কলকাতা: পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় (SSC Recruitment Case) সুপ্রিম কোর্টের কড়া অবস্থান আবারও স্পষ্ট হয়ে গেল। স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC) এবং রাজ্য সরকারের করা ২৬ হাজার শিক্ষকের চাকরি বাতিলের রায়ের পুনর্বিবেচনার আর্জি খারিজ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি সতীশচন্দ্র শর্মার বেঞ্চের এই সিদ্ধান্ত রাজ্য সরকারের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর ফলে শিক্ষক নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় চাকরিহারাদের ফিরে আসার শেষ আশাটুকুও প্রায় শেষ হয়ে গেল।
গত ৫ আগস্ট, রাজ্য সরকার, এসএসসি এবং চাকরিহারাদের একাংশ-সহ বিভিন্ন পক্ষের দায়ের করা পুনর্বিবেচনার আর্জি নিয়ে শুনানি শেষ হয়েছিল। বিচারপতিদের চেম্বারে হওয়া এই শুনানির পর বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, এই মামলায় নতুন করে আদালতে শুনানির কোনো প্রয়োজন নেই। তাদের পর্যবেক্ষণ, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা CBI এবং বিচারপতি বাসব কমিটির তদন্তে নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দুর্নীতির বিষয়টি পরিষ্কার। ওএমআর শিট-এর মতো গুরুত্বপূর্ণ নথি না পাওয়ায় এবং ব্যাপক অনিয়মের প্রমাণ থাকায় আদালত তার আগের রায় বহাল রেখেছে।
পুরোনো রায় এবং তার প্রতিক্রিয়া
প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালের এসএসসি নিয়োগ প্রক্রিয়ার পুরো প্যানেল বাতিল করে দিয়েছিল। সেই রায়ে ২৫,৭৩৫ জন শিক্ষকের চাকরি বাতিল হয়। তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সঞ্জীব খন্না এবং বিচারপতি সঞ্জয় কুমারের বেঞ্চ জানিয়েছিল, যেহেতু যোগ্য এবং অযোগ্য প্রার্থীদের আলাদা করা সম্ভব হচ্ছে না, তাই পুরো প্যানেলই বাতিল করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, চিহ্নিত অযোগ্য প্রার্থীদের বেতন ফেরত দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছিল।
এই রায়ের পর ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়। রাজ্য সরকার এবং এসএসসি উভয়েই পুনর্বিবেচনার জন্য শীর্ষ আদালতে আবেদন করে। মধ্যশিক্ষা পর্ষদও আদালতে আবেদন জানিয়েছিল যে এত সংখ্যক শিক্ষকের চাকরি বাতিল হলে রাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থা ভেঙে পড়বে। সেই আবেদনের ভিত্তিতে ১৭ এপ্রিল সুপ্রিম কোর্ট একটি শর্তসাপেক্ষে নির্দেশ দেয়, যেখানে বলা হয়েছিল যে নবম-দশম এবং একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষকরা ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারবেন, তবে রাজ্যকে ৩১ মে-র মধ্যে নতুন নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে হবে। সেই নির্দেশের পর রাজ্য সরকার নতুন বিজ্ঞপ্তিও জারি করে।
ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত
তবে, সুপ্রিম কোর্টের আজকের রায়ের পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। চাকরিহারাদের পুনর্বিবেচনার শেষ সুযোগও খারিজ হয়ে যাওয়ায় তাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত। অন্যদিকে, রাজ্য সরকারের জন্য এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ, কারণ এই বিপুল সংখ্যক শূন্যপদে দ্রুত নতুন নিয়োগ করতে হবে। শিক্ষা মহলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, এই রায়ের ফলে রাজ্যের শিক্ষা ব্যবস্থায় আবারও বড় ধরনের সংকট তৈরি হতে পারে। এই মামলার পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।










