Mohammad Raad: ইজরায়েলি হামলায় নিহত হিজবুল্লাহর নেতা মহম্মদ রাদ

লেবানন ও ইজরায়েলের মধ্যকার সংঘাত এক চরম উত্তেজনার মোড় নিল। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন হিজবুল্লাহর প্রভাবশালী সংসদীয় শাখার প্রধান মহম্মদ রাদ। লেবাননের রাজধানী বেইরুট এবং দেশের দক্ষিণ প্রান্তের একাধিক কৌশলগত অবস্থানে এই হামলা চালানো হয় বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে। যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের পরিস্থিতি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জটিল হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের এই সংঘাতের জেরে মহম্মদ রাদের মৃত্যু হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক এবং সামরিক বিন্যাসে একটি বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ইজরায়েলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, তাদের নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই সুনির্দিষ্ট অপারেশনটি চালানো হয়েছিল। বেইরুটের একাধিক এলাকা যেখানে হিজবুল্লাহর শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত, সেখানে মুহুর্মুহু বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গিয়েছে। স্থানীয় সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, রাদের অবস্থান সম্পর্কে আগে থেকেই নিশ্চিত ছিল ইজরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। লেবাননের দক্ষিণ প্রান্ত যেখানে গত কয়েক মাস ধরে অবিরাম সংঘর্ষ চলছে, সেখানেও সমানতালে বোমাবর্ষণ করেছে ইজরায়েলি যুদ্ধবিমান। মহম্মদ রাদ হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান নীতিনির্ধারক ছিলেন। সংসদীয় রাজনীতিতে তার উপস্থিতি এবং দলের রণকৌশল নির্ধারণে তার ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তার মৃত্যুর পর হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়ার অপেক্ষা করা হচ্ছে। তবে এই ঘটনার জেরে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের আগুন আরও ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে হিজবুল্লাহ ও ইজরায়েলের মধ্যে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণের মাত্রা বহুগুণ বেড়েছে। ইজরায়েল দাবি করেছে যে তারা তাদের উত্তর সীমান্তে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হিজবুল্লাহর পরিকাঠামো ধ্বংস করতে বদ্ধপরিকর। অন্যদিকে, লেবাননের বিভিন্ন জনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই হামলার ফলে সাধারণ নাগরিকদের মধ্যেও প্রবল আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মহম্মদ রাদের মতো হেভিওয়েট নেতার মৃত্যুতে লেবাননের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা দেখা দিচ্ছে। বেইরুটের হামলায় প্রাণহানির সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। ইজরায়েলি সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র জানিয়েছেন, মহম্মদ রাদ এবং তার সহযোগীরা ইজরায়েলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছিলেন। যদিও হিজবুল্লাহ এই দাবিকে সরাসরি অস্বীকার করে আসছে। আপাতত পুরো লেবানন জুড়ে উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বিশেষ করে বেইরুট এবং দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত এলাকাগুলোতে সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যেতে বলা হয়েছে। ইজরায়েলি বিমান বাহিনীর এই সফল অভিযান লেবানন সীমান্তে যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়। বিশ্বশক্তিগুলো ইতিমধ্যেই দুই পক্ষকে সংযত থাকার আহ্বান জানিয়েছে, কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে শান্তি পুনরুদ্ধারের কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। মহম্মদ রাদের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই তার অনুগামীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। বেইরুটের রাস্তায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। সামরিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই মৃত্যুর ফলে হিজবুল্লাহ ইজরায়েলের বিরুদ্ধে পালটা কোনো বড় পদক্ষেপ নিতে পারে, যা এই অঞ্চলের স্থিতিশীলতাকে পুরোপুরি নষ্ট করে দিতে পারে। ইজরায়েলি ডিফেন্স ফোর্স বা আইডিএফ জানিয়েছে যে তারা যেকোনো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে প্রস্তুত। যুদ্ধবিমানগুলো এখনো দক্ষিণ লেবাননের আকাশে চক্কর দিচ্ছে। আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক স্তরেও এই হামলা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। লেবানন সরকার এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছে। তবে ইজরায়েল স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে তারা কোনো আপস করবে না। মহম্মদ রাদের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার এবং হিজবুল্লাহর ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। তার মৃত্যুর প্রভাব কেবল লেবাননে নয়, বরং পুরো মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে। বেইরুটের ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন মৃতদেহ উদ্ধারের কাজ চলছে। স্থানীয় হাসপাতালগুলো রক্তদান এবং জরুরি চিকিৎসার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এই প্রাণঘাতী হামলার পর লেবানন জুড়ে শোকের ছায়া এবং চরম উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।