শতবর্ষের চার কদম আগে কলকাতায় অমরত্ব ব্রাহ্মণবেড়িয়ার অমর পালের

 

মদনমোহন সামন্ত,কলকাতা, ২০শে এপ্রিল:শতবর্ষের মাত্র চার বছর আগে খাঁচার ভিতর থেকে অচিন পাখি উড়ে গেল বাংলা সঙ্গীতের অন্য ধারার প্রভাতী এবং ভাটিয়ালি লোকসংগীত শিল্পী তদানীন্তন ব্রিটিশ ভারতের অবিভক্ত বেঙ্গল প্রেসিডেন্সির অধুনা বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবেড়িয়াতে ১৯২২ সালের ১৯ মে জন্মগ্রহণ করে কলকাতা উজিয়ে আসা অমর পালের। ‘রাই জাগো রাই জাগো’, ‘প্রভাত সময়কালে শচীর আঙিনা মাঝে’, ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’, চিকন গোয়ালিনী, ‘হরিনাম দিয়ে জগৎ মাতালে’ , ‘খাঁচার ভিতর অচিন পাখি’ , ‘হরি দিন তো গেল’ গাওয়া বেতারে প্রচারিত গানগুলি আপামর বাঙালি ভুলতে পারবে না কোনওদিন। ২০১২ সালে রাজ্য সরকারের ‘সংগীত মহাসম্মান’, লালন পুরস্কার সংগীত নাটক একাডেমী পুরস্কার সহ বহু পুরস্কার পাওয়া বিপত্নীক শিল্পীর বয়স হয়েছিল ৯৬ বছর। বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় জর্জর অমর পাল শনিবার বিকেল পাঁচটা পঞ্চাশে এসএসকেএম হাসপাতালে অমরতার পথে এগিয়ে যান। হাসপাতাল সূত্রে জানানো হয়েছে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে জীবনগীতি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছে তাঁর। শোকস্তব্ধ মুখমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে এক শোকবার্তায় জানান, ” বিশিষ্ট লোকসঙ্গীত শিল্পী অমর পালের মৃত্যুতে আমি গভীর শোক প্রকাশ করছি। তিনি আজ ৯৬ বছর বয়সে কলকাতায় প্রয়াত হয়েছেন। তাঁর মৃত্যুতে বাংলা লোকসঙ্গীতের জগতে এক অপূরণীয় ক্ষতি হল। তাঁর গাওয়া ‘প্রভাত সময়ে শচীর আঙিনা মাঝে’, ‘ রাই জাগো রাই জাগো’, ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’ -র মতো বহু লোকগান ও অন্যান্য গান আজও শ্রোতাদের স্মৃতিতে অমলিন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার তাঁকে ২০১২ সালে ‘সঙ্গীত মহাসম্মান’-এ ভূষিত করে। আমি শ্রী পালের আত্মীয়পরিজন সহ তাঁর অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।” সত্যজিৎ রায়ের হীরক রাজার দেশে ‘কতই রঙ্গ দেখি দুনিয়ায়’ থেকে বাণিজ্যিক জগতে প্রবেশ করে দেবকী বসু থেকে ঋতুপর্ণ ঘোষ পর্যন্ত প্রথিতযশা পরিচালকদের সঙ্গে কাজ করেছেন। নিমন্ত্রণ, অমৃতকুম্ভের সন্ধানে ছায়াছবিতে কাজ করেছেন। ইনরেকো, হিন্দুস্থান, টি সিরিজ, সা রে গা মা প্রভৃতি কোম্পানি থেকে তার গ্রামোফোন রেকর্ড ও ক্যাসেট বেরিয়েছে । মাত্র দশ বছর বয়সে বাবা মহেশ চন্দ্র পাল’কে হারিয়ে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল অমর মা দুর্গাসুন্দরীর কাছে লোকগানের প্রথম পাঠ নিয়েছিলেন। ১৯৪৮এ কলকাতায় শচীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যর সংস্পর্শে এসে অমর পাল প্রথম লোকগায়ক শিল্পী হিসেবে অল ইন্ডিয়া রেডিওতে ১৯৫২ সালে গান গেয়েছিলেন । সুরেন চক্রবর্তী, মনি চক্রবর্তী, ননীগোপাল বন্দ্যোপাধ্যায়দেরর মত স্বনামধন্য শিল্পীদের থেকে বাংলা লোকগান শিখলেও কিংবদন্তী শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী আয়াত আলি খানের কাছে তালিম নিয়েছিলেন। তাঁর সত্তর বছরের সংগীত জীবনে কয়েক হাজার গান রেখে গিয়েছেন। পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সংগীত একাডেমীর ভাইস চেয়ারম্যান অমর গানের সূত্রে টোকিও, বাংলাদেশ, আমেরিকাতেও গিয়েছিলেন। লিখে রেখে গিয়েছেন ‘বাংলার লোকসংগীত’, ‘বাংলার নদীর গান’এর মত গ্রন্থাবলী।

62total visits,2visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *