Fire at Baranagar: বরানগরে প্লাস্টিক কারখানায় আগুন, দমকলের ৫টি ইঞ্জিনের চেষ্টায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে

 

 

পল্লব হাজরা, বরাহনগর:  বরানগর কে মুখার্জি রোডের একটি প্লাস্টিক প্রিন্টিং কারখানায় ভয়াবহ আগুন, ঘটনাস্থলে দমকলের ৫ টি ইঞ্জিন। ঘটনায় এলাকা জুড়ে তীব্র উত্তেজনা। আসে বরানগর থানার পুলিশ। কারখানা ঘিরে বিক্ষোভ স্থানীয়দের।

সূত্রের খবর, বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ বরানগর পুরসভার ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের ৩০/৮/২ এ কে মুখার্জি রোডের একটি প্লাস্টিক প্রিন্টিং কারখানার দু- তলায় হঠাৎই আগুন দেখা যায়। সেই আগুন দেখে তড়িঘড়ি বাইরে বেরিয়ে আসেন কর্তব্যরত শ্রমিকরা। মুহুর্তের মধ্যে দু’তলা থেকে কারখানার তিনতলায় ছড়িয়ে পড়ে আগুন।  প্লাস্টিকের মত দাহ্য পদার্থ মজুত থাকায় আগুনের গ্রাসে চলে যায় গোটা কারখানা। ঘিঞ্জি এলাকা হওয়ায় আগুন ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা যায়।

 

কালো ধোঁয়ায় ঢাকে গোটা কারখানা চত্বর। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ছড়ায় তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ। ঘটনার খবর কানে যেতেই ছুটে আসে দমকল সহ বরাহনগর থানার পুলিশ।

 

পরিসর ছোট হওয়ায় আগুনের উৎসস্থলে পৌঁছাতে দমকল কর্মীদের বেশ বেগ পেতে হয় । বাগজলা খালের জল নিয়ে চলে আগুনকে বশে আনার প্রয়াস ।প্ৰথমে তিনটি ইঞ্জিন আসলেও আগুনের গতিপ্রকৃতি দেখে বাড়ানো হয় ইঞ্জিনের সংখ্যা। পরবর্তী সময় ৫টি দমকলের যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে বেশ কয়েক ঘণ্টা পর নিয়ন্ত্রণে আসে আগুন।

 

স্থানীয় বাসিন্দা টোটোন চক্রবর্তী বলেন, আজ সকাল ১১:৩০টায় এই আগুন লাগে। কারখানার আশেপাশে ঘিরে রয়েছে ছোট ছোট অনেক টালি ও বেড়ার বাড়ি। প্রথমে একটা দুটো কারখানা থাকলেও সময়ের সাথে সাথে বেড়েছে কারখানার সংখ্যা। প্লাস্টিক থেকে রাবারের নানান সামগ্রীর কারখানা ছিল কারখানাটিতে। তিনি অভিযোগ করেন কোনো রকমের অগ্নিনির্বাপক ব্যাবস্থা নেই এখানে।

 

স্থানীয় বাসিন্দারা জনবহুল অঞ্চলে প্লাস্টিকের অবৈধ প্রিন্টিং কারখানা নিয়ে অভিযোগ করলে বরাহনগর ১৮নং ওয়ার্ডের পুরপ্রতিনিধি সুনাথ বিশ্বাস এক কথায় স্বীকার করে নেন। তিনি জানান, বাস্তবে এটা বিধিসম্মত নয়। থানা ও দমকল আইনত ব্যবস্থা নেবে। আমরাও এই সকল অবৈধ কারখানা বন্ধ করতে চেষ্টা করবো। আগে মানুষের প্রাণ মানুষকে আগে বাঁচতে হবে। তবে ঘটনায় কোন হতাহতের খবর নেই । এর আগেও একাধিকবার এই কারখানায় আগুন লাগার ঘটনা ঘটলেও সেই অভিযোগ জানা নেই বলে দাবি করেন পুরপ্রতিনিধি।

 

 

এদিন কারখানার মালিকের দিকে অভিযোগের আঙুল তোলেন স্থানীয় বাসিন্দারা। আশেপাশের বাড়ি ক্ষতি হওয়ায় ক্ষতিপূরণের দাবিতে ক্ষোভে ফেটে পড়েন অনেকে। পুলিশের চেষ্টায় অবশেষে শান্ত হয় পরিস্থিতি।

Google news