যৌন হেনস্থা প্রমাণিত ! বরখাস্ত জে ইউ’র এসএফআই সদস্য,খারিজ সদস্যপদও

 

মদনমোহন সামন্ত, কলকাতা, ১১ই মে : তিনি যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক স্তরের কলা বিভাগের ইংরাজি তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। তিনি ভারতের ছাত্র ফেডারেশনের যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় লোকাল কমিটির আর্টস ইউনিট কমিটির সক্রিয় সদস্য। তিনি নানাভাবে বিভিন্ন সময় বহু প্রগতিশীল রাজনীতি এবং লিঙ্গ সংবেদনশীলতার কথা বলেছেন। অথচ সেই তিনিই ঘৃণ্য, কদর্য, লিঙ্গসংবেদনশীলতার পরিচয় বহন করছেন। তিনি গত বৃহস্পতিবার ৯ মে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের এসএফআই আর্টস ইউনিট কমিটি থেকে বহিষ্কৃত হয়েছেন। তাঁর কমিটি সদস্যপদ অবিলম্বে সেদিন থেকেই খারিজ করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে বেশ কিছু গুরুতর যৌন হেনস্থার অভিযোগ আনা হয়েছিল। তিন বছর ধরে নানা সময়ে বহু ছাত্রীর অভিযোগের পাহাড় জমা হয়েছে। ছাত্র ফেডারেশনের সক্রিয় সদস্য এমন কুকীর্তিতে জড়িয়ে পড়বেন তা ভাবতেও পারেননি ইউনিট সম্পাদক দেবরাজ দেবনাথ সহ অন্যান্য পদাধিকারীরা। সপ্তাহ খানেক আগে তাঁদের কাছে নিগৃহীতাদের অভিযোগ এসে পৌঁছয়। তাঁরা সাংগঠনিকভাবে তদন্ত করে অভিযোগের সারবত্তার বিষয়ে নিশ্চিত হন। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বৃহস্পতিবার ইউনিট সভাপতি সন্দীপ নস্কর এবং ইউনিট সম্পাদক দেবরাজ দেবনাথ এক যৌথ বিবৃতি জারি করেন। বিবৃতিতে অভিযুক্ত সংলাপ দাসকে ভারতের ছাত্র ফেডারেশন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় লোকাল কমিটির আর্টস ইউনিটের সদস্যপদ থেকে অবিলম্বে বহিষ্কার ও তার সদস্যপদ খারিজ করার কথা ঘোষণা করা হয়েছে।

ইউনিট সম্পাদক দেবরাজ দেবনাথ-এর সঙ্গে প্রতিবেদক যোগাযোগ করেন। তিনি জানান — সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত সংলাপ দাসকে সামনে রেখে তার বক্তব্য তাঁরা শুনেছেন। তার বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। এই ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় সংগঠন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। ভবিষ্যতেও তারা এই ধরনের অভিযোগ উঠলে এবং তা প্রমাণিত হলে কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে দ্বিধা করবেন না। প্রসঙ্গত, তিনি জানান বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন হেনস্থা অভিযোগ সম্পর্কিত বিচার-বিবেচনার কমিটি “আইসিসি”তে জানানো হয়েছে। তাঁরা তাঁদের মত তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নেবেন। “জুটা”র সম্পাদক পার্থপ্রতিম রায় জানিয়েছেন, ঘটনাটি তাঁদের নজরেও এসেছে। নিগৃহীতারা সংশ্লিষ্ট কমিটি “আইসিসি”তে অভিযোগ করেছেন। “আইসিসি” তিন মাসের মধ্যে তাঁদের সিদ্ধান্ত জানাবেন।এদিকে ফেডারেশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে ‘ভারতের ছাত্র ফেডারেশন তাদের জন্মলগ্ন থেকে সমস্ত রকমভাবে লিঙ্গসাম্যের চেতনার পক্ষে লড়াইয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে’। সেইসঙ্গে তারা সর্বতোভাবে লিঙ্গবৈষম্য ও যৌন হেনস্থার ঘৃণ্য মানসিকতার বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাবে। দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে তাঁরা জানাচ্ছেন, “সমস্ত রকমভাবেই ভারতের ছাত্র ফেডারেশন অভিযোগকারী তথা নিগৃহীতদের পাশে দাঁড়াচ্ছে এবং তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি সার্বিক সহায়তার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ থাকছে। সংগঠনের ভিতরেও তারা লিঙ্গ সংবেদনশীলতা চর্চা আরও জোরদার” করবেন। সংগঠনের কাছে যৌন হেনস্থার অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় বিশ্ববিদ্যালয় নিযুক্ত বিশেষ কমিটি কত দিনে কী সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেন সেদিকেই নজর থাকছে সকলের।

48total visits,2visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *