দুর্গাপুর: কয়লা পাচার মামলার (Coal smuggling case) তদন্তে ফের সক্রিয় হয়ে উঠল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। মঙ্গলবার সকালে দুর্গাপুরে এক উচ্চপদস্থ পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে হানা দিলেন কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার প্রতিনিধিরা। এই অভিযানকে কেন্দ্র করে গোটা শিল্পাঞ্চলে ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। রাজ্য পুলিশের ওই কর্মীর বিরুদ্ধে কয়লা পাচারের লভ্যাংশ নেওয়া এবং পাচারকারীদের মদত দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে বলে প্রাথমিক সূত্রে জানা গিয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল থেকেই দুর্গাপুরের সিটি সেন্টার এলাকায় কেন্দ্রীয় বাহিনীর জওয়ানদের মোতায়েন হতে দেখা যায়। নির্দিষ্ট গোপন খবরের ভিত্তিতে এবং আগের জিজ্ঞাসাবাদের তথ্যের রেশ ধরে এদিন ওই পুলিশ আধিকারিকের আবাসন ও সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় তল্লাশি শুরু করেন ইডি আধিকারিকরা। তদন্তকারীদের দাবি, কয়লা পাচার চক্রের পান্ডাদের সঙ্গে ওই আধিকারিকের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল এবং আর্থিক লেনদেনের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তাদের হাতে এসেছে। সেই সূত্রেই এই তল্লাশি অভিযান চালানো হচ্ছে।
কয়লা পাচার মামলায় এর আগেও একাধিকবার রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে তল্লাশি চালিয়েছে কেন্দ্রীয় সংস্থা। অনুপ মাঝি ওরফে লালার বয়ানের ওপর ভিত্তি করে এর আগে অনেককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। সূত্রের খবর, আজকের এই তল্লাশিতে অভিযুক্ত আধিকারিকের ব্যাংক অ্যাকাউন্টের নথিপত্র, সম্পত্তির দলিল এবং মোবাইল ফোন পরীক্ষার কাজ চলছে। বাড়ির প্রতিটি কোণ তন্নতন্ন করে দেখা হচ্ছে। কয়লা পাচারের কালো টাকা কোথায় কোথায় বিনিয়োগ করা হয়েছে, তা জানাই এখন গোয়েন্দাদের মূল লক্ষ্য।
গত কয়েক বছর ধরে কয়লা পাচার কাণ্ড নিয়ে রাজ্য রাজনীতি সরগরম। ইডি এবং সিবিআই দুই সংস্থাই এই মামলার তদন্ত করছে। এর আগে একাধিক প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতা ও প্রশাসনিক আধিকারিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। মঙ্গলবার দুর্গাপুরের এই পুলিশ আধিকারিকের বাড়িতে অভিযানের পর ধারণা করা হচ্ছে যে, তদন্তের পরিধি আরও বাড়তে পারে। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, এই পাচার চক্রে আর কোন কোন উচ্চপদস্থ আধিকারিক যুক্ত রয়েছেন।
বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ইডি আধিকারিকরা জিজ্ঞাসাবাদের গতি আরও বাড়িয়েছেন। তল্লাশি চলাকালীন বাড়ির বাইরে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়েছে যাতে বাইরের কেউ ভেতরে প্রবেশ করতে না পারে। পুলিশি সূত্রের খবর, দুর্গাপুর ও পার্শ্ববর্তী খনি অঞ্চল থেকে বেআইনিভাবে কয়লা পাচারের যে চক্র দীর্ঘ সময় ধরে চলছিল, সেখানে এই আধিকারিক পরোক্ষ বা প্রত্যক্ষভাবে সাহায্য করতেন কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিকেল পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, তল্লাশি জারি রয়েছে এবং বেশ কিছু ডিজিটাল এভিডেন্স সংগ্রহ করেছেন গোয়েন্দারা।







