Aparna Sen: কলকাতা আমার কাছে এক জীবন্ত ও প্রাণবন্ত সত্তা: অপর্ণা সেন

Film maker Aparna Sen

কলকাতা: প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক অপর্ণা সেন (Aparna Sen)তাঁর সৃজনশীল যাত্রাপথ এবং শহর কলকাতার সঙ্গে নিজের গভীর ও বিবর্তিত সম্পর্কের বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে, চলচ্চিত্রের কাজে দ্রুতির চেয়ে নিপুণ নির্মাণশৈলী বা ক্রাফট অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বরাবরই সূক্ষ্ম গল্পবলা এবং শব্দের চেয়ে নীরবতার মধ্যে যে সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে, তাকেই পর্দায় ফুটিয়ে তোলার পক্ষপাতী। অপর্ণা সেনের চলচ্চিত্রে বারবার ঘুরেফিরে এসেছে এক ধরণের মানবিকতা, যা সরাসরি এই শহরের জীবনদর্শন থেকে অনুপ্রাণিত।

দীর্ঘ কয়েক দশকের চলচ্চিত্র জীবনে তিনি লক্ষ্য করেছেন কীভাবে কলকাতার পারিপার্শ্বিকতা এবং ভূপ্রকৃতি বদলে যাচ্ছে। এই পরিবর্তন তাঁর শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গিকেও বারবার প্রভাবিত করেছে। সেন (Aparna Sen) জানান, কলকাতার এই বদলে যাওয়া ল্যান্ডস্কেপ বা ভূচিত্রের মধ্যেও তিনি খুঁজে পান এক স্পন্দন। শহরের অলিগলি থেকে শুরু করে তার উৎসবমুখর মেজাজ—সবটাই তাঁর সিনেমার অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছে। তবে এই অগ্রগতির মাঝেও তিনি এক ধরণের নস্টালজিয়া বা স্মৃতিকাতরতা অনুভব করেন, যা তাঁর কাজের মধ্যে গভীরতা যোগ করে।

অপর্ণা সেন বিশ্বাস করেন, সিনেমার ভাষা হতে হবে সংবেদনশীল। তাঁর কাছে গল্প বলার চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো গল্পের পেছনের সূক্ষ্ম কারুকাজ। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, জীবন বা গল্পের না বলা কথাগুলো অনেক সময় উচ্চকিত সংলাপের চেয়েও বেশি শক্তিশালী হয়। কলকাতার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতি এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন সংগ্রাম তাঁকে প্রতিনিয়ত নতুন কিছু সৃষ্টি করতে উদ্বুদ্ধ করে। এই শহর তাঁকে কেবল পরিচালক হিসেবে নয়, একজন মানুষ হিসেবেও পরিণত করেছে।

শহরের বদলে যাওয়া রূপ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন যে, স্মৃতির প্রেক্ষাপটে বর্তমান কলকাতাকে দেখা এক অন্যরকম অনুভূতি। পুরানো স্থাপত্যের জায়গায় নতুন ইমারত বা জীবনযাত্রার পরিবর্তনের মধ্যেও তিনি কলকাতার সেই আদি প্রাণশক্তি খুঁজে পান। তাঁর মতে, একজন শিল্পীর কাজ হলো পরিবর্তনের এই প্রবাহকে নিজের সৃষ্টির মধ্যে ধারণ করা। কলকাতার প্রতি এই টান এবং আবেগই তাঁকে বারবার নতুন নতুন বিষয়ের ওপর কাজ করতে উৎসাহিত করে।

পরিশেষে তিনি আবারও জোর দিয়ে বলেন যে, গতি নয়, বরং কাজের গুণগত মানই একজন নির্মাতার আসল পরিচয় হওয়া উচিত। শিল্পের প্রতি তাঁর এই নিষ্ঠা এবং শহর কলকাতার প্রতি ভালোবাসা আগামী প্রজন্মের চলচ্চিত্রকারদের কাছে এক বড় পাওনা হয়ে থাকবে। অপর্ণা সেনের কাছে কলকাতা আজও এক বহমান জলধারার মতো, যা প্রতিনিয়ত নিজেকে নতুন করে চিনে নিতে শেখায়।