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।তারপরেও মুন্না ছাড়া বাকিরা ধরা পড়েনি বলেই ধারাবাহিক ভাবে পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে ব্যাবস্থা নেওয়ার পালা চলছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।এদিন ভদ্রেশ্বর পুরসভার ভাইস চেয়ারম্যান প্রলয় চক্রবর্তী বলেন পুলিশের রদবদল নিয়ে আমার কিছু বলার নেই।সেটা পুলিশ প্রশাসনের বিষয়।পুলিশ যেটা ভালো বুঝেছে করছে।কিন্তু চেয়ারম্যান খুনের ঘটনায় এখনও  বাকিরা ধরা পড়েনি এটা খুব যন্ত্রনার। পুলিশের বিরুদ্ধে সরাসরি মুখ না খুললেও মৃত মনোজের দাদা সুনীল উপাধ্যায় বলেন , পুলিশ তদন্তের জন্য বদল হয়েছে।এই নিয়ে আমাদের কিছু বলার নেই।কিন্তু অভিযুক্তরা এখনও  বাইরে বুক ফুলিয়ে ঘুড়ে বেড়াচ্ছে।কেউ আত্মগোপন করে আছে।তারা কবে গ্রেপ্তার হবে তার জন্য অপেক্ষা করে আছি।ভদ্রেশ্বর পুরসভার১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ফিরোজ খান বলেন, পুলিশি ব্যার্থতার কারনেই চেয়ারম্যান খুন হয়েছেন।দেখা যাক, নতুন কমিশনারের উপরে আমাদের আস্থা রয়েছে।তৃণমূল কর্মী তনভির শেখ বলেন, থানা থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বে চেয়ারম্যান খুন হলেন।খুনের পরেই এলাকায় নাকা চেকিং করার প্রয়োজন ছিল।কিন্তু ভদ্রেশ্বর থানার পুলিশ বিষয়টি কে গুরুত্ব দেয়নি বলেই খুন করে দুষ্কৃতীরা অনায়াসে পালিয়েছে।বিজেপির রাজ্য নেতা স্বপন পাল ও জেলা সভাপতি ভাস্কর ভট্টাচার্য্য বলেন ওসি কে আরো আগেই ক্লোজ করা দরকার ছিল।যাই হোক প্রশাসন নিরপেক্ষ হয়ে কাজ করুক সেটা আমরাও চাই।একইসঙ্গে তিনি বলেন ওসির বিরুদ্ধে ও সিবিআই তদন্ত করা উচিত।ওসির সঙ্গে শাসক দলের একাংশ ও দুষ্কৃতীদের যোগ রয়েছে বলেই তদন্ত একচুল এগোয়নি।তৃণমূলের জেলা সভাপতি তপন দাশগুপ্ত বলেন পুলিশ প্রশাসন পরিচ্ছন্ন ভাবে কাজ করছে বলেই রদ বদল ঘটেছে।পুলিশ প্রশাসনের উপরে আমাদের আস্থা রয়েছে।

45total visits,1visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *