খাদ্যপণ্যের প্যাকেটে এবার থেকে বাধ্যতামূলক হতে চলেছে লাল রঙের সতর্কবার্তা। ফাসাই বা ফুড সেফটি অ্যান্ড স্ট্যান্ডার্ডস অথরিটি অফ ইন্ডিয়া দেশের সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যরক্ষার স্বার্থে এই নতুন ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশিকা প্রস্তাব করেছে। দীর্ঘ সময় ধরে প্রক্রিয়াজাত এবং প্যাকেটজাত খাবারের অতিরিক্ত চর্বি, চিনি এবং লবণের মাত্রা নিয়ে যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল, এই নয়া পদক্ষেপটি সেই উদ্বেগেরই মোকাবিলা করার একটি বড় হাতিয়ার বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সাধারণ ক্রেতারা যাতে দোকানে গিয়ে কোনো খাবার কেনার সময়ই বুঝতে পারেন, সেই খাবারে কতটা ক্ষতিকারক উপাদান রয়েছে, তার জন্যই এই উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।
বর্তমান সময়ে জীবনযাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাসেও আমূল পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে শহরের মানুষদের মধ্যে প্যাকেটজাত খাবার খাওয়ার প্রবণতা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মতো মারণরোগের প্রকোপ সাধারণ মানুষের মধ্যে অনেক বেশি বেড়ে গিয়েছে। এই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও দীর্ঘদিন ধরে প্রচার চালিয়ে আসছিলেন যে, প্যাকেটজাত খাবারের গায়ে উপাদানের মাত্রা স্পষ্টভাবে লেখা থাকা প্রয়োজন। ফাসাই-এর এই নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যে সমস্ত খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে ফ্যাট, চিনি বা লবণ রয়েছে, সেই সব পণ্যের প্যাকেটের ওপর একটি লাল রঙের বক্সের মধ্যে এই সতর্কবার্তা স্পষ্টভাবে মুদ্রিত থাকতে হবে। ফলে ক্রেতারা খুব সহজেই বুঝতে পারবেন, এই নির্দিষ্ট খাবারটি কতটা স্বাস্থ্যসম্মত বা কতটা ক্ষতিকর।
নিঃসন্দেহে এটি একটি সময়োপযোগী পদক্ষেপ। তবে এই নিয়ম কার্যকরের ক্ষেত্রে কিছু বিশেষ ক্ষেত্রে ছাড়ও দেওয়ার কথা ভাবছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, ফাসাই কিছু নির্দিষ্ট খাদ্যপণ্যের ক্যাটাগরির জন্য এই নিয়ম থেকে ছাড়ের প্রস্তাব দিয়েছে। তবে ঠিক কোন ধরনের খাবারে এই ছাড় মিলবে এবং তার মাপকাঠি কী হবে, সেই সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য বা তালিকা এখনও সরকারিভাবে প্রকাশিত হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জনস্বার্থের বিষয়টি সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এই নতুন খসড়া নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দাঁড়িয়ে যদি এই বিষয়টি দেখা হয়, তবে রাজ্যবাসীরা মনে করছেন যে, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের বিষয়ে যে কড়া অবস্থান গ্রহণ করেছেন, তাতে এই ধরণের কেন্দ্রীয় নিয়ম কার্যকর হলে তা জনস্বাস্থ্যের মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় স্বাস্থ্য পরিকাঠামোর উন্নয়নে একাধিক দাবি তোলা হলেও, বর্তমানে শাসক দল বিজেপি রাজ্যের মানুষের পুষ্টি ও স্বাস্থ্যকর খাবারের সহজলভ্যতা নিয়ে যথেষ্ট তৎপর। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।
বাজারের সাধারণ ক্রেতারা এই খবরের প্রতিক্রিয়ায় জানাচ্ছেন যে, অনেক সময় প্যাকেটের পেছনে ক্ষুদ্রাক্ষরে লেখা উপাদানগুলো পড়া সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে প্যাকেটের ওপর সরাসরি লাল রঙের সতর্কবার্তা থাকলে তা সাধারণ মানুষের পক্ষে সচেতন হওয়ার ক্ষেত্রে অনেক বেশি কার্যকর হবে। শিশু ও বয়স্কদের স্বাস্থ্যের কথা মাথায় রেখে এই ধরণের নিয়ম দ্রুত কার্যকর করার দাবিও উঠেছে সব মহল থেকে। খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ফাসাই-এর এই অস্ত্র কতটা কার্যকর হয়, সেটাই এখন সময়ের অপেক্ষা। তবে এটি নিশ্চিত যে, প্যাকেটজাত খাবার প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলোকে এবার থেকে তাদের পণ্যের গুণমানের বিষয়ে অনেক বেশি স্বচ্ছ হতে হবে। নিয়ম লঙ্ঘন করলে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে কি না, সেই বিষয়ে এখনও স্পষ্ট নির্দেশিকা আসেনি। বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষায় এখন সাধারণ মানুষ ও শিল্প মহল।








