দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে আয়কর নোটিসের প্রতিবাদে ধর্নায় তৃণমূল কংগ্রেসের বঙ্গজননী ব্রিগেড, বিজেপি’র তোপ

 

মদনমোহন সামন্ত,১৩ই আগস্ট,কলকাতা :
বেশ কিছুদিন ধরে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলে আসছেন কেন্দ্রীয় সরকার তথা ভারতীয় জনতা পার্টি চক্রান্ত করে বাংলায় দুর্গাপুজো বন্ধ করে দিতে চাইছে। বাংলার সংস্কৃতি সম্বন্ধে ওদের কোনও ধারণা নেই। সম্প্রতি নিজের ফেসবুক এবং টুইটার অ্যাকাউন্টে কলকাতার বড় কয়েকটি দুর্গাপুজো কমিটিকে আয়কর দপ্তরের নোটিস ধরানোর প্রতিবাদে তিনি সোচ্চার হয়েছেন। রবিবার তিনি ঘোষণা করেছিলেন, এর প্রতিবাদে মঙ্গলবার তৃণমূল কংগ্রেস সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারে ধর্নায় বসবে। সেইমতো আজ মঙ্গলবার অঙ্গদান দিবসে সকাল দশটা থেকে বিকাল পাঁচটা পর্যন্ত সুবোধ মল্লিক স্কোয়ারের কাছে হিন্দ সিনেমা হলের বিপরীতে অবস্থান বিক্ষোভে সামিল হয়েছিলেন তৃণমূল কংগ্রেসের বঙ্গজননী ব্রিগেডের মহিলা সদস্যরা। মঞ্চে ছিলেন চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, কাকলি ঘোষ দস্তিদার, শশী পাঁজা, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমূখ। এরা ছাড়াও এখানে পৌঁছেছিলেন পুর ও নগরোন্নয়ন মন্ত্রী তথা কলকাতার মেয়র ফিরহাদ হাকিম। তাঁর বক্তব্য, “পুজো করার ক্ষেত্রে কোনও কমিটিরই কোনও ব্যক্তিগত স্বার্থ নেই। কেউ এর মাধ্যমে ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে আসেন না। যদি কেউ ব্যক্তিগত ব্যবসা বৃদ্ধির কথা ভাবতেন, তাহলে তাঁর কাছে আয়কর নোটিস আসতে পারত। কিন্তু এক্ষেত্রে এটি একেবারেই বেআইনি।” তিনি কেন্দ্রকে স্পষ্ট বার্তা দিতে চেয়ে বলেছেন, “ধর্মের ওপর এই আঘাত আমার মেনে নেব না, মানব না।” তাঁর অভিযোগ “দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে দখল করতে চেয়ে না পেরে এখন ওরা এসব করছে। ” দল হিসাবে তৃণমূল কংগ্রেসের প্রশ্ন, কেন দুর্গাপুজো কমিটিগুলিকে আয়কর নোটিস পাঠাবে কেন্দ্র?  তাঁদের দাবি, আমাদের পশ্চিমবাংলায় পুজো কমিটিগুলি চাঁদা তুলে দুর্গাপুজো করে থাকে। অনেকেই সেখানে অনুদান দিয়ে থাকেন। দুর্গাপুজোর সঙ্গে কারোরই কোনও রকম ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকে না, তাহলে আয়কর দফতর কেন নোটিস পাঠাবে? ওদিকে এই ধর্না নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জনতা পার্টির পশ্চিমবঙ্গ শাখার সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু খোলাখুলি আক্রমণে গিয়ে বলেছেন, “চিটফান্ডের টাকায় নাকতলার পুজো হয়”, আমাদের কাছে এমন অনেক পুজো কমিটি আসছে যারা ওদের হাত থেকে বাঁচতে চায়।” এর পরেও তাঁর মন্তব্য, “এবার পুজোয় কাটমানি হবে অসুর।” পাশাপাশি বিজেপি মহিলা মোর্চার নেত্রী লকেট চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, “সব পুজো কমিটিকে তো নোটিস দেওয়া হয়নি। কয়েকটি পুজো কমিটিকে নোটিস দেওয়া হয়েছে, যারা মূলত চিটফান্ড ও কাটমানির টাকায় চলে। তৃণমূল এমন ভাব করছে যেন পুজো ওদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি। পুজো সবার, তৃণমূলের একার নয়।”

45total visits,2visits today

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *