মুম্বাইয়ের কাছে বহুতল আবাসনে ভয়াবহ দুর্ঘটনা, ক্রেন ভেঙে মৃত ১

মুম্বাইয়ের উপকণ্ঠে অবস্থিত মীরা রোড এলাকায় সম্প্রতি এক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে এক ব্যক্তির। বুধবার বিকেলে জেপি নর্থ নামক একটি বিলাসবহুল আবাসিক প্রকল্পের ১৩ তলা থেকে একটি নির্মাণকারী ক্রেন হঠাৎ নিচে আছড়ে পড়ে। এই ঘটনায় একজনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে এবং আরও তিনজন গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে। নির্মাণ কাজের নিরাপত্তা নিয়ে এই ঘটনায় বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গিয়েছে, বুধবার বিকেলে যখন এই দুর্ঘটনাটি ঘটে, তখন কর্মীরা নির্মাণস্থলের ঠিক নিচেই নিজেদের দৈনন্দিন কাজে ব্যস্ত ছিলেন। হঠাৎ করেই বহুতলের ১৩ তলার উচ্চতা থেকে ভারি ক্রেনটি ভেঙে নিচে আছড়ে পড়লে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে গোটা এলাকা। ধাতব ক্রেনের অংশগুলো নিচে থাকা কর্মীদের ওপর পড়লে মুহূর্তের মধ্যে পরিস্থিতি ভয়াবহ হয়ে ওঠে। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান অন্যান্য নির্মাণ কর্মীরা এবং স্থানীয় সাধারণ মানুষ। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়া ব্যক্তিদের উদ্ধার করতে গিয়েই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। খবর দেওয়া হয় স্থানীয় থানা এবং দমকল বাহিনীকে।

দমকলের বেশ কয়েকটি ইঞ্জিন এবং বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে নিকটবর্তী হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়েছে। হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের আঘাত অত্যন্ত গভীর এবং তাদের শারীরিক অবস্থা বেশ আশঙ্কাজনক। ঘটনার আকস্মিকতায় পুরো মীরা রোড এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, মৃত ব্যক্তির পরিচয় নিশ্চিত করার প্রক্রিয়া চলছে। প্রাথমিকভাবে পুলিশের ধারণা, মৃত ব্যক্তি ওই নির্মাণ প্রকল্পেই কর্মরত একজন শ্রমিক ছিলেন।

প্রাথমিক তদন্তের পর পুলিশ জানিয়েছে, কী কারণে বা কোন যান্ত্রিক ত্রুটির ফলে ১৩ তলা থেকে ক্রেনটি এভাবে ভেঙে পড়ল, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রকল্পের নিরাপত্তা বিধি সঠিকভাবে মানা হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বড় অংশ জুড়ে থাকবে। নির্মাণ কাজের সময় যথাযথ সুরক্ষা ব্যবস্থা ছিল কি না এবং ক্রেনটি ঠিকঠাক রক্ষণাবেক্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাঁধতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দীর্ঘ দিন ধরেই এই এলাকায় নির্মাণ কাজের সুরক্ষা ব্যবস্থা ও নিয়ম বহির্ভূত কাজকর্ম নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন।

মীরা রোডের এই আবাসিক প্রকল্পটিতে বেশ কিছু সুবিশাল ভবন রয়েছে এবং সেখানে প্রচুর পরিবার বসবাস করেন। দুর্ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে এক তীব্র আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ঘটনার পরপরই পুলিশ পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে এবং সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ করে দেয়। আপাতত ওই অংশে সব ধরনের নির্মাণ কাজ পুরোপুরি স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার বিস্তারিত তদন্ত শুরু হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে পুলিশি সূত্রে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এই ঘটনায় ঠিক কতজন শ্রমিক ওই সময় নিচে কাজ করছিলেন এবং এই দুর্ঘটনার পিছনে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি সংস্থার কোনো গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদেরও তলব করা হতে পারে। আহতদের পরিবারের সদস্যদের খবর দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আহতদের চিকিৎসার ওপর সর্বতোভাবে জোর দিচ্ছে এবং তাদের সুস্থ করে তোলার আপ্রাণ চেষ্টা চলছে।

এখনও পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট নির্মাণকারী সংস্থার পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি পাওয়া যায়নি। দুর্ঘটনার পর থেকেই এলাকাটি পুলিশি নজরদারিতে রাখা হয়েছে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে যাতে কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি না হয়। তদন্তকারী দল ক্রেনটির ভেঙে যাওয়া ধাতব অংশ পরীক্ষা করছে। তারা খতিয়ে দেখছে এটি কি অতিরিক্ত ভার বহনের কারণে ভেঙেছে, নাকি ক্রেনের যান্ত্রিক কাঠামোতেই কোনো বড় ধরনের ত্রুটি ছিল। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের জন্য ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন নমুনা সংগ্রহ করা হচ্ছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় মৃত ব্যক্তির পরিবারকে কোনো ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে কি না বা নির্মাণ সংস্থার দায়বদ্ধতা কতটা, তা নিয়েও আইনি প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঘটনাটির পরবর্তী বিস্তারিত আপডেট পাওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট মহলের সাথে যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে। নির্মাণাধীন প্রকল্পগুলোতে নিরাপত্তার অভাব যে কতটা ভয়াবহ হতে পারে, এই দুর্ঘটনাটি আবারও তার প্রমাণ দিল। প্রশাসনিক স্তরে এখন পূর্ণাঙ্গ তদন্তের অপেক্ষা।