জাতীয় সেরা মৌপ্রিয়া আত্মঘাতী 

খবর এইসময়,নিজস্ব প্রতিনিধি , হুগলিঃ  গলায় ওড়নার ফাঁস লাগিয়ে জাতীয় স্তরের এক সাঁতারুর আত্মহত্যার ঘটনায় আলোড়ন ছড়াল।সোমবার সকালে ঘটনাটি ঘটেছে চুঁচুড়া থানার ব্যান্ডেলের সাহেব বাগানে।পুলিশ জানিয়েছে মৃতের নাম মৌপ্রিয়া মিত্র(১৬)।সে হুগলি গার্লস হাই স্কুলের দশম শ্রেণীর ছাত্রী ছিল।একইসঙ্গে সে একজন জাতীয় স্তরের সাতারু।এদিন তার বন্ধ ঘরের দরজা ভেঙে পুলিশ তার ঝুলন্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে।প্রতিভাময়ী সাঁতারুর আত্মহত্যার ঘটনায় ক্রীড়া মহলে বিষ্ময় ও শোকের ছায়া নেমেছে।পুলিশ মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য চুঁচুড়া ইয়ামবাড়া হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, এদিন সকালে বাবার সঙ্গে সাঁতারের প্রশিক্ষনের জন্য চুঁচুড়া জেলা শাসকের ভবন সংলগ্ন চুঁচুড়া সুইমিং ক্লাবে যায় মৌপ্রিয়া।সেখানে ঘন্টা দুয়েক প্রশিক্ষনের পরে সাড়ে দশটা নাগাদ মিষ্টির দোকান থেকে মিষ্টি কিনে সাহেব বাগানের বাড়িতে ফেরে সাতারু।ওই সময় বাবা ভাস্কর মিত্র তার সঙ্গেই ছিলেন।তিনি ব্যান্ডেলে একটি ট্রাভেল এজেন্সির ব্যবসা করেন।মা শুভ্রা গৃহবধূ।এদিন মেয়েকে সাঁতারের প্রশিক্ষনের পরে বাড়িতে রেখে ব্যবসার কাজে বেড়িয়ে যান ভাস্কর।ওই সময়ে রান্না ঘরে ছিলেন শুভ্রা।স্নান সেরে নিজের ঘরেই দরজা বন্ধ করে বিশ্রান নিচ্ছিল মৌপ্রিয়া।বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ মেয়ে কে খাওয়ার জন্য ডাকেন শুভ্রা।অনেক ডাকাডাকির পরে মেয়ের সারাশব্দ না পেয়ে তিনি বিপদের আঁচ পান।এরপরেই স্থানীয় প্রতিবেশীদের ডাক দেন।প্রতিবেশীরা বন্ধ ঘরের জানালা দিয়ে দেখে ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ওড়না জড়িয়ে আত্মহত্যা করেছে।এরপর চুঁচুড়া থানার পুলিশ এসে দরজা ভেঙে মৃতদেহ উদ্ধার করে।এদিন প্রতিভাময়ী সাঁতারুর আত্মহত্যার ঘটনায় পড়শিরা হত চকিত হয়ে পড়েন।মৌপ্রিয়ার স্থানীয় প্রশিক্ষক সুখেন্দু দাস বলেন জানিনা কি করে এই ঘটনা ঘটল।আমি এখনো এটা বিশ্বাস করতে পাড়ছিনা মৌপ্রিয়া আর নেই।তিনি বলেন দেশ একজন প্রথম শ্রেণীর ডাইভার হারাল।মৌপ্রিয়া ছিল ভবিষ্যতের এক বড় মাপের সাতারু।প্রকৃত চ্যাম্পিয়ানের যা যা প্রয়োজন সব প্রতিভাই ওর ছিল।২০১৬ সালে জাতীয় স্তরে দুটো সোনা ও একটি রুপো পেয়েছিল।এশিয়া প্যাসিফিক চ্যাম্পিয়ানশিপে সুযোগ পেয়ে শ্রীলঙ্কায় যায়।সেখানে গিয়েও সোনা ও রুপো পায়।সামনের মাসেই পুনেতে যাওয়ার কথা ছিল।আমরা মৌপ্রিয়া কে নিয়ে স্বপ্ন দেখতাম ও একদিন অলিম্পিকে সোনা জিতে দেশের মুখ উজ্জ্বল করবে।কিন্তু এক ঝটকায় সব শেষ হয়ে গেল।বাবা ভাস্কর মিত্র বলেন ও খুব সেন্টিমেন্টাল ছিল।আমাদের সঙ্গে ওর কিছু হয়নি।পারিপাশ্বিক কোন ঘটনা ঘটেছে কিনা আমার জানা নেই।কেন এমন হল বুঝতে পাড়ছি না।কমিশনারেটের এক পুলিশ কর্তা বলেন প্রাথমিক অনুমান প্রেম প্রনয় ঘটিত কারনে ওই সাঁতারু আত্মঘাতী হয়ে থাকতে পারে।সবদিক খোলা রেখেই তদন্ত চলছে।