কলকাতায় নাইটক্লাবে তরুণীকে হেনস্থা, প্রগতি ময়দান থানায় ধৃত যুবক

কলকাতার বুকে আবারও এক চাঞ্চল্যকর হেনস্থার ঘটনা প্রকাশ্যে এল। শহরের একটি নামী নাইটক্লাবে এক তরুণীকে শারীরিক নিগ্রহ ও হেনস্থা করার অভিযোগে এক যুবককে গ্রেফতার করেছে প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাতের শহরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে।

পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত ওই যুবক ঘটনার দিন রাতে ওই নাইটক্লাবে উপস্থিত ছিলেন। অভিযোগ, আচমকাই তিনি ওই তরুণীর সঙ্গে অশালীন আচরণ শুরু করেন এবং তাকে শারীরিকভাবে হেনস্থা করেন। এই ঘটনায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েন আক্রান্ত তরুণী। নাইটক্লাবে উপস্থিত অন্যান্যরা বিষয়টি খেয়াল করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায় প্রগতি ময়দান থানার পুলিশ। পুলিশি তৎপরতায় অভিযুক্তকে আটক করা হয় এবং পরবর্তীতে জিজ্ঞাসাবাদের পর তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গিয়েছে, অভিযুক্ত এবং আক্রান্ত তরুণী একে অপরের পরিচিত ছিলেন না। মদ্যপ অবস্থায় ওই যুবক এই ঘটনা ঘটিয়েছেন কি না, তাও খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ধৃতের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানি এবং শারীরিক নিগ্রহের সুনির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। ধৃতকে আজ আদালতে তোলা হবে বলে পুলিশ জানিয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা নাইটক্লাবের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছেন এবং সেই রাতের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছেন।

রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর জমানায় নারী সুরক্ষা এবং আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা নিয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়ার কথা প্রশাসনের তরফ থেকে বারবার বলা হয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করা হয়েছে। তৃণমূলের অভিযোগ, বর্তমান সরকারের আমলে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার অবনতি হয়েছে এবং নারীরা সুরক্ষিত নন। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে যে ধরনের প্রশাসনিক তৎপরতা দেখা যেত, বর্তমান সরকারের অধীনে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার কারণে অপরাধীরা সাহসী হয়ে উঠছে বলেও তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি।

শহরের বিভিন্ন নাইটক্লাব ও বারে নিরাপত্তার কোনো ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিয়েও পুলিশি নজরদারি বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। বিশেষ করে সপ্তাহান্তের রাতে শহরতলির এবং শহরের ভেতরকার নাইটক্লাবগুলিতে যে পরিমাণ ভিড় হয়, তাতে নিরাপত্তার কড়াকড়ি কতটা মেনে চলা হচ্ছে, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট ক্লাবের কর্তৃপক্ষের কাছেও কৈফিয়ত চাওয়া হতে পারে। আইন অনুযায়ী, কোনো প্রতিষ্ঠানে নারী নিগ্রহের ঘটনা ঘটলে প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন অপরাধ বিশেষজ্ঞরা।

বর্তমানে অভিযুক্ত পুলিশি হেফাজতে রয়েছে। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কাউকে রেয়াত করা হবে না। ঘটনার পর থেকে ওই নাইটক্লাব চত্বরে নিরাপত্তা বাড়ানো হয়েছে। অভিযুক্তের অতীত কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড রয়েছে কি না, তাও তদন্তকারী অফিসাররা খতিয়ে দেখছেন। দ্রুত চার্জশিট জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রগতি ময়দান থানা।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। কলকাতার মতো মহানগরে মাঝরাতে এই ধরণের ঘটনা প্রমাণ করে যে, সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় এবং মাদকাসক্তি কতটা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। পুলিশ ও প্রশাসনের কড়া নজরদারির পাশাপাশি সমাজের সচেতনতাও একান্ত প্রয়োজন বলে মনে করছেন মনোবিদরা। ধৃত যুবক আদালতে কী দাবি করে, সেদিকেই এখন নজর সকলের। ঘটনার পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পুলিশের পক্ষ থেকে দ্রুত জানানো হবে বলে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। তবে এই মুহূর্তের জন্য মামলার তদন্ত প্রক্রিয়া অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে পরিচালনা করছে পুলিশ প্রশাসন।