তিথি মেনে লকডাউনের মধ্যেই খুলছে চারধাম মন্দির! তীর্থযাত্রায় সাময়িক নিষেধাজ্ঞা

উত্তরাখণ্ডের চারধাম।

 

খবরএইসময়,নিউজ ডেস্কঃ   মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে দেশজুড়ে চলছে লোকডাউন।তারই মাঝে প্রথা মেনে রবিবার থেকে খুলতে চলেছে উত্তরাখণ্ডের চারধাম (Chardham । তবে তীর্থযাত্রীদের সাময়িক প্রবেশ নিষেধ। শনিবার এই তথ্য দিয়েছে কেদারনাথ মন্দিরের এক পুজারি দুর্গেশ শুক্ল।প্রতি বছর ভাইফোঁটার  এক-দুদিন বাদে তিথি অনুযায়ী কেদারনাথের কপাট অর্থাৎ দরজা বন্ধ হয়ে যায় । ঠাণ্ডার সময় প্রায় ৬ মাস মন্দিরের দরজা বন্ধ থাকার ফলে চারধাম যাত্রাও তীর্থযাত্রীদের বন্ধ থাকে। প্রতিবছর নির্ঘণ্ট মেনে এপ্রিলেই শুভ অক্ষয় তৃতীয়ার দিন থেকে একে একে খোলা হয় চারধামের কপাট (দরজা)। হিমালয়ের গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী উপত্যকার দরজা খোলার মধ্যে দিয়ে প্রতিবছর শুরু হয় বার্ষিক চার ধাম যাত্রা। এবছরও সে প্রথার অন্যথা হল না। কিন্তু লকডাউন ও সংক্রমণ (Lockdown) শঙ্কায় তীর্থযাত্রীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে বলে খবর। জানা গিয়েছে ৪ মন্দিরের দরজা খোলার এই অনুষ্ঠান দেখতে প্রতিবছর প্রায় লক্ষাধিক মানুষের জমায়েত হয়। এই চারধামের অন্যতম হল কেদারনাথ,বদ্রিনাথ এবং গঙ্গোত্রী ও যমুনোত্রী। সূত্রের খবর, চারধামের মধ্যে দুটি ধাম অর্থাৎ গঙ্গোত্রী আর যমুনোত্রীর দরজা ২৬ এপ্রিল অর্থাৎ রবিবার খুলবে। কেদারনাথের (Kedarnath and Badrinath) দরজা খুলবে ২৯ এপ্রিল। আর বদ্রিনাথ দরজা খুলবে ১৫ মে।

উত্তরাখণ্ডের পর্যটন ও সংস্কৃতি মন্ত্রী সৎপাল মহারাজ বলেছেন, “স্বাস্থ্য বিধি মেনে আমরা এখনই কোনও তীর্থযাত্রীকে প্রবেশের অনুমতি দেবো না। শুধু মাত্র বাছাই করা কয়েকজন পুরোহিত এই অনুষ্ঠানের পুজো করবেন। আর মন্দির কমিটির কয়েকজন উপস্থিত থাকবেন।” পিটিআইয়ের তরফে তাঁকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, কবে থেকে তীর্থযাত্রা শুরু করা হবে? মন্ত্রীর জবাব, “আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রক ও কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলে, তাদের স্বাস্থ্যবিধি খতিয়ে দেখে সিদ্ধান্ত নেবো।”

তাঁর দাবি, “আমাদের এখন প্রাধান্য ধর্মীয় বিশ্বাসকে অগ্রাধিকার দিয়ে আগে মন্দিরের দরজা খোলা। বাকি সিদ্ধান্ত কেন্দ্রের পরামর্শ মেনেই নেওয়া হবে।” সংক্রমণ, লকডাউনের জন্য ভাঁটা পড়তে পারে তীর্থযাত্রায়! সেক্ষেত্রে আর্থিক বিপর্যয়ের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার কৌশল কী? এই প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেছেন, “আমরা আলোচনায় বসব, কীভাবে সংক্রমণের কারণে তীর্থযাত্রার ওপর পড়া প্রভাব দূর করতে পারি।” মন্ত্রী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে নানা ধরনের বিকল্প আছে। আগে এই বিপর্যয়ের মেঘ কাটুক, তারপর সবপক্ষ বসে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।