শিলিগুড়ির উপকণ্ঠে এক আদিবাসী নারীকে নির্মমভাবে শারীরিক ও মানসিকভাবে নিগ্রহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকা কার্যত রণক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে। অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্থানীয় আদিবাসী সমাজ ও সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে আসলে পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটে। ঘটনার সূত্রপাত হয় কয়েকদিন আগে, যখন এক আদিবাসী নারী স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির দ্বারা লাঞ্ছিত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই মহিলার পরিবারের পক্ষ থেকে স্থানীয় থানায় অভিযোগ জানানো হলেও পুলিশের নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ তোলে গ্রামবাসী। এর ফলে পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে রাজপথের আন্দোলনে। বিক্ষোভকারীরা প্রথমে শিলিগুড়ি সংলগ্ন প্রধান সড়ক অবরোধ করে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করতে থাকে। এতে যান চলাচল সম্পূর্ণ স্তব্ধ হয়ে যায়। পরিস্থিতির গুরুত্ব বুঝে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়। পুলিশ বিক্ষোভকারীদের শান্ত করার চেষ্টা করলে দুপক্ষের মধ্যে বচসা শুরু হয়। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, এক পর্যায়ে পুলিশ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে লাঠিচার্জ শুরু করলে বিক্ষোভকারীরাও পাল্টা ইটবৃষ্টি শুরু করে। দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মী এবং সাধারণ মানুষ আহত হয়েছেন। আদিবাসী সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, পুলিশের ভূমিকা প্রথম থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ ছিল। তারা আরও অভিযোগ করেন, নির্যাতিতার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পরিবর্তে পুলিশ অভিযুক্তদের রক্ষা করার চেষ্টা করছে। প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করছেন। এলাকার দোকানপাট ও বাজার মুহূর্তের মধ্যে বন্ধ হয়ে যায়। স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক বিরাজ করছে। বিক্ষোভকারীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, যতক্ষন না মূল অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে এবং নির্যাতিতা নারী ন্যায়বিচার পাচ্ছেন, ততক্ষন এই আন্দোলন চলবে। এই ঘটনার রেশ উত্তরবঙ্গের অন্যান্য জেলাগুলোতেও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাও এই ঘটনায় প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। বিরোধী পক্ষ সরকারের কড়া সমালোচনা করে নারী নিরাপত্তার প্রশ্নে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছে। অন্যদিকে শাসক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে এবং কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। এই মূহুর্তে ওই এলাকায় র্যাফ এবং টিয়ার গ্যাস ইউনিট মজুত রাখা হয়েছে যাতে পরিস্থিতি আবার হাতের বাইরে না চলে যায়। পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্তারা জানিয়েছেন যে পরিস্থিতির ওপর গভীর নজর রাখা হচ্ছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আক্রমণকারীদের শনাক্ত করার কাজ চলছে। তবে আদিবাসী সমাজের ক্ষোভের এই বহিঃপ্রকাশ শিলিগুড়ির প্রশাসনিক মহলে নতুন করে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। নিগৃহীতা নারীর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হলেও মানসিক ভাবে তিনি অত্যন্ত বিপর্যস্ত। তাকে যথাযথ চিকিৎসা ও নিরাপত্তা প্রদানের আশ্বাস দিয়েছে স্থানীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন। এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, যেখানে নাগরিক সমাজ একযোগে দোষীদের শাস্তি দাবি করছেন। সব মিলিয়ে শিলিগুড়ির এই ঘটনাটি বর্তমান সময়ে নারী নিরাপত্তা ও সামাজিক সংহতির প্রশ্নে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।








