আন্দোলনরত চিকিৎসকদের পাশে অপর্ণা সেন

 

খবরএইসময়,১৪ই জুন,কলকাতা: আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীকে অনুরোধ জানালেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক অভিনেত্রী অপর্ণা সেন। নীলরতন সরকার(এনআরএস)  হাসপাতলে এসে আন্দোলনরত চিকিৎসকদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের আন্দোলনে সমর্থন জানান তিনি। অপর্না সেন ছাড়াও ছিলেন অভিনেতা কৌশিক সেন, অভিনেত্রী পাপিয়া অধিকারী, সুরকার দেবজ্যোতি মিশ্র, সমাজসেবী বোলান গঙ্গোপাধ্যায় সহ অন্যান্যরা। সেখানে চিকিৎসকদের আন্দোলনকে সমর্থন জাননোর পাশাপাশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকেও নমনীয় হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। তিনি আরও জানান “প্রিয় মুখ্যমন্ত্রী আপনি আমাদের অভিভাবক আপনি আমাদের মায়ের মত আপনি জুনিয়র ডাক্তারদের থেকে অনেক সিনিয়ার দয়া করে তাদের প্রতি খেয়াল রাখুন।”
এর পর গণমাধ্যম কর্মীদের সামনে অপর্ণা বলেন “মুখ্যমন্ত্রীর কাছে শুধু আবেদন আপনি এই বাচ্চা ছেলে মেয়ের গুলোর কাছে এসে তাদের কথা শুনুন, তাদের বিরাট কিছু চাওয়া নেই। তারা সুরক্ষা চাইছে, যাতে তারা রোগীদের চিকিৎসা করতে পারে। আর তারা পরিকাঠামো চায়।সেটাও নিজেদের জন্য নয়, রোগীদের সুরক্ষার জন্য। তারা হোস্টেলে থেকে দূর-দূরান্ত থেকে এসে কাজ করে যাচ্ছে। সারাদিন round-the-clock এদের কাজ করতে হয়। সুতরাং আপনি দয়া করে এদের প্রতি একটু সহমর্মিতা দেখান। এটাই আপনার কাছে আমার আবেদন।”

এর পাশাপাশি জুনিয়র ডাক্তারদেরও বার্তা দেন। সেন বলেন “আমি এখানে ডাক্তারদের বলতে চাই আপনারা সতর্ক থাকুন।”
আরো এক ধাপ এগিয়ে অপর্ণা সেন ঘোষণা দেন “এই ঘটনার প্রতিবাদে রাজ্য সরকারের তরফ থেকে আর কোনো সম্মাননা পুরস্কার তিনি গ্রহণ করবেন না।”

এর আগে কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী হর্ষ বর্ধন এই সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ হওয়ায় পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টে ডাক্তারদেরই সময়সীমা বেঁধে দিচ্ছেন তাদেরকে হুশিয়ারী করছেন, হুমকি দিচ্ছেন যার জন্য আজ পশ্চিমবঙ্গ সহ সারা দেশের চিকিৎসকরা ক্ষুব্দ। মুখ্যমন্ত্রী যদি একবার নমনীয় হতেন এবং তার ব্যবহার বদল ঘটে তবে দেশজুড়ে রোগীদের এই হয়রানি সমাধান হতো।”

এদিকে শুক্রবার টানা চতুর্থ দিনে পড়লো জুনিয়র ডাক্তারদের আন্দোলন। অন্যদিকে কলকাতার তিন মেডিকেল কলেজ সহ পশ্চিমবঙ্গের মালদহ, মূর্শিদাবাদ এবং উত্তরবঙ্গ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের গন ইস্তফায় ভেঙে পড়েছে রাজ্যের চিকিৎসা ব্যবস্হা । সূত্রের খবর,সব মিলিয়ে এখনো পর্যন্ত প্রায় দুই শতাধিক ডাক্তার তাদের ইস্তফা পত্র জমা দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে কলকাতার নীল রতন সরকার (এনআরএস) মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে মোহম্মদ শাহিদ (৭৭) নামে এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এরপরই রোগীর পরিবারের লোকজনেরা জুনিয়র চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় পরিবহন মুখার্জি এবং যশ তখওয়ানি নামে দুই জুনিয়র চিকিৎসক মারাত্মক ভাবে আহত হন। ওই ঘটনার পরই রাত থেকেই কর্মবিরতি শুরু করেন জুনিয়র চিকিৎসকরা।
এর পর বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি এসএসকেএম হসপিটাল এ গিয়ে ডাক্তারদের কাজে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেন। তাদেরকে বহিরাগত তকমা দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জানান, তার সরকার কোনভাবেই এই আন্দোলনকে সমর্থন করবে না কাজে না ফিরলে জুনিয়র ডাক্তারদের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী।

 

33total visits,4visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *