কারও কোন নির্দেশ ছাড়াই “ভোলা” গুঁতোচ্ছে হাওড়ায়

 

সুপ্রকাশ চক্রবর্তী,৭ই সেপ্টেম্বর, হাওড়া:  ভোলা গুঁতো, ভোলা গুঁতো… ‘যমলায়ে জীবন্ত মানুষ’ সিনেমায় এই শব্দ বলতে বলতে তার প্রিয় ষাঁড় ভোলার পিছনে ভানু বন্দ্যোপাধ্যায়ের সেই দৌড় অনেকেরই মনে আছে।  কিন্তু হাওড়া শহর জুড়ে ধর্মের ষাঁড়েরা এরকম কারো কোন নির্দেশ ছাড়াই যাত্রী দেখলেই দৌড়ে আসছে গঁতোতে। এদের ভয়ে তাই রীতিমত আতঙ্কে সাধারণ মানুষ থেকে পথচারীরাও। হাওড়া বাস স্ট্যান্ড, হাওড়া ময়দান কিংবা ডবসন রোডের মার্কেট কমপ্লেক্সের পাসে যে দিকেই যাওয়া যাক রাস্তায় দেখা মিলবে এ ধরনের ষাঁড়ের পাল ।তারা সকাল থেকে রাত পর্যন্ত হাওড়া শহরের রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে । কখনো ডাস্টবিন থেকে খাবার তুলে খায়, আবার কখনো হাওড়া ব্রিজের সামনে ব্যস্ততম রাস্তার উপরেই দল বেঁধে শুয়ে একটা ঘুম দিয়ে নেয় ।হাওড়া শহরে ষাঁড়েদের এই বিচরণ প্রায় সকলের দেখা ।কিন্তু তারা শুধুমাত্র যদি ঘুরে বেড়িয়ে চলে যেত তাহলে অসুবিধে ছিল না ।এই ষাঁড় এখন শহরবাসীর কাছে রীতিমতো আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাস্তায় ছেলেমেয়েরা স্কুলে যেতে ভয় পায়। দলবেঁধে এই ষাঁড়ের দল রাস্তা দখল করে যেভাবে শুয়ে থাকে তার ফলে গাড়ি চলতে না পেরে যানজট লেগে যায় ।সাধারণ মানুষ বা পুলিশকর্মীরা তাড়াতে গেলে উল্টে তাদের দিকে তেড়ে যায় এরা। হাওড়া মাছ বাজার সংলগ্ন বঙ্কিম সেতু, কখনো আবার হাওড়া বাস স্ট্যান্ড সংলগ্ন নেতাজি পার্কের পাশে হাওড়া সেতুতে ওঠার  রাস্তায় এদের অবাধ বিচরণ দেখা যায় ।

ষাঁড়ের গুঁতোয় কমবেশি যখম হয়েছেন কেউ কেউ। তার পরেও এদের দৌরাত্ম্য কমানো যায়নি ।অফিস যাত্রী চৈতালি সরকার বলেন, হাওড়া বাস স্ট্যান্ডের কাছে মাঝেমধ্যেই দেখা যায় কলকাতাগামী রাস্তার উপরে শুয়ে থাকে এরা অফিস টাইমে । ফলে একদিকে যেমন যানজট তৈরি হয় তেমনি হাওড়া শহরের ভেতর থেকে কলকাতায় আসার বাসগুলি হাওড়া স্টেশন গামি যাত্রীদের নামাতে অসুবিধায় পড়েন । বাসগুলি যাত্রী নামায় বাস স্ট্যান্ড লাগোয়া প্রধান রাস্তার উপর। ফলে যাত্রীরা বাস থেকে নেমে ডান দিকে হাওড়া স্টেশনের দিকে ঢুকতে বাধা পায়। কারণ সেখানেই শুয়ে থাকে ষাঁড়গুলি ।অনেক সময় যাত্রীদের দিকে তেড়ে আসে । ফলে একটা আতঙ্কের মধ্যে তাদের চলাচল করতে হয় ।আর এক স্কুলছাত্রী দেবিকা ঘোষাল বলেন, মাঝেমধ্যেই রাস্তার উপরে এদের দেখা যায়। ফলে তাদের স্কুল যেতে ভয় হয় ।কখন গঁতিয়ে দেবে সেই আতঙ্কে চলাচল করতে হয় । হাওড়ার পিলখানা এলাকাতে বেশকিছু গোশালা রয়েছে ।যেখানে গরুর রক্ষণাবেক্ষণ হয়। কিন্তু এই ষাঁড়গুলি নিয়ন্ত্রণে যেমন ব্যক্তিগতভাবে কেউ এগিয়ে আসে না তেমনি পুরসভা বা সরকারি তরফ থেকেও তেমন কোনো উদ্যোগ নেই ।ফল স্বরূপ যাত্রীদের দূর্ভোগে পড়তে হয়। সালকিয়ার এক মন্দিরের পূজারী বলেন, এগুলি মূলত বিভিন্ন মানতের ষাঁড়। যেগুলি কেউ মানত করে ঠাকুরের কাছে দান করেন । আবার পুরুষ ষাঁড় হওয়ায় কেউ কেউ সেগুলিকে ছেড়েও দেন রাস্তায়। কিন্তু সেগুলির কোনও নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এভাবে ঘুরে  বেড়ায়।হাওড়া পুরো কমিশনার বিজিন কৃষ্ণা বলেন, হাওড়া শহরে যে ষাঁড় ঘুরে বেড়ায় সেগুলিকে নিয়ন্ত্রণ করার মতো ব্যবস্থা পুরসভার নেই ।এ ক্ষেত্রে তিনি বিষয়টি প্রাণিসম্পদ উন্নয়ন দপ্তরের সঙ্গে কথা বলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।