সাদার্ন এভিনিউ জে.ইউ. আবাসনে প্রাক্তণ প্রো-ভি সি’র নিথর দেহ মেঝেতে, চাঞ্চল্য

 

 

মদনমোহন সামন্ত, কলকাতা, ১১ই মে :  শনিবার বেলা সাড়ে এগারোটায় গৃহপরিচারিকা পৌঁছেছিলেন ৪০এ (চল্লিশ এ) সাদার্ন এভিনিউয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী আবাসনের দোতলার ফ্ল্যাটে। এসে দেখেন ফ্ল্যাটের প্রবেশদ্বার ভিতর থেকে আটকানো নেই। অবাক হন। দরজা ঠেলে ভিতরে এগিয়ে শয়নকক্ষে ঢুকে হতবাক হয়ে যান তিনি। সাদা চাদরে ঢাকা বিছানায় পাশাপাশি দু’টি সাদা বালিশ।

বিছানার উপর পরিধেয়, ল্যাপটপ, মোবাইল চার্জার, ঔষধের বাক্স এবং টুকিটাকি। বিছানার পাশে দু’পাটি জুতো খাটের তলায়। গৃহকর্তা যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ২০১৪র নভেম্বর থেকে ২০১৮র নভেম্বর পর্যন্ত চার বছর সহ-উপাচার্য হিসাবে দায়িত্বভার পালন করা প্রায় ৫৬ বছর বয়সী অধ্যাপক আশিস স্বরূপ ভার্মা পড়ে রয়েছেন সবুজ মেঝেতে। গৃহপরিচারিকার ডাকে অধ্যাপক ভার্মা কোন সাড়া না দেওয়ায় তিনি উদ্বিগ্ন হয়ে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগাযোগ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্টরা তড়িঘড়ি সেখানে পৌঁছান। তাঁরা দেখেন অধ্যাপক ভার্মা ঊর্ধ্বাঙ্গে নীল টি-শার্ট এবং নিম্নাঙ্গে নীল সাদা চেক হাফপ্যান্ট পরা অবস্থায় সাদা বালিশে মাথা রেখে চিত হয়ে শুয়ে আছেন। তাঁর নিথর দেহের মাথা ঈষৎ ডান দিকে ঝুঁকে রয়েছে। ডান হাত ডান বুকের ওপর ভাঁজ করা। বাম হাত ছড়িয়ে রয়েছে মেঝেতে। কব্জির তলায় সিগারেটের প্যাকেট, লাইটার। প্যাকেটের পাশে কাঁচের ছাইদানিতে কয়েকটি বিভিন্ন মাপের পোড়া সিগারেট। তাঁর ঈষৎ ফাঁকা ঠোঁটে পোড়া সিগারেটের শেষাংশ তখনো ধরা রয়েছে। ডান দিকে মাথার উপরে রয়েছে প্লাস্টিকের জলের জগ। তাতে অল্প জল। পাশে কাঁচের গ্লাস। তাতেও খানিক তরল। মাথার ওপর বরাবর কিছুটা দূর দিয়ে চলে গিয়েছে এক্সটেনশন কর্ড। বাম পা সোজাসুজি ফেলা। ডান পা অর্ধেক ভাঁজ করা।

ঘরের সিলিং ফ্যান মোটামুটি মাঝারি স্পিডে ঘুরছে। ঘরের আলো জ্বলছে। প্রাক্তণ সহউপাচার্যকে এই অবস্থায় দেখে সহকর্মীরা পুলিশে খবর দেন আধঘন্টা পরে নিরাপত্তারক্ষীর ব্যবস্থা না থাকা আবাসনটিতে টালিগঞ্জ থানার পুলিশ এসে পৌঁছায়। পৌঁছান লালবাজারের হোমিসাইড শাখা এবং সায়েন্টিফিক উইং ফরেনসিক বিভাগের বিশেষজ্ঞরা। তাঁরা এসে মৃতদেহ এসএসকেএমে ময়না তদন্তের জন্য নিয়ে যাওয়ার আগে বিছানার উপর দু’টি সোনার আংটি চাপা একটি সুইসাইড নোট উদ্ধার করেন। নোটটিতে লেখা রয়েছে — “এখানে প্রচন্ড গরম। আমি খুব একা হয়ে গেছি। আমার এই কাজের জন্য কেউ দায়ী নয়।” নোটটিতে নিকটাত্মীয়দের নাম লিখে আংটি দু’টি তাঁদের হাতে তুলে দিতে বলা হয়েছে। তবে পুলিশের সন্দেহ নোট আদৌ অধ্যাপক ভার্মার লেখা কিনা। তা নিশ্চিত করার জন্য হস্তাক্ষর বিশারদের সাহায্য নেবেন তাঁরা । যে বিষয়টি তাঁদের ভাবাচ্ছে তা হল — তিনি আদৌ আত্মহত্যা করেছেন কিনা। আত্মহত্যা করে থাকলে কি কারণে করেছেন এবং কিভাবে করেছেন তা স্পষ্ট নয়। যতদূর জানা গিয়েছে, আদি নিবাস বেনারসের অধ্যাপক আশিস স্বরূপ ভার্মার বর্ষীয়সী মা জীবিত আছেন।

70total visits,2visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *