শহর কে  দূষণ মুক্ত করতে গিয়েই মৃত্যু মনোজের ,অনুমান পুলিশের 

 খবর এইসময় ,হুগলি : ভদ্রেশ্বরের তৃণমূল কাউন্সিলর মনোজ উপাধ্যায় খুনের ঘটনায় আগেই নাম জড়িয়ে ছিল পুরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের নির্দল কাউন্সিলর রাজু সাউয়ের।কিন্তু মনোজ খুনে অভিযুক্তরা বেনারসের লজ থেকে গ্রেপ্তারের পরেই পুলিশ এক প্রকার নিশ্চিত হয়েছে খুনের ঘটনায় প্রত্যক্ষ যোগ রয়েছে। মঙ্গলবার বারানসী আদালত থেকে খুনের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত দুই ভাই রাজু চৌধুরী ও রতন চৌধুরী সহ মোট সাত জন কে তিন দিনের ট্রানজিট রিমান্ডে নেয় চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ।বুধবার দুপুর আড়াইটা নাগাদ ধৃতদের চুঁচুড়া  থানায় আনা হয়।সেখানে ছিলেন এসিডিপি ও ডিসিপি অতুল ভেঙ্কট ও সুমিত কুমার।পুলিশ সূত্রে খবর ধৃতরা পুলিশের জালে ধরা পড়ার পড়ে প্রাথমিক জেরায় জানিয়েছে মনোজ খুনের দিন নির্দল কাউন্সিলর রাজু সাউ তাদের সঙ্গে ছিল।যদিও খুনের পরে মনোজের সঙ্গী রমেশ দুবে ওরফে চিন্টু পুলিশ কে জানিয়ে ছিল নির্দল কাউন্সিলর রাজু সাউ খুনের সময়ে দুষ্কৃতীদের সঙ্গে ছিল।চিন্টুর কথার উপরে ভিত্তি করেই মৃত মনোজের দাদা অনিল উপাধ্যায় নির্দল কাউন্সিলর ছাড়া রাজু ও রতন সহ মোট সাত জনের নামে এফ আই আর করে।খুনের পরে পুলিশ মুন্না রায় নামে একজন কে গেপ্তার করে পুলিশ হেপাজতে নেয়।এরপরে পুলিশ কাউকে গ্রেপ্তার করতে না পারায় পুলিশের উপড়ে চাপ বাড়তে থাকে।তদন্তে ঢিলেমির ঘটনায় সাসপেন্ড করা  হয় ভদ্রেশ্বর তেলেনিপাড়া ফাঁড়ির সাব ইনস্পেকটর প্রদীপ দাস।তারপরেই অপসারিত হন চন্দননগর কমিশনারেটের কমিশনার পীযুশ পান্ডে।এরপরে ফের ভদ্রেশ্বর থানার ও সি অনুদ্যুতি কে চুঁচুড়া পুলিশ লাইনে ক্লোজ করা হয়।একেরপর এক পুলিশ কর্মীর উপরে শাস্তির খাড়া নামানো হয়।তাতেও শাসক দলের চেয়ারম্যান খুনে তদন্ত একচুল না এগোনোয় তরন্তভার দেওয়া হয় সি আই ডির হাতে।কিন্তু সি আই ডি তদন্তভার পুরোপুরি বুঝে নেওয়ার আগে চন্দননগর কমিসনারেটের নতুন পুলিশ কমিশনার অজয় কুমারের নির্দেশে পুলিশের দুটি দল বিহারের পাটনা ও উত্তরপ্রদেশে পাড়ি দিয়ে দুষ্কৃতীদের বামাল গ্রেপ্তার করে।যদিও এদিন চন্দননগর কমিশনারেটের পুলিশ কমিশনার অজয় কুমার বলেন ভদ্রেশ্বরের চেয়ারম্যান মনোজ উপাধ্যায় খুনের ঘটনায় বেনারস থেকে সাত দুষ্কৃতীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।ধৃতদের মধ্যে চারজনের নাম এফ আই আরে ছিল।এখনো নির্দল কাউন্সিলর রাজু সাউ,বাবান যাদব ও প্রভু চৌধুরী কে গ্রেপ্তার করা যায়নি।তাদের সন্ধানে পুলিশ খোজ চালাচ্ছে।তবে এদিন সময় পেড়িয়ে যাওয়ার কারনে ধৃতদের আদালতে তোলা যায়নি।বৃহস্পতিবার তাদের চন্দননগর আদালতে তোলা হবে।অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগেও অপরাধ মূলক কাজের অভিযোগ রয়েছে।যেহেতু জিঞ্জাসাবাদ করা যায়নি তাই এখনো পর্যন্ত খুনের কারন জানা যায়নি।তবে খুনের ঘটনায় আরো কেউ যুক্ত আছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে ২৩ তারিখে ডিসিপি সুমিত কুমারের নেতৃত্বে চন্দননগর কমিশনারেটের পাচ জনের একটি দল বিহারের পাটনায় রওনা দেয়।ফের ২৪ তারিখে এডিসিপি অতুল ভেঙ্কটের নেতৃত্বে তিন জনের একটি দল উত্তর প্রদেশ পৌঁছায়। সেখানে দুষ্কৃতীদের মোবাইল ট্রাক করে উত্তরপ্রাদেশের ক্রাইম ব্রাঞ্চ ও উত্তর প্রদেশ পুলিশের সাহাজ্য  নিয়ে অভিযুক্তদের লজ থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।তবে পুলিশের একটি সূত্রে জানা গিয়েছে অভিযুক্ত দুষ্কৃতীদের সঙ্গে কয়েকজন নীচু তলার পুলিশ কর্মীর ঘনিষ্ঠতা ছিল।এমনকি মনোজ খুনের পরেও দুষ্কৃতীদের সঙ্গে নীচু পুলিশ যোগের সন্ধান পান পুলিশের উপরতলার কর্তারা।তাদের বিরুদ্ধে পুলিশের বড় কর্তারা আইনগত ব্যাবস্থা নেবেন বলে খবর।পুলিশ জানিয়েছে ভদ্রেশ্বরে খাটাল সড়িয়ে শহর কে দূষণ মুক্ত করবেন।শহরে প্রায় আড়াইশো খাটাল আছে।এই নিয়ে নির্দল কাউন্সিলর রাজু সাউয়ের সঙ্গে মনোজের মতপার্থক্য হয়।রাজু খাটাল মালিকদের উস্কানী দিয়ে উন্নয়নে বাধা সৃষ্টি করে।এছাড়া এলাকায় প্রমোটারি রাজ সহ পুরসভায় ঠিকাদারি রাজ বন্ধ করে ই টেন্ডারে কাজ করাচ্ছিলেন মনোজ।একইসঙ্গে ভদ্রেশ্বর এলাকায় রাজু রতনের তোলাবাজি ও মদের  ঠেক বন্ধ করে দেন।সব মিলিয়েই দুষ্কৃতী থেকে অসাধু প্রমোটার ও ব্যবসায়ীদের বিষ নজরে পড়েন তিনি।তাতেই তাকে খুন হতে হয়।তবে এর পিছনে সুপারি কিলার থাকার সম্ববনা উড়িয়ে দিচ্ছে না পুলিশ।এদিন অভিযুক্তদের চন্দননগর আদালতে তোলা হবে এই খবর চাউর হতেই ভদ্রেশ্বরের কয়েকশ বাসিন্দা আদালত চত্বরে জমা হয়।ধৃতদের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে।বিক্ষোভকারীরা দাবী করতে থাকে অভিযুক্তদের তাদের হাতে তুলে দিলেই তারা তাদের উচিত শিক্ষা দেবেন।পুলিশের কাছে সেই খবর পৌছাতেই পুলিশ ধৃতদের ভদ্রেশ্বরের পরিবর্তে চুঁচুড়া থানায় নিয়ে আসে।

268total visits,2visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *