ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সোমেন

 

নিজস্ব সংবাদদাতা,ব্যারাকপুর:  কংগ্রেস সভাপতি হিসাবে এটা তাঁর দ্বিতীয় ইনিংস। ৯৮ সালে যখন দলের নির্বাচনী ভরাডুবির পর পদত্যাগ করেন তিনি,তারপর থেকে গঙ্গা দিয়ে অনেক জল গড়িয়েছে। রাজ্য কংগ্রেস ক্রমশ ক্ষয়িষ্ণু হয়েছে। বয়সও বেড়েছে তাঁর। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে দলের ভরাডুবি সারা দেশের সাথে সাথে এরাজ্যেও কংগ্রেস কর্মীদের যখন হতাশায় ঠেলে দিচ্ছে ঠিক তখনই আবার ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কংগ্রেস কর্মীদের প্রিয় ‘ছোড়দা’ সোমেন মিত্র।

তাঁর সফরসূচি বলছে গত কয়েকদিনে সোমেন বাবু নয় নয় করে প্রায় পাঁচশ কিলোমিটার পথ চষে ফেলেছেন কোলকাতা ও দুই ২৪ পরগণায়।
সকালে বেড়িয়ে সটান বারুইপুরে দলের গণ অবস্থান, তো তা মিটিয়ে সোজা ভাটপাড়ায় বাম নেতৃত্বের সাথে যৌথ ভাবে পথ হাঁটা। বয়সের ভার কে হার মানিয়ে যেভাবে ছুটছেন সোমেন মিত্র তাতে তাঁর ঘনিষ্ঠ মহলের বক্তব্য, ” এ যেন সেই ন’য়ের দশকের ছোড়দা কে দেখছি আবার।
লাগাতার কর্মসূচী নিয়েছেন, লোকসভা ভোটে হারের পরই। নিজে উপস্থিত থাকছেন প্রতিটা কর্মসূচিতে।
প্রদেশ সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব নেবার পর মাত্র ক’মাসের মধ্যেই লোকসভা নির্বাচনের মুখোমুখি হতে হয়েছে সোমেন কে,তাই সংগঠন কে ঢেলে সাজাবার ইচ্ছে থাকলেও সুযোগ পাননি; যে কাজ এখন করছেন তিনি।
তবু এর মধ্যে বিগত নির্বাচনে টি ভির পর্দায় কংগ্রেসের তরফে দেখা গেছে এক ঝাঁক নতুন সম্ভাবনাময় মুখ। কংগ্রেসের গতানুগতিক পদ্ধতি ত্যাগ করে, অমিতাভ চক্রবর্তীর মতো বিচক্ষণ নেতাকে সামনে রেখে একঝাঁক নতুন মুখকে দলের মুখপাত্র হিসাবে তুলে এনেছেন সোমেন। ‘বিধান ভবন’এর পাঁচ তলার ওপরে আরো এক তলা গাঁথার কাজ চলছে পুরোদমে।

কাজ না করে যে পদ আঁকড়ে রাখা যাবে না,এ কথা প্রকাশ্যে ঘোষণাও করে দিয়েছেন সোমেন। বাংলা কংগ্রেস কে নতুন ভাবে অক্সিজেন জোগানোই এ মুহূর্তে সোমেনের একমাত্র লক্ষ। তাই সব দূরত্ব ভুলে লোকসভায় দলনেতা নির্বাচিত হওয়ার পর অভিনন্দন বার্তা পাঠিয়েছেন অধীর চৌধুরী কে,সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া নানা সাক্ষাৎকারে অধীরের প্রশংসাও করেছেন। এমনিতেই দ্বিতীয়বার সভাপতি হবার পর সোমেন সকলকে নিয়ে চলার ডাক দিয়েছিলেন।

লোকসভা নির্বাচনে ভগবানগোলায় হিংসার শিকার মৃত টিয়ারুল শেখের পরিবারের হাতে প্রতিনিধি দল পাঠিয়ে প্রদেশ কংগ্রেসের পক্ষ থেকে তুলে দিয়েছেন এক লক্ষ টাকার চেক। এন আর এস কান্ড থেকে নির্বাচনোত্তর সন্ত্রাস সবটাতেই কালক্ষেপ না করে কখনো শুভঙ্কর সরকার কখনো রোহন মিত্রের মতো নেতাদের নেতৃত্বে পাঠিয়েছেন প্রতিনিধিদল।
এ রাজ্যে কংগ্রেসকে পুনরুজ্জীবিত করতে তাঁর হাতে যে কোনো যাদুদন্ড নেই, সে কথা পোড় খাওয়া রাজনীতিবিদ সোমেন বিলক্ষণ জানেন। আর তাই বহু উত্থান – পতনের সাক্ষী, বহু চড়াই-উতরাই পেরিয়ে আসা সোমেন বাস্তবের মাটিতে পা রেখেই চলতে চান। যে কারণে নতুন করে রাজ্যে বাম- কংগ্রেসের জোটকে তৈরি করে প্রগতিশীল জোট গড়ে এখন থেকেই মানুষের সামনে বিকল্প শক্তি হিসাবে দাঁড়ানোর পরিকল্পনাও নিচ্ছেন সোমেন। ছুটে গেছেন দাঙ্গা দীর্ণ ভাটপাড়ায়৷
বয়স আর দুঃসময় কে হেলায় উপেক্ষা করে সোমেনের এই ক্লান্তিহীন ছুটে চলা বাংলা কংগ্রেস কে কতটা অক্সিজেন জোগায়, সে দিকেই আপাতত তাকিয়ে আছে রাজনৈতিক ওয়াকিবহাল মহল।

92total visits,3visits today

One thought on “ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে সোমেন”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *