” HOOGLY ” লেখা ট্রাকসুট – ই কাল হল মনোজ খুনে অভিযুক্তদের 

 খবর এইসময় ,হুগলি :  ভদ্রেশ্বরের চেয়ারম্যান মনোজ উপাধ্যায় কে খুন করে বিহারের পাটনার পরে বেনারসের লোকনাথ লজে দিব্যি আত্মগোপন করে ছিল রাজু, রতন,রাজেশ,আকাশেরা। সোমবার সকালেই খুনে অভিযুক্তরা বেনারসের ওই লজে পৌছায়।সেখানে বেশ কিছুক্ষন জিরিয়ে নিয়ে বিকেলের দিকে লজের ঘরে বসেই মদ্যপানের আসর বসায় দুষ্কৃতীরা।সন্ধ্যের দিকে মদ শেষ হয়ে গেলে লজের বাইরে  মদ কিনতে বেরয় রাজু।ছিপছিপে গড়নের রাজুর পরনে ছিল আপার লোয়ার ট্রকস্যুট।আপার ট্রাকসুটের পিছনে ইংরেজী হরফে হুগলি লেখা ছিল।সেটা দেখেই পুলিশের লোকজনের সন্দেহ হয়।পুলিশের কাছে থাকা রাজুর ছবি মিলিয়ে দেখেই পুলিশ নিশ্চিত হয় চেয়ারম্যান খুনে অভিযুক্তরা লোকনাথ লজে আশ্রয় নিয়েছে।তারপরেই চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ উত্তর প্রদেশের পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও উত্তরপ্রদেশ পুলিশের সাহায্য নিয়ে লজটি কে বাইরে থেকে ও ভিতর থেকে ঘিরে ফেলে।এরপরে হাউসকিপিংয়ের নাম করে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের ঘরের বেল বাজায়।দরজা খুলতেই পুলিশ বামাল দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার করে।পুলিশের খপ্পরে পড়ে রাজু রতনেরা ভিজে বেড়ালের মতো নেতিয়ে পড়ে।পুলিশি জেরায় রাজু রতন স্বীকার করে নেয় তারাই দলবদ্ধ হয়ে ভদ্রেশ্বরের চেয়ারম্যান মনোজ উপাধ্যায় কে খুন করেছে।দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের সময়ে বেনারসের ওই এলাকার লজের মালিকেরা হকচকিয়ে  যায়।তবে উত্তরপ্রদেশের পুলিশ ও ক্রাইম ব্রাঞ্চ দক্ষতার সঙ্গে পরিস্থিতি সামাল দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পুলিশের এক শীর্ষ কর্তা বলেন ঘটনার দিন রাতে অভিযুক্তরা মনোজ উপাধ্যায় কে খুন করে সড়ক পথেই গাড়ি নিয়ে বিহারের পাটনা চলে যায়।দুষ্কৃতীদের ফোনের আই এম ই নম্বর দেখে তাদের হদিস মেলে।কিন্তু দুষ্কৃতীরা একাধিক নম্বর থেকে দু একটা কথা বলেই ফোন বন্ধ করে রাখছিল।ভিনরাজ্যে দুষ্কৃতীরা পালিয়ে যেতেই ডিসিপি সুমিত কুমার ও এডিসিপি অতুল ভেঙ্কটের নেতৃত্বে চন্দননগর পুলিশ কমিশনারেটের একটি দল রেলপথে বিহারের পথে রওনা দেয়।কিন্তু পাটনায় পৌছে দুষ্কৃতীরা দুদিন থাকার পরে উত্তর প্রদেশের স্থানীয় দুষ্কৃতীদের সঙ্গে যোগাযোগ করে রাজু ও রতন।এরপরে তাদের সাহায্যে বেনারসের লোকনাথ লজে রাজু রতন সহ বাকি দুষ্কৃতীরা আশ্রয় নেয়।মোবাইলের সূত্র ধরে সোমবার দুপুরে বেনারসে পৌছায় চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ।বেনারসে পুলিশ জাল বিছিয়ে ওত পেতে বসে থাকলেও পুলিশ নিশ্চিত ছিল না কোন হোটেলে বা লজে দুষ্কৃতীরা লুকিয়েছে।কিন্তু হুগলি লেখা ট্রাকসুট পরে রাজু লজের বাইরে মদ কিনতে বেড়তেই পুলিশ তাকে শনাক্ত করে।এরপরে উত্তর প্রদেশের পুলিশের সাহায্যে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
মনোজ খুনে মূল অভিযুক্ত রাজু, রতন,আকাশ সহ সাত জন গ্রেপ্তার হলেও এখনো পর্যন্ত প্রভু চৌধুরী,বাবান যাদব ও নির্দল কাউন্সিলর রাজু সাউ গ্রেপ্তার হয়নি।বাকি সমস্ত অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের দাবী জানিয়েছেন মনোজের দাদা সুনীল উপাধ্যায়।একইসঙ্গে তিনি বলেন দুষ্কৃতীরা ধরা পড়লেই হবে না।তাদের ফাসি চাই।এদিন চন্দননগর কমিশনারেটের কমিশনার অজয় কুমার বলেন মনোজ উপাধ্যায় খুনের ঘটনায় রাজু চৌধুরী,রতন চৌধুরী,আকাশ চৌধুরী,রাজেশ চৌধুরী,কৃষ্ণা চৌধুরী,সন্তোষ যাদব ও দেবু পাকড়ে কে গ্রেপ্তার করে চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ।এফ আই আরে নাম থাকা কয়েক জন এখনো ফেরার।নির্দল কাউসিলর রাজু সাউয়ের খোজ চলছে। দুষ্কৃতীদের ধরতে সাহাজ্য করেছে সি আই ডি,উত্তর প্রদেশ ক্রাইম ব্রাঞ্চ,উত্তর প্রদেশ পুলিশ,রেল পুলিশ।ডিসিপি সুমিত কুমার ও এডিসিপি অতুল ভেঙ্কট সেখানে রয়েছেন।ধৃতদের এদিন বারানসি কোর্টে তোলা হবে।বুধবার তাদের ট্রানজিট রিমান্ডে আনা হবে।জিঞ্জাসাবাদের পরে খুনের আসল কারন জানা সম্ভব হবে।

208total visits,1visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *