শ্বশুর বাড়ির অজান্তেই পুলিশের চাকরিতে যোগ দিলেন বিউটি মালিক 

                   

 প্রণব বিশ্বাস,মধ্যমগ্রাম :  পুলিশ স্বামীর মৃত্যুর পর চাকরি পাওয়াটা তার কাছে এটা স্রেফ অধিকারের চাকরি।কিন্তু তার লক্ষ সরাসরি পরিক্ষা দিয়ে পুলিশের সাব ইন্সপেক্টর হওয়া।তার আসল লক্ষ অমিতাভর ইউনিফর্ম পড়া।মঙ্গলবার বিকেলে উত্তর চব্বিশ পরগনার পুলিশ সুপারের অফিসে পুলিশের চাকরিতে জয়েন করে একথা জানান দার্জিলিংয়ে নিহত পুলিশ অফিসার অমিতাভ মালিকের স্ত্রী বিউটি মালিক।
মঙ্গলবার সকালেই জেলা পুলিশ সুপারের অফিস থেকে ফোন যায় বিউটি মালিকের কাছে।পুলিশের চাকরিতে যোগ দেওয়ার বিষয়ে।ফোন পেয়েই বারাসতের বাপের বাড়ি থেকে কমলা রঙ্গের চুড়িদার পড়ে দুপুর একটা নাগাদ বিউটি দেখা করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের অফিসে।কিছুক্ষন কথাও হয়।কথার ফাঁকে ফাঁকে হাতে থাকা মোবাইল ঘাটছিলেন বিউটি। মোবাইল স্ক্রীনে  এখনও রয়েছে স্বামী অমিতাভ মালিকের ছবি।পুরোনো কিছু স্মৃতি হয়তো মনে পরে যাচ্ছিল তার।পুলিশ সুপার না থাকায় ফের তাকে বিকেল তিনটের সময় আসতে বললেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎব্যানার্জি । কিছুক্ষণ থাকার পরেই বাবার  সাথে বারাসত  ফিরে যান বিউটি  ।   ফের  পুলিশ সুপার সি সুধাকর অফিসে আসার কিছুক্ষন পরে বিকেল সাড়ে তিনটের সময় বাবাকে নিয়ে বিউটি এসেছিলেন নিয়োগ পত্র হাতে নিতে।

পুলিশ সুপারের অফিসের নীচে দাঁড়িয়ে সদ্য পুলিশে যোগ দেওয়া বিউটি মালিক বলেন, ”দপ্তর গত ভাবে একজন এস আই হতে হয়তো অনেকটা সময় লেগে যাবে।২০১৮ সালে সরাসরি তিনি এস আই পদের পরিক্ষায় বসতে চান।অমিতাভ যে জায়গাটা বাকী রেখে গেছে,ওর স্ত্রী হিসেবে সেটাইই পুরন করতে চাই। অবশ্যই অমিতাভর ইউনিফর্ম পরে।যত দিন আমি পুলিশের ইউনিফর্ম পড়ছি ততদিন রাজ্য পুলিশে যোগ দিয়েও সেই জায়গাটা ছুতে পারব না।অমিতাভর স্বপ্ন পুরন করাই আমার এক মাত্র লক্ষ ।”  বিউটি ইতিমধ্যেই বেলঘড়িয়ার একটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ডব্লিউ বিসিএস পরিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
                                                                       বিউটি এদিন সপ্রতিভ ভাবেই জানান, অমিতাভর মৃত্যুর পর যত রকমের সাহায্য পাওয়া দরকার,সবটাই আমরা পেয়েছি।আমার চাকরির প্রসেসটা একটু আগে শুরু হয়েছে বলেই এদিন আমি জয়েন করতে পেরেছি।আমার শ্বশুর মশাইকেও সরকার থেকে চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।কিন্তু শ্বশুর মশাই আমার দেওরের চাকরির জন্য ইতিমধ্যেই শিক্ষামন্ত্রীর কাছে আবেদন করেছেন।
  বিউটি মালিক এসআই হয়ে দার্জিলিংয়ে গিয়ে অমিতাভর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে চান।বিমল গুরুংয়ের শাস্তির দাবী তিনি আগেই করেছিলেন।পুলিশের লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক পদে যোগ দিয়ে ফের সেই দাবীই করলেন বিউটি। রাজ্যবাসীও চায় বিমল গুরুংয়ের শাস্তি হোক।আমরা ন্যায় বিচার পাই। 

অন্যদিকে ,মধ্যমগ্রামের বাড়িতে বসেই সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে পুত্রবধূর চাকরিতে যোগ দেওয়ার বিষয়টি প্রথম জানতে পেরেছেন অমিতাভ মালিকের মা গঙ্গা মালিক এবং বাবা সৌমেন মালিক।তিনি বলেন বৌমা আমাদের কিছুই জানায় নি।আমরা পুরোটাই অন্ধকারে।ছেলের মৃত্যুর কয়েকদিন পর বিউটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল চাকরীতে জয়েন করার আগে সিংহাসনে রাখা অমিতাভর ছবিতে প্রনাম এবং আমাদের দুইজনকে প্রনাম করে তবে চাকরিতে যাবে।কিন্তু সে যে মঙ্গলবারেই চাকরিতে যোগ দেবে সেটা তো কয়েকদিন আগেই ঠিক হয়ে গেলেও আমার বাড়িতে বৌমা এসে জানায় নি।বৌমা গত ২৫ অক্টোবর দার্জিলিং গিয়ে ছেলের ডেথ সারটিফিকেট নিয়ে এসেছে।অথচ মঙ্গলবার দুপুরে আমার ছোট ছেলেকে চৌমাথায় ডেকে ডেথ সারটিফিকেট দিয়েছে।তবে ওটা জেরক্স না আসল সেটা এখনও জানিনা।চৌমাথায় এলেও বিউটি একবারের জন্য আমার ছোটো ছেলের কাছেও জানায়নি এদিনই সে চাকরিতে যোগ দিচ্ছে।সৌমেন বলেন এরপরেও বলব বিউটি ভালো থাক।কারন সেই তো আমার পুত্রবধু।তিনি বলেন আমি মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথিন ঘোষের মাধ্যমে আমার পরিবর্তে ছোট ছেলের চাকরির আবেদন জানিয়েছি সরকারের কাছে।মধ্যমগ্রামের বিধায়ক রথীন ঘোষ বলেন সৌমেন মালিক তার ছোট ছেলের চাকরির জন্য আবেদন পত্র আমাকে দিয়েছেন।সেই আবেদন আমি শিক্ষামন্ত্রীর কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি। 
 পুলিশ সুত্রে জানা গেছে অক্টোবর মাসের শেষের দিকে পুলিশ অমিতাভর স্ত্রীর  চাকরির জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র  সই করিয়ে নিয়ে গেছে। চাকরিতে যোগ দেওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় পক্রিয়া সারা হয়েছে তখনই। জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অভিজিৎ ব্যানার্জি   জানান এদিন বিউটি মালিক পুলিস সুপারের দপ্তরেই লোয়ার ডিভিশন ক্লার্ক পদে চাকরীতে যোগ দিলেন।
অমিতাভর মা গঙ্গা মালিক বলেন যা ক্ষতি হওয়ার সবটাই আমাদের হয়েছে।তিনি এখন চান ১৩ অক্টোবর যারা তার ছেলেকে গুলি করে মারলো তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি। 

178total visits,1visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *