বকেয়া মেটানো না হলে কাজ বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারি টেলিপাড়াতে

 

মদনমোহন সামন্ত,১লা জুলাই,কলকাতা : তাঁদের উপর নির্ভর করে বিভিন্ন চলচ্চিত্র, টেলি ধারাবাহিক , থিয়েটার এবং এই ধরনের অন্যান্য ক্ষেত্রে সময়মত সরঞ্জাম ইত্যাদি সরবরাহ করে সুষ্ঠুভাবে প্রদর্শন করা সম্ভব হয় অথচ তাঁদেরই পারিশ্রমিকের বকেয়ার জেরে বারবার সঙ্কটের মুখে পড়ছে বাংলা টেলি ইন্ডাস্ট্রি। বকেয়া আশু না মেটালে বৃহস্পতিবার চার জুলাই থেকে কাজ বন্ধ করে দেওয়া ছাড়া তাঁদের গত্যন্তর থাকবে না বলে সোমবার এক সাংবাদিক সম্মেলনে জানিয়েছে টালিগঞ্জ স্টুডিওপাড়ার সরঞ্জাম সরবরাহকারী সংগঠন “সিনে ভিডিও অ্যান্ড স্টেজ সাপ্লায়ার ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন”। বিভিন্ন চলচ্চিত্র ও টেলি ধারাবাহিকে ক্যামেরা, আলো, পোশাক, আসবাব, যানবাহন ও অন্যান্য সরঞ্জাম সরবরাহকারী প্রায় সত্তর জন সদস্যের

সংগঠনটির তরফে প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সাংবাদিক সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় যে, দীর্ঘদিন ধরে বকেয়া মেটানোর জন্য বিভিন্ন বেসরকারী বিনোদনমূলক চ্যানেলগুলিকে বহুবার অনুরোধ করলেও তারা কর্ণপাত করছে না। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক নীত পাল জানালেন, “আমাদের মোট বকেয়া ২,১১,৯৫,৬৬৭ টাকার মধ্যে ১,৩৫,৩০,৭৮২ টাকার বকেয়া সংক্রান্ত সমস্ত ভাউচার, রসিদ, ই-মেল ও অন্যান্য কাগজপত্র আমাদের কাছে আছে। বকেয়া ১.৩৫ কোটি টাকা তিনদিনের মধ্যে মিটিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি আমরা। না পেলে সরঞ্জাম সরবরাহের কাজ বন্ধ করে দেওয়া হবে। এই কারণে বাংলা টেলি ইন্ডাস্ট্রি ক্ষতিগ্রস্ত হলে তার সম্পূর্ণ দায় চ্যানেল কর্তৃপক্ষের উপর বর্তাবে।” ‘জয় বাবা লোকনাথ’, ‘আমি সিরাজের বেগম’, ‘খনার বচন’, ‘মহাপ্রভু শ্রীচৈতন্য’ ও ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ ধারাবাহিকগুলিতে কর্মরত শিল্পী, কলাকুশলী, টেকনিশিয়ান ও সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের টাকা বকেয়া রাখার অভিযোগ বহুদিনের। এর মধ্যে ‘প্রথম প্রতিশ্রুতি’ ও ‘আমি সিরাজের বেগম’-এর সম্প্রচার বন্ধ। বাকি ধারাবাহিকগুলি ১৬ মার্চ থেকে দায়িত্ব নিয়েছে অন্য প্রযোজনা সংস্থা। সরঞ্জাম সরবরাহকারীরা ছাড়া বাকি সব পক্ষই তাঁদের বকেয়া অর্থের কিছুটা হলেও পেয়েছেন বলে জানা গিয়েছে । একই ধরণের অভিযোগে মাঝেমধ্যেই বন্ধ থেকেছে ‘দেবী চৌধুরানী’, ‘করুণাময়ী রাণী রাসমণি’ ও ‘ভানুমতীর খেল’-এর মত ধারাবাহিকগুলিও। সহ-সম্পাদক অর্ঘ্য মিত্র জানালেন, “ধারাবাহিকের সব স্বত্ব চ্যানেলের হলেও, সরঞ্জাম সরবরাহের চুক্তি হয় প্রযোজনা সংস্থার সঙ্গে। ১২ মার্চ ও ১৫ এপ্রিল আমরা বকেয়া অর্থের দাবিতে বাধ্য হয়ে কাজ বন্ধ রেখেছিলাম। চ্যানেলগুলির আশ্বাস দিয়েছিল যে শীঘ্রই বকেয়া মেটানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কিন্তু আমাদের সম্পূর্ণ অন্ধকারে রেখে প্রযোজনা সংস্থার হাত‌বদল করা হয়। এখন চ্যানেলগুলি বলছে, বকেয়া সংক্রান্ত নো অবজেকশন সার্টিফিকেট না পেলে কোনও টাকা মেটানো সম্ভব নয়।”
টাকা বকেয়া রাখা ছাড়া চেক বাউন্স দ্বারা
প্রতারণার অভিযোগও উঠছে। চ্যানেলগুলিকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রযোজক রানা সরকারের সঙ্গে চৌদ্দ জন মূল ক্ষতিগ্রস্ত সরঞ্জাম সরবরাহকারীদের বৈঠক আয়োজনের দাবি জানিয়েছে সংগঠন। তাঁদেরকে সমর্থন জানিয়েছে ‘আর্টিস্টস ফোরাম’ও।

96total visits,2visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *