ভারতের সংবিধান অনুযায়ী, দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে পদচ্যুত করা সাধারণ কোনো প্রশাসনিক পদক্ষেপ নয়। এটি একটি সুদীর্ঘ এবং অত্যন্ত সুনির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়া। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিকে যে পদ্ধতিতে অপসারিত করা হয়, প্রধান নির্বাচন কমিশনারের ক্ষেত্রেও ঠিক একই নিয়ম প্রযোজ্য। এই বিশেষ ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন কমিশনের মতো একটি স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখা এবং পদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। তবে যদি কোনো গুরুতর অনিয়ম বা অসদাচরণের অভিযোগ ওঠে, তবেই কেবল এই ইমপিচমেন্ট বা অপসারণের প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হয়।
বর্তমান রাজনৈতিক ডামাডোলে বিরোধী পক্ষ যখন নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে, তখন এই সাংবিধানিক অধিকারের বিষয়টি পুনরায় চর্চায় উঠে এসেছে। নিয়ম অনুসারে, যখনই কোনো প্রধান নির্বাচন কমিশনারের বিরুদ্ধে তদন্ত বা অপসারণের প্রস্তাব আনা হয়, তখনই তাঁকে আত্মপক্ষ সমর্থনের পূর্ণ সুযোগ দেওয়া হয়। এটি প্রাকৃতিক ন্যায়বিচারের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ। সংশ্লিষ্ট পদাধিকারী চাইলে নিজের হয়ে সওয়াল করার জন্য দক্ষ এবং অভিজ্ঞ আইনি পরামর্শদাতা বা আইনজীবী নিয়োগ করতে পারেন। এই লিগ্যাল কাউন্সিল নিয়োগের অধিকারটি তাঁকে দেওয়া হয়েছে যাতে তিনি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলির আইনি মোকাবিলা করতে পারেন এবং নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে পারেন।
তদন্ত চলাকালীন অভিযুক্ত পদাধিকারীর নিযুক্ত আইনজীবী সংসদীয় কমিটি বা তদন্তকারী দলের সামনে যাবতীয় নথি এবং তথ্য প্রমাণ পেশ করার সুযোগ পান। ভারতীয় বিচারব্যবস্থার মূল ভিত্তিই হলো অভিযোগ প্রমাণের আগে কাউকে দোষী সাব্যস্ত না করা। সেই অনুসারেই দেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার(Chief Election Commissioner) তাঁর পদের মর্যাদা এবং অভিযোগের ভিত্তিহীনতা প্রমাণে লিগ্যাল কাউন্সিলের সাহায্য নিতে পারেন। বিরোধীরা যদি অপসারণের দাবিতে অনড় থাকে, তবে সংসদীয় প্রক্রিয়ার সমান্তরালে এই আইনি লড়াইটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে দাঁড়ায়।
সমগ্র প্রক্রিয়ায় আইনি পরামর্শদাতার ভূমিকা কেবল আদালতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং সংসদের উভয় কক্ষে যখন এই বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, তখনও সংশ্লিষ্ট পদাধিকারী তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আইনি ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারেন। সংবিধান প্রণেতারা অত্যন্ত দূরদর্শিতার সাথে এই সংস্থান রেখেছিলেন যাতে কোনো ক্ষমতাসীন সরকার বা বিরোধী গোষ্ঠী রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এই পদের অপব্যবহার করতে না পারে। তাই ইমপিচমেন্টের মতো জটিল প্রক্রিয়ায় আইনি সহায়তার অধিকারটি প্রধান নির্বাচন কমিশনারের জন্য একটি অত্যন্ত শক্তিশালী সুরক্ষাকবচ হিসেবে কাজ করে।







