পাহাড়ের জন্য ২৫৪ কোটির ত্রাণ তহবিল ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

দার্জিলিং পাহাড়ের সামগ্রিক উন্নয়ন এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় রাজ্য সরকার অত্যন্ত বিশেষ এবং তাৎপর্যপূর্ণ তৎপরতা গ্রহণ করেছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সোমবার একটি উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক বৈঠকে পাহাড়ের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে ২৫৪ কোটি টাকার এক বিশাল বিশেষ ত্রাণ ও উন্নয়ন তহবিল ঘোষণা করেছেন। রাজ্যের বর্তমান শাসন ক্ষমতায় থাকা ভারতীয় জনতা পার্টি বা বিজেপি সরকারের এই সাহসী এবং কল্যাণমুখী পদক্ষেপকে পাহাড়ের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের ক্ষেত্রে এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা।

মুখ্যমন্ত্রী তার ভাষণে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, পাহাড়ের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান এবং এখানকার প্রতিকূল প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঝুঁকিকে সম্যক বিবেচনা করেই এই বড় অঙ্কের আর্থিক বরাদ্দ করা হয়েছে। দীর্ঘমেয়াদী পরিকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি অতিবর্ষণ, ভূমিধসের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত বিপর্যয়ের মোকাবিলায় এই তহবিল অত্যন্ত কার্যকরী ভূমিকা পালন করবে। পাহাড়ের প্রতিটি প্রান্তের সাধারণ মানুষ যাতে এই উন্নয়নের সুফল পায়, সেদিকে বিশেষ নজর দেওয়ার কথা জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি, কালিম্পং জেলায় একটি নতুন এবং অত্যাধুনিক মেডিক্যাল কলেজ স্থাপনের ঘোষণাও এদিন করেন মুখ্যমন্ত্রী। এর ফলে উত্তরবঙ্গের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোয় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে কালিম্পং ও পার্শ্ববর্তী এলাকার বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের দাবি ছিল একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিক্যাল কলেজের, যা এই ঐতিহাসিক ঘোষণার মাধ্যমে বাস্তবায়িত হতে চলেছে। এর ফলে পাহাড়ের পড়ুয়াদের চিকিৎসাবিদ্যা পড়ার জন্য দূর-দূরান্তে যেতে হবে না এবং স্থানীয় বাসিন্দারা দোরগোড়ায় উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা পাবেন।

বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী অত্যন্ত দৃঢ়তার সঙ্গে আরও বলেন, পাহাড়ের উন্নয়ন প্রক্রিয়া কোনোভাবেই স্তব্ধ হওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক সমাধানের প্রচেষ্টা সমান্তরালভাবে চলতে থাকলেও, জনগণের দৈনন্দিন জীবন ও পরিকাঠামোগত উন্নয়নকে সরকার সর্বাধিক গুরুত্ব দিচ্ছে। তিনি বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে জানান যে, পাহাড়ের স্থায়ী রাজনৈতিক সমাধানের লক্ষ্যে রাজ্য সরকার সবসময় আন্তরিক এবং প্রয়োজনীয় আলাপ-আলোচনা চালিয়ে যেতে তারা বদ্ধপরিকর। এ প্রসঙ্গে তিনি প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম সরাসরি উল্লেখ না করেও জানান যে, অতীতের প্রশাসনের তুলনায় বর্তমান সরকার পাহাড়ের মানুষের সমস্যা সমাধানে অনেক বেশি সংবেদনশীল এবং সক্রিয়।

বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের কঠোর সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, অতীতে যখন তারা ক্ষমতায় ছিল, তখন কেবল রাজনৈতিক অস্থিরতাকেই প্রশ্রয় দেওয়া হয়েছে এবং পাহাড়কে শান্তির বদলে অশান্তির দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। বিজেপি সরকার সেই অন্ধকার পথ থেকে বেরিয়ে এসে উন্নয়নের মূল স্রোতে পাহাড়কে এগিয়ে নিয়ে যেতে চায়। তিনি আরও জানান যে, নতুন মেডিক্যাল কলেজ নির্মাণের জন্য প্রয়োজনীয় জমি চিহ্নিত করার কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসনকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য, দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ের মানুষের জন্য এই ঘোষণার পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে ব্যাপক চর্চা শুরু হয়েছে। একদিকে যখন পাহাড়ের উন্নয়নের দাবি দীর্ঘদিনের, অন্যদিকে রাজ্য সরকারের এই বড় মাপের পদক্ষেপ বিজেপির জনভিত্তি বা ভোটব্যাঙ্ককে আরও মজবুত করবে বলেও মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল। সরকারের উচ্চস্তর থেকে স্পষ্টভাবে জানানো হয়েছে যে, দুর্যোগ পরবর্তী ত্রাণ বণ্টন এবং নতুন পরিকাঠামো তৈরির কাজ অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে মনিটর করা হবে। কোনোভাবেই যাতে বরাদ্দকৃত তহবিলের অপব্যবহার বা দুর্নীতি না হয়, তার জন্য কড়া নজরদারি বজায় রাখবে রাজ্যের প্রশাসনিক কেন্দ্র নবান্ন।

প্রশাসনিক সূত্রে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই নতুন মেডিক্যাল কলেজের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপনের কাজ শুরু হতে পারে। পাহাড়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের এই বিশেষ প্যাকেজকে কেন্দ্র করে এখন স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ এবং উদ্দীপনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্য সরকারের এই সমন্বিত এবং সুপরিকল্পিত উদ্যোগ পাহাড়ের মানুষের জীবনে কতটা স্বাচ্ছন্দ্য এবং সুফল বয়ে আনে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় রাজ্যের আপামর মানুষ। সরকারের এই উন্নয়নের চাকা কতটা গতি পায়, তা আগামী দিনগুলিতে পাহাড়ের আর্থ-সামাজিক চিত্র বদলে দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে।