পঙ্গু করে দেওয়া ট্রাম পরিষেবাকে ব্যবহার করে চক্ষুদানের সচেতনতার প্রচার মহানগরীতে

 

মদনমোহন সামন্ত,৫ই সেপ্টেম্বর,কলকাতা : বসন্ত রোগের আক্রমণে, চোখের কর্নিয়ার আঘাত বা সংক্রমণ জনিত ক্ষতের কারণে অনেকেরই দু’টি চোখের দৃষ্টিশক্তি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যায়। তাদের জন্য অনেক কিছুই করা যায়, করার আছে। প্রিয়জনের মৃত্যুর পর তাদের অমূল্য চোখ দু’টি নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে চক্ষু ব্যাঙ্কে দান করা যায়। তাতে দু’জন সম্পুর্ন দৃষ্টিহীন মানুষ অন্তত একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি ফিরে পান। মৃত্যুর পর চোখ বা অন্যান্য অঙ্গ দানের বিষয়ে এখনও মানুষের মধ্যে নানা কুসংস্কার দেখা যায়। সেই দিকে লক্ষ্য রেখেই “শিক্ষক দিবস-এই হোক শপথ, কুসংস্কার দূর হোক। আলোর মঙ্গল পথেই শিক্ষার জয়রথ।” এবছরের ২৫ শে আগস্ট থেকে ৪ঠা সেপ্টেম্বর ৩৪ তম জাতীয় চক্ষুদান পক্ষ উদযাপিত হচ্ছে। তারই অঙ্গ হিসাবে ডঃ সর্বপল্লী রাধাকৃষ্ণণ-এর জন্মদিন ৫ই সেপ্টেম্বর শিক্ষক দিবসে “কলকাতায় আলোর পথে যাত্রা” শীর্ষক একটি ট্রাম যাত্রার আয়োজন করা হয়। ট্রাম যাত্রাটি মূলত চক্ষুদানের বিষয়ে সচেতনতা প্রসারের জন্য। এটি আয়োজন করেছিলেন অবসরপ্রাপ্ত এবং প্রাক্তন শিক্ষকরা। ধর্মতলা ট্রাম গুমটি থেকে সুসজ্জিত ট্রামগুলি শহরের বিভিন্ন পথ পরিক্রমা করে সারা দিন শহরে মানুষ এবং যাত্রীদের মধ্যে সাড়া ফেলে দেয়। ট্রামকে যাতায়াতের মাধ্যম হিসাবে জনসাধারণকে বিপুল উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে ব্যবহার করতে দেখা গেলেও পরিচালন সংক্রান্ত অব্যবস্থাপনার জেরে হওয়া ক্ষতিকে কম যাত্রী হওয়ার দায়ে ক্ষতির অজুহাতে বলির পাঁঠা করা হয়েছে বারবার। সরকারের তরফে বহুদিন থেকে নানা অজুহাতে ট্রাম লাইন ক্রমশ তুলে দিয়ে ট্রাম পরিষেবা পঙ্গু করে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। বহু ক্ষেত্রে ট্রাম রুট বন্ধ করে রাখা হয়েছে। কোথাওবা যাত্রাপথ সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। কোথাওবা স্থানপরিবর্তনের নামে বা সংস্কারের নামে পরিষেবা বিঘ্নিত করা হয়েছে। যখন পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ ইত্যাদি ধরনের দূষণ নিয়ে মানুষ ক্রমশ সচেতন হচ্ছে সেই সময়ে পরিবেশবান্ধব বাহন ট্রামকে দুয়োরাণীর সন্তান হিসাবে বিভিন্ন ডিপোতে ফেলে রেখে সুকৌশলে নষ্ট করে দেওয়ার চেষ্টা চলেছে। নতুন করে ট্রাম-এর জন্য কোনও কর্মী নিয়োগ করা হচ্ছে না। ট্রাম-এর পরিবর্তে দূষণকারী বাস চালানো হচ্ছে। ট্রাম রক্ষণাবেক্ষণের জন্য নির্দিষ্ট জায়গাগুলি ক্রমশ বাণিজ্যিক কাজে বিক্রি করে দিয়ে ট্রাম লাটে উঠিয়ে দেওয়ার প্রচেষ্টা চলছে। বিদেশের বিভিন্ন শহরে সাদরে ট্রামকে বরণ করে নেওয়া হচ্ছে আরও বেশি বেশি করে। অথচ কলকাতাতে ট্রামকে মৃত্যুর দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। যার বিরুদ্ধে তোপ দেগে আবার ট্রামকে ফিরিয়ে আনার জন্য শহরে একটি গোষ্ঠীর প্রাণসঞ্চার হচ্ছে। সেই সময়ে দাঁড়িয়ে ট্রামকে ব্যবহার করে বিভিন্ন সময়ে জনসাধারণকে সচেতন করার জন্য অনুষ্ঠান যারা করছেন তারা অবশ্যই সাধুবাদযোগ্য। তাদের প্রয়োজনীয় কার্যক্রম-এর সচেতনতা প্রচার চালানোর পাশাপাশি ট্রাম-এর জন্য প্রচার উপরি পাওনা। সেক্ষেত্রে প্রাক্তন শিক্ষকদের এই ভাবনা অবশ্যই অভিনব এবং অভিনন্দনযোগ্য।