ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার দ্বিপাক্ষিক অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সম্পর্কে শীঘ্রই একটি বড় পরিবর্তন আসতে পারে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র একটি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার খুব কাছাকাছি রয়েছে। এছাড়াও, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতা এবং ভারতের রুশ তেল ও গ্যাস ক্রয়ের বিষয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী একটি বাস্তবসম্মত অবস্থান নিয়ে বলেছেন যে, আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এবং ভৌগোলিক বাস্তবতাকে উপেক্ষা করা যায় না।
মার্কিন-ভারত বাণিজ্য চুক্তির অগ্রগতি প্রসঙ্গে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, “আমরা বর্তমানে ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার জন্য কাজ করছি এবং আমরা এর খুব কাছাকাছি আছি।” বিশেষজ্ঞরা মনে করেন যে এই সম্ভাব্য চুক্তিটি দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারিত্ব জোরদার করতে, আমদানি-রপ্তানির বাধা কমাতে এবং সরবরাহ শৃঙ্খলকে আরও স্থিতিশীল করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
#WATCH | United States Secretary of State Marco Rubio says, "…We're trying to finalise a trade deal with India right now. We're very close to doing that."
On Russian oil and gas, United States Secretary of State Marco Rubio said, "We've had to waive sanctions over the past few… pic.twitter.com/rFNkHAUDEo
— ANI (@ANI) October 19, 2026
রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং পরবর্তীকালে তা শিথিল করার বিষয়ে মার্কো রুবিও বলেছেন যে, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্যের ওপর এর প্রভাবের কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে গত কয়েক মাসে কিছু নিষেধাজ্ঞা শিথিল করতে হয়েছে। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন জাতীয় নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করার সিদ্ধান্ত নেন, তখন ভারতের সঙ্গে চলমান দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আলোচনা এবং জ্বালানি সরবরাহ সংক্রান্ত বিষয়সহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বিবেচনা করা হয়। রুবিওর মতে, প্রতিটি দেশের পরিস্থিতি এবং জ্বালানির চাহিদা ভিন্ন, তাই পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় এই সমস্ত বিষয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা জরুরি।
পররাষ্ট্রনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন যে, প্রতিটি দেশের নিজস্ব ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি রয়েছে, যা উপেক্ষা করা যায় না। তিনি স্বীকার করেছেন যে, অনেক দেশই বিকল্প উৎস থেকে সহজে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারে না এবং রাতারাতি তাদের জ্বালানি সরবরাহ কাঠামো পরিবর্তন করতেও সক্ষম নয়। তাই, পররাষ্ট্রনীতি সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ, মূল্য স্থিতিশীলতা এবং আঞ্চলিক পরিস্থিতির মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা অপরিহার্য। রুবিওর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে এবং একই সাথে রাশিয়ার তেল ও জ্বালানির চাহিদা সংক্রান্ত বিষয়ে একটি বাস্তবসম্মত দৃষ্টিভঙ্গির প্রয়োজনীয়তাও স্বীকার করছে।








