জেলে বসে হুমকি তোলাবাজের ,মুড়ি মুড়কির মত বোমা ও গুলি শপিং মলে 

এই সময় হুগলি : একেবারে ফিল্মি  কায়দায় জেলে বসে ফোন করে ব্যবসায়ীর কাছে তোলা চেয়েছিল কুখ্যাত তোলাবাজ ।তোলা দিতে অস্বীকার করায় গভীর রাতে ব্যাবসায়ীর বন্ধ শপিং মলে মুড়ি মুড়কির মতো বোমা গুলি ছুড়ে ব্যবসায়ীকে সমঝে দিল দুষ্কৃতীরা।রবিবার গভীর রাতে ঘটনাটি ঘটেছে চুঁচুড়া থানার ব্যান্ডেল মোড়ে।রাত বিরেতে রাস্তার উপড়ে দুষ্কৃতীদের বোমা গুলি নিয়ে দাপাদাপির জেরে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন বাড়ি ফেরতা মানুষ।কোন কিছুর তোয়াক্কা না করে দুষ্কৃতীরা আগ্নেয়াস্ত্র হাতে নিয়েই মোটর সাইকেলে চেপে জি টি রোড ধরে চুঁচুড়ার দিকে চলে যায়।শপিং মলের শাটার বন্ধ থাকলেও দুষ্কৃতী দৌড়াত্ম্যে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন মলের ভিতরে থাকা কর্মীরা।ঘটনার দিন রাতেই চুঁচুড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেন ব্যবসায়ী তথা শপিং মলের মালিক।ঘটনার তদন্তে নেমেছে চুঁচুড়া থানার পুলিশ।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে ব্যান্ডেল মোড়ে বেশ কয়েক বছর ধরে শপিং মল চালান ব্যবসায়ী দীননাথ যাদব।প্রায় বছর দশেক আগে ব্যান্ডেল এলাকায় একটি বন্ধ হয়ে যাওয়া অন্নপূর্ণা সিনেমা হল কেনেন ব্যবসায়ী ও তার কয়েকজন বন্ধু।তারপর সিনেমা হল ভেঙে দেওয়া হয়।এরপর থেকে জমি ফাকা পড়ে ছিল।সম্প্রতি ওই জমিতে বহুতল নির্মানের পক্রিয়া শুরু করে দীননাথ ও তার বন্ধুরা।তারপরেই হুগলি জেল থেকে চুঁচুড়া  রবীন্দ্রনগরের এক দুষ্কৃতী ফোন করে তোলা চায়।ব্যাবসায়ী দুষ্কৃতীকে তোলা দিতে অস্বীকার করায় তাকে প্রাণ নাশের হুমকি দেয় ওই দুষ্কৃতী।একাধিকবার ফোন করে টাকা চাওয়ার পরেও দুষ্কৃতী টাকা না পেয়ে তার শাগরেদদের দিয়ে গুলি বোমা ছুড়ে ব্যবসায়ী কে চমকায়।এদিন শপিং মলের মালিক দীননাথ যাদব বলেন আমরা দশ জন ব্যবসায়ী বন্ধু মিলে একটা বন্ধ সিনেমা হল কিনে ছিলাম।সেই জমিটা অনেকদিন ধরে পড়ে ছিল।চলতি মাসে সেখানে একটি নির্মানের কাজ শুরু হয়েছে।সেখানে কাজ শুরু হতেই ২৩ তারিখ বৃহস্পতিবার রাতে আমি আমার মলে বসে ছিলাম।ওই সময়ে দুজন অঞ্জাত পরিচয় যুবক আমার দোকানে ঢুকে পড়ে।তারপরেই আমার দিকে একটি মোবাইল ফোন এগিয়ে দিয়ে বলে নে কথা বল।আমি কিছু বুঝতে না পেরে মোবাইলে হ্যালো বলতেই আমাকে বলা হয় জমিতে কাজ শুরু হয়ে গেল।আমার ভাগের টাকা কোথায়? আমি প্রথমটায় কিছু বুঝতে না পেড়ে বললাম কিসের টাকা? তখন ফোনের ওপ্রান্ত থেকে আমাকে হুমকি দিয়ে বলা হয় তোলা না দিলে আমাকে দেখে নেওয়া হবে।এরপরে দুষ্কৃতীরা সেখান থেকে চম্পট দেয়।আমি প্রথমে বিষয়টি গুরুত্ব দিই নি।কিন্তু তারপরে শুক্রবার ও শনিবার আমার মোবাইলে তোলা চেয়ে একাধিক নম্বর থেকে ফোন করে দুষ্কৃতী।রবিবার রাতে শপিং মল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরে রাত বারোটা নাগাদ দোকানের শাটারে গুলি বোমা ছোড়ে দুষ্কৃতীরা।রাত সাড়ে বারোটা নাগাদ আমার ফোনে ফের ফোন করে দুষ্কৃতী জানায় তোকে আমার ক্ষমতা দেখালাম।এরপরে তোর মাথা লক্ষ করে আমার ছেলেরা গুলি করবে।তোর শরীর লক্ষ করে বোমা মারবে।দেখি তোকে কে বাচায়।ব্যবসায়ী দীননাথ যাদব বলেন আমি খুবই ভীত সন্ত্রস্ত্র।আমি পুলিশ কে সব জানিয়েছি।জানিনা কি হবে।কেউ ধরা পড়েনি।বছর কয়েক আগে ব্যান্ডেল মোড়ে দুষ্কৃতী দৌড়াত্ম্যে অতিষ্ঠ হয়ে মঞ্চ বেধে প্রতিবাদ সভা করে ছিলেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা।ওই মঞ্চে দাঁড়িয়ে দুষ্কৃতীদের পিটিয়ে মারার নিদান দিয়ে ছিলেন চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদার।দুষ্কৃতীদের দৌড়াত্ম্য নিয়ে বিধায়ক বলেন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে কথা হয়েছে।আমরা রাজনৈতিক ভাবে দুষ্কৃতীদের মোকাবিলা করা হবে।চুঁচুড়া  থানার তদন্তকারী  অফিসার বলেন দুষ্কৃতী দৌড়াত্ম্য নিয়ে এক ব্যবসায়ী অভিযোগ জানিয়েছেন।কয়েকজন দুষ্কৃতীকে আটক করা হয়েছে।ঘটনার তদন্ত চলছে।

92total visits,1visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *