বিদ্যাসাগরের আবক্ষ মূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা মঞ্চ হয়ে উঠল “রাজনীতিপরিচয়” মঞ্চ

 

 

মদনমোহন সামন্ত, ১১ই জুন, কলকাতা:  সমাজ সংস্কারকবর্ণপরিচয়”কারক ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর তাঁর দ্বিশত জন্মবর্ষের দোরগোড়ায় পৌঁছে অবশেষে রাজনৈতিক জালে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়েই গেলেন। তাঁর নামাঙ্কিত কলেজে তাঁর ভেঙ্গে ফেলা আবক্ষ মূর্তি পুনঃস্থাপন অনুষ্ঠানের মঞ্চ হয়ে উঠল রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে সমাজের সবার হিতচিন্তাকারী ঈশ্বরচন্দ্রকে অর্ধচন্দ্র দিয়ে “রাজনীতির বর্ণপরিচয়” শেখানোর মঞ্চ। বিদ্যাগোষ্পদ দিয়ে বিদ্যাসাগরকে স্মরণ করতে গিয়ে রাজনীতিসাগরে অবগাহন করতে হল উপস্থিত জনগণকে। মঙ্গলবার হেয়ার স্কুলে তাঁর মূর্তি উন্মোচন মঞ্চ থেকে রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠীর উপর চাপ বাড়িয়ে তাঁর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় সমালোচনা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় । তিনি বললেন, “রাজ্যপাল ভুল বলেছেন, বাংলার অবমাননা করেছেন। ভোট পরবর্তী হিংসায় দশ জনের মৃত্যু হয়েছে, রাজ্যপাল সেটাকে বাড়িয়ে বারো বলেছেন। রাজ্যপালের ভাষণকে সম্মান করি না। আমি রাজ্যপালকে শ্রদ্ধা করি। প্রত্যেক পদের একটা সাংবিধানিক সীমাবদ্ধতা আছে। বাংলাকে অবমাননা করা হয়েছে। বাংলাকে গুজরাট বানানোর ষড়যন্ত্র চলছে।” ঘোষণা করলেন, রাজনৈতিক হিংসায় নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে। মুখ্যসচিবকে সে বিষয়ে জনসমক্ষে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন। মূর্তি ভেঙে বর্ণপরিচয় মোছা যায় না বলে বিজেপিকে দায়ী করে ‘আইন আইনের পথে চলবে বলা মুখ্যমন্ত্রী’ যেন আইন নিজের হাতে নিলেন ভেবে বললেন, ‘তৃণমূলের কেউ একাজ করলে, ঠাস ঠাস চড় মারতাম৷’ স্থবির হয়ে শুনলেন বিদ্যাসাগর। তাঁকে শুনিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এও বললেন, ‘আজ যিনি দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী তাঁর জন্যই বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভেঙেছে। আসলে ওরা বাংলার সংস্কৃতিকে ভেঙে দিতে চায়, কিন্তু ওরা জানে না যে বাংলার সংস্কৃতিকে সহজে কেউ ভাঙতে চাইলেও ভাঙতে পারবে না।’ তিনি বললেন, ‘যদি বাংলার সংস্কৃতি রক্ষা করতে গিয়ে আমার প্রাণও দিতে হয় তাহলে দেব। এমনকি জেলে যেতে হলেও যাব, তবুও বাংলার সংস্কৃতিকে রক্ষা করব। আপনাদের মনে করিয়ে দিই, গান্ধীজী গুজরাটে কখনও সন্মান পাননি, কিন্তু তিনি বাংলায় সম্মান পেয়েছেন। প্রসঙ্গত ১৪ মে অমিত শাহ’র কলকাতায় রোড শো’র দিনে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙ্গার ঘটনার প্রায় এক মাস পর মূর্তি পুনঃস্থাপন হল। হেয়ার স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠানের মাধ্যমে অদৃষ্টপূর্ব সাদা ব্রোঞ্জমূর্তি মুখ্যমন্ত্রী উন্মোচন করার পর মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানালেন অনেকেই যাঁরা সংখ্যায় শিক্ষাজগতের চেয়ে বিনোদনজগতেরই বেশি ছিলেন। এদিন মুখ্যমন্ত্রী প্রথমে যান হেয়ার স্কুলের অনুষ্ঠানে। তারপর পদযাত্রা করে ম্যাটাডোরে মূর্তি নিয়ে যান বিদ্যাসাগর কলেজে। একটি পূর্ণাবয়ব এবং একটি আবক্ষ মূর্তির উন্মোচন করেন তিনি।কলেজের প্রাক্তণী থেকে অধ্যাপক অনেকেরই প্রবেশাধিকার না থাকা মূর্তি উন্মোচন অনুষ্ঠান নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে কটাক্ষ করেন মুকুল রায়। তিনি বলেন, “নকশালবাড়ি আন্দোলনে বিদ্যাসাগরের মূর্তি ভাঙা হয়েছিল । ডাঃ পার্থ সেনগুপ্ত ১৯৭০ সালে ওই মূর্তি পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেন । কিন্তু আজ তাঁকে ডাকা হয়নি । কারণ এখন রাজ্যে মমতার চেয়ে তো বড় মনীষী আর নেই । যেখানেই যাবেন ওনার ছবি ৷
খুনি মুখ্যমন্ত্রী বিদ্যাসাগরের মূর্তি উন্মোচন করলেন। ” নির্বাক ঈশ্বরচন্দ্র প্রতিবাদের ভাষা খুঁজে পাচ্ছিলেন না। সংস্কারের ঊর্ধ্বে থাকা এমন রাজনীতির সঙ্গে বিদ্যার সাগর হয়ে থাকা ভারতে বিখ্যাত ‘কশুরে যৈ’-এর ঈশ্বরপ্রাপ্তির আগে এমন বিদ্যালাভ হয়নি!

87total visits,7visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *