পনেরো দিনেও জল পেল না প্রাথমিক স্কুলের পড়ুয়ারা 

খবর এইসময় ,আরামবাগ ,৩০শে জানুয়ারি : গ্রামের প্রাইমারী স্কুলে নেই কোন জলের কল।নেই ছোট ছোট কচিকাচা দের বাথরুম ঘর বা শৌচাগার।এমন কি স্কুলে যাবার জন্য নেই কোন সরকারী রাস্তা। জমির আল দিয়ে হেঁটেই যেতে হয় এইসব কচি কাচা দের।বর্ষাকালে প্রায় দিনই শিশু দের স্কুল কামাই হয়ে যায়। কাদা জলে তারা স্কুলে পৌঁছাতেই পারে না। পাণীয় জলের কল,রাস্তা, বাথরুম বা শৌচাগারের দাবি বারে বারে করেছিলেন অভিভাবক অভিভাবিকারা। কিন্তু নিট ফল শূণ্য ছাড়া কিছুই হয় নি।তাই এই দাবিতে কয়েকদিন আগে  প্রায় ঘন্টা দুয়েক স্কুলের প্রধান শিক্ষক কে তার অফিস রুমেই ঘেরাও করে বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন স্থানীয় অভিভাবক অভিভাবিকারা। ঘটনা খানাকুলের পোল গ্রামের। এখানকার হাজি মহঃমহসীন প্রাথমিক স্কুলের প্রধান শিক্ষককে তারা বিক্ষোভ দেখান। বিক্ষোভ চলা কালীন প্রধান শিক্ষকের সাথে ক্ষুব্ধ অভিভাবক  অভিভাবিকা দের রীতি মত বাক বিতন্ডা, তর্ক বিতর্ক শুরু হয়ে যায়।বিক্ষোভ চলা কালীন স্কুলের পঠন পাঠনও বন্ধ থাকে।তবে ঘন্টা দুয়েক পর প্রধান শিক্ষক ক্ষিপ্ত অভিভাবক অভিভাবিকা দের দাবি মেনে নিয়ে যথা শীঘ্র সম্ভব সমাধান করার আশ্বাস দেন। প্রধান শিক্ষকের আশ্বাস পেয়ে তারা এদিনের মত ঘেরাও অভিযান তুলে নিয়েছিলেন।তবে এই সমস্যার সমাধান না হলে আরোও বড় সড় পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে হুমকিও দেন ক্ষুব্ধ অভিভাবক অবিভাবিকারা।কিন্তু এর পর প্রায় দিন পনের অতিবাহিত হয়ে গেছে।কাজের কাজ কিছুই হয় নি। 

প্রধান শিক্ষককে ঘিরে  চলছে অভিযোগ ।


 

এলাকায় গিয়ে দেখা গেল সত্যি অবস্থা খুবই করুণ।

গ্রামের মোরাম রাস্তা ধরে প্রায় শেষ প্রান্তে অবস্থিত এই প্রাইমারী স্কুল। মোরাম রাস্তার শেষে একটি মাটির রাস্তা দিয়ে গিয়ে জমি।  তার ঠিক পাশেই একটি পুকুর। সেই পুকুর পারেই এই স্কুল।

খানাকুলের পোল হাজিমহঃ মহসীন বিদ্যালয় টি স্থাপিত হয়েছিল গত ২০১৪ সালে। তিন জন শিক্ষক শিক্ষিকা ও সর্ব সাকুল্যে ৬৫–৭০ জনের মত ছাত্র ছাত্রী নিয়ে চলছে স্কুলটি। 

বিক্ষোভ রত  অভিভাবক বরকত তুল্লা,সেখ আলিরা বলেন, আপনারা নিজের চোখে দেখে যান আমরা কেন বিক্ষোভ করছি। আমাদের দাবিটা সত্যিই না কি মিথ্যা।  কি অবস্থায় বাচ্ছারা ক্লাস করে দেখুন।  অস্বাস্থ্য কর পরিবেশের মধ্যে স্কুল চলছে। এটা মানা যায় না। প্রধান শিক্ষক কোন ব্যবস্থা নেন নি।

অন্যদিকে, স্কুলের প্রধান শিক্ষক সেখ সাহা বুদ্দিন বলেন,আমি ডেভেলপমেন্টে কোন টাকা পাইনা। তাহলে আমি কোথা থেকে এইসব উন্নয়ন করব। আমি বিডিও কে বার বার বলেছি।উনি কোন কর্ণ পাতই করেন নি। আমি আবারও বলব,আবেদন করব।অভিভাবক রা যে এসেছিলেন,তারা যে ক্ষুব্ধ এবং তাদের এই বিক্ষোভের কথাও জানাব বিডিওকে।
খানাকুল ১ নং বিডিও অমর বিশ্বাস বলেন, ঐ স্কুলের প্রধান শিক্ষক এসে ছিলেন। একটা টিউব ওয়েলর জন্য আবেদন করেছেন। ঐ কাজের ওয়ার্ক অর্ডার হয়ে গেছে।খুব শীঘ্রই কাজ হয়ে যাবে।বাকি টা আমি খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেব।কিন্তু এখনও পর্যন্ত কোন উন্নয়ন হয়নি।বসেনি জলের কলও।যে অবস্থায় স্কুল চলছিল সেই অবস্থাতেই আছে আজও। আবেদন করে ক্লান্ত সকলেই। কাজের কাজ কিছুই হয়নি।

197total visits,2visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *