কলকাতা: বর্তমান বিশ্বের দ্রুত পরিবর্তনশীল প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজ্যের পড়ুয়াদের দক্ষ করে তুলতে এক অভিনব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী মাস থেকে পশ্চিমবঙ্গের ১২৯টি সরকারি ও সরকার অনুমোদিত বিদ্যালয়ে চালু হচ্ছে এআই বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের বুনিয়াদি কোর্স। মূলত অর্থনৈতিকভাবে প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে থাকা পড়ুয়াদের আধুনিক প্রযুক্তিতে সড়গড় করতেই এই বিশেষ পাঠ্যক্রমের পরিকল্পনা করেছে ‘কম্পিউটার শিক্ষা’ নামক একটি সংস্থা।
বর্তমান সময়ে দাঁড়িয়ে কম্পিউটার বা ইন্টারনেটের প্রাথমিক জ্ঞানের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকা অত্যন্ত জরুরি। এই প্রয়োজনীয়তার কথা মাথায় রেখেই পাঠ্যক্রমটি সাজানো হয়েছে। সংস্থা সূত্রে জানানো হয়েছে, মোট ১২টি স্ব-শিক্ষামূলক ভিডিওর (Self-learning videos) মাধ্যমে পড়ুয়াদের এই বিষয়ে পাঠ দান করা হবে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ভিডিওগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে শিক্ষার্থীরা খুব সহজেই জটিল বিষয়গুলো বুঝতে পারে।
ডিজিটাল দুনিয়ায় এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব অপরিসীম। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রেও এই বিষয়ের গুরুত্ব ক্রমশ বাড়ছে। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পরিকাঠামোর অভাবে বা আর্থিক সমস্যার কারণে পিছিয়ে পড়া পড়ুয়ারা এই ধরণের অত্যাধুনিক শিক্ষা থেকে বঞ্চিত থাকে। সেই খামতি পূরণ করতেই ‘কম্পিউটার শিক্ষা’ সংস্থার এই উদ্যোগ। এর ফলে রাজ্যের প্রায় ৩০ হাজার পড়ুয়া ঘরে বসেই বিশ্বমানের প্রযুক্তি শিক্ষার সুযোগ পাবে।
প্রকল্পটি কার্যকর করার জন্য সংশ্লিষ্ট স্কুলগুলির সঙ্গে ইতিমধ্যেই আলোচনা সারা হয়েছে। আগামী মাস থেকেই পর্যায়ক্রমে ভিডিও টিউটোরিয়ালগুলি পৌঁছে দেওয়া হবে পড়ুয়াদের কাছে। সংস্থার লক্ষ্য হল, প্রযুক্তির এই জয়যাত্রা থেকে যেন কোনও পড়ুয়াই পিছিয়ে না থাকে। বিশেষ করে যারা অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল, তাদের হাতে এই ডিজিটাল হাতিয়ার তুলে দিয়ে সমাজের মূল স্রোতে শামিল করাই এই প্রকল্পের অন্যতম প্রধান উদ্দেশ্য।
রাজ্যের শিক্ষাবিদদের একাংশ মনে করছেন, এই ধরণের উদ্যোগ বাংলার স্কুল স্তরের প্রযুক্তিগত শিক্ষার মানকে আরও উন্নত করবে। গ্রামীণ ও শহরতলীর যে সমস্ত পড়ুয়ারা উন্নত কোচিং বা ইন্টারনেটের সুযোগ পায় না, তাদের জন্য এই ১২টি শিক্ষামূলক ভিডিও এক নতুন দিগন্ত খুলে দেবে। প্রযুক্তির ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং বাস্তব জীবনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকবে এই পাঠ্যক্রমে।
এই উদ্যোগটি সফল হলে আগামী দিনে রাজ্যের আরও বেশি সংখ্যক স্কুলে এই ধরণের প্রযুক্তিভিত্তিক প্রশিক্ষণ চালুর সম্ভাবনা রয়েছে। আপাতত আগামী মাসের শুরু থেকে এই ৩০ হাজার পড়ুয়ার হাতে নতুন প্রযুক্তির পাঠ তুলে দিতে সবরকম প্রস্তুতি সেরে ফেলেছে সংস্থাটি। ডিজিটাল ইন্ডিয়া বা আধুনিক বাংলার স্বপ্নপূরণে এই ক্ষুদ্র প্রয়াস এক বড় ভূমিকা নিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।








