নিজের টাকায় মুম্বাই পুলিশকর্মীদের থাকা খাওয়ার বন্দোবস্ত করে দিলেন পরিচালক রোহিত শেট্টি

117

 

শুক্লা রায়চৌধুরীঃ পুলিশের সঙ্গে তার সম্পর্কটা দীর্ঘদিনের। বাস্তবে যতটা না তার অধিক রুপোলি পর্দায় পুলিশের জীবন নিয়ে বহু সিনেমা বানিয়ে। তিনি বিভিন্ন সময়ে পুলিশের চরিত্র নিয়ে সিনেমায় নানা রকম এক্সপেরিমেন্ট করে থাকেন।দিনরাত এক করে পুলিশকর্মীরা যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সমাজকে সুশৃঙ্খলের মধ্যে রাখার চেষ্টা করে সেটা কোন সিনেমার স্ক্রিপ্ট এর থেকে কোন অংশেই কম নয়।যিনি ‘সিংহম’ সিরিজ, ‘সিম্বা’ ও ‘সূর্যবংশী’র মত ছবিতে পুলিশের জীবন কাহিনী তুলে ধরেছেন সেই পরিচালকের নাম রোহিত শেট্টি।

কিন্তু চেনা রোহিত শেট্টিকে নিয়ে আবার কেন?

কারণ, সারা বিশ্বজুড়েই করোনা ভাইরাস একটা বিভীষিকা। এই করোনা ভাইরাসের সংক্রমন রুখতে দেশজুড়ে চলছে লকডাউন। আর এই লোকডাউন সফল করার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সতর্ক করে বিভিন্ন ভাবে এই মারণ ভাইরাসের হাত থেকে বাঁচাতে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে পুলিশকর্মীরা যে ভূমিকা পালন করছেন তা যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ সেটা নতুন করে কিছু বলার নেই। এমন কিছু পুলিশ কর্মী রয়েছেন যাদের স্ত্রী সন্তান সম্ভবা, বাড়িতে বয়স্ক মা-বাবা আছেন তাঁদের ওষুধ ফুরিয়ে গিয়েছে কিন্তু ওষুধ এনে দেওয়ার লোক নেই, কারও বা ছোটছোট ছেলেমেয়ে আছে এদিকে বাজার করার লোক নেই প্রায় না খেতে পাওয়ার জোগাড়।বাড়ি ফেরার সৌভাগ্যটুকু মিলছে না। এইরকম নানাভাবে প্রতিকুলতার মধ্যে থেকেও এই কঠিন পরিস্থিতির কাছে নতিস্বীকার করে মানুষের জন্য কাজ করে চলে চলেছেন যারা এবার সেই পুলিশকর্মীদের পাশে থাকতে উদ্যোগী হলেন পরিচালক রোহিত শেট্টি। লকডাউনের শুরুতে মুম্বাইয়ের ফিল্মসিটির দরিদ্র শ্রমিকদের জন্য ত্রান তহবিলে ৫১ লাখ টাকার অনুদান দিয়েছিলেন তিনি। এবার পুলিশকর্মীদের জন্য যথাসাধ্য সাহায্যের বন্দোবস্ত করলেন রোহিত শেট্টি।

মুম্বাইয়ের আটটি নামজাদা হোটেলের সঙ্গে কথাবার্তা বলে পুলিশকর্মীরদের প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও স্নানের ব্যবস্থা করে দুপুর ও রাতের খাবারের পাশাপাশি বিশ্রামের জন্য তারা সেখানে যাতে সময়ও কাটাতে পারেন সেই ব্যবস্থা করলেন। তবে এর জন্য কোনো অর্থবহন করতে হবে না পুলিশকর্মীদের। এই সকল খরচের ব্যয়ভার নিলেন রোহিত শেট্টি।

পরিচালকের এই মহান উদ্যোগে ভীষন খুশি মুম্বাই পুলিশ কর্তৃপক্ষ। একটি অফিশিয়াল ট্যুইট করে তারা রোহিতের প্রতি ধন্যবাদ জ্ঞাপনও করেছেন।