ফিরিয়ে দাও সে অরণ্য

 

” দাও ফিরে সে অরণ্য, লও এ নগর,
লও যত লৌহ লোষ্ট্র কাষ্ঠ ও প্রস্তর
হে নবসভ্যতা! হে নিষ্ঠুর সর্বগ্রাসী,
দাও সেই তপোবন পুণ্যচ্ছায়ারাশি,”

সন্দীপ চক্রবর্তী,৫ই সেপ্টেম্বর, কলকাতা :  “গাছপালা জীবজন্তু প্রভৃতির কাছ থেকে যে সম্পদ্‌ পাচ্ছে তা তারা ফিরিয়ে দিয়ে আবর্তন-গতিকে সম্পূর্ণতা দান করছে, কিন্তু মুশকিল হচ্ছে মানুষকে নিয়ে। মানুষ তার ও প্রকৃতির মাঝখানে আর-একটি জগৎ সৃষ্টি করেছে যাতে প্রকৃতির সঙ্গে তার আদান ও প্রদানের যোগ-প্রতিযোগে বিঘ্ন ঘটছে। সে ইঁটকাঠের প্রকাণ্ড ব্যবধান তুলে দিয়ে মাটির সঙ্গে আপনার বিচ্ছেদ ঘটিয়েছে। মানুষের মতো বুদ্ধিজীবী প্রাণীর পক্ষে এই-সকল আয়োজন উপকরণ অনিবার্য সে কথা মানি; তবুও এ কথা তাকে ভুললে চলবে না যে, মাটির প্রাণ থেকে যে তার প্রাণময় সত্তার উদ্‌ভব হয়েছে, গোড়াকার এই সত্যকে লঙ্ঘন করলে সে দীর্ঘকাল টিঁকতে পারে না। মানুষ প্রাণের উপকরণ যদি মাটিকে ফিরিয়ে দেয় তবেই মাটির সঙ্গে তার প্রাণের কারবার ঠিকমত চলে, তাকে ফাঁকি দিতে গেলেই নিজেকে ফাঁকি দেওয়া হয়।”

Firiye dao se aranyoস্কেচ-প্রতিবেদক

কালের সভ্যতার বিজয় রথ যত এগিয়েছে ততই সভ্যতা হয়ে উঠেছে যান্ত্রিক । যন্ত্রই বেশি প্রাধান্য পাচ্ছে । যন্ত্রদানবের প্রভাবে অকাতরে অরণ্য নিধন চলছে অহরহ । অরণ্য হটাও, বসতি বানাও, এই বিধানে এই যান্ত্রিক সভ্যতা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছে । বৃক্ষ আজ লাশকাটা ঘরে আবদ্ধ । সবুজের ক্ষেত্রে এখন বহুতল আবাসন । অরণ্যকে ধ্বংস করে বড় বড় কলকারখানা আবাসন গড়তে ব্যস্ত আজকের মানুষ । যে বৃক্ষ ছিল মানুষের পরম বন্ধু সুহৃদ সেই বৃক্ষের উপর চলছে অকথ্য অত্যাচার, উচ্ছেদ । সবুজ বনানীর জায়গায় আজ ইট-কাঠ কংক্রিটের জঙ্গল গড়ে উঠেছে ।