ভারতীয় ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড (বিসিসিআই) ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজিকে আট পৃষ্ঠার একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। এতে কিছু গুরুতর প্রোটোকল লঙ্ঘনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করার পাশাপাশি এমন কিছু স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে, যা অদূর ভবিষ্যতে কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
বিসিসিআই সচিব দেবজিৎ সাইকিয়ার ১০টি ফ্র্যাঞ্চাইজির সিইওদেরকে লেখা চিঠির একটি অনুলিপি পিটিআই-এর কাছে রয়েছে। সাইকিয়া চিঠিতে বলেছেন। “চলতি মরশুমে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে এই নির্দেশিকাটি জারি করা হয়েছে এবং এর লক্ষ্য হলো আইপিএলের সঙ্গে যুক্ত সকল পক্ষের কাছ থেকে প্রত্যাশিত পেশাদারিত্ব, শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা সচেতনতা এবং প্রোটোকল মেনে চলার মানকে আরও জোরদার করা।”
বিসিসিআই-এর দুর্নীতি দমন ও নিরাপত্তা ইউনিট (এসিএসইউ) কিছু নিয়ম লঙ্ঘনের ঘটনা রিপোর্ট করেছে এবং বোর্ড সেগুলো চিহ্নিত করে পরিস্থিতি স্পষ্ট করেছে।
বিসিসিআই-এর নজরে এসেছে যে চলতি আইপিএল মরশুমে খেলোয়াড়, সাপোর্ট স্টাফ সদস্য এবং দলের কর্মকর্তাদের অসদাচরণ ও প্রোটোকল লঙ্ঘনের কিছু ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনাগুলোর সমাধান না করা হলে, তা টুর্নামেন্ট, সংশ্লিষ্ট ফ্র্যাঞ্চাইজি এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বিসিসিআই-এর সুনামের গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। এর ফলে ব্যক্তি ও ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলো গুরুতর আইনি দায় এবং নিরাপত্তা ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে,” সাইকিয়া বলেন।
বিসিসিআই-এর প্রধান উদ্বেগ হলো খেলোয়াড়দের হোটেল কক্ষে ‘অননুমোদিত ব্যক্তিদের’ প্রবেশ। চিঠিতে বলা হয়েছে, “দেখা গেছে যে কিছু খেলোয়াড় এবং সাপোর্ট স্টাফ সদস্য সংশ্লিষ্ট আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজি দলের ম্যানেজারের অজান্তে বা অনুমতি ছাড়াই অননুমোদিত ব্যক্তিদের তাদের হোটেল কক্ষে প্রবেশ করতে দিয়েছেন। অনেক ক্ষেত্রে, দলের ম্যানেজার এই ধরনের অতিথিদের উপস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণভাবে অজ্ঞাত ছিলেন। এই কার্যকলাপ অবিলম্বে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হলো।”
সকল খেলোয়াড় এবং সহায়ক কর্মীদেরও তিন দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, যা মেনে চলা বাধ্যতামূলক হবে।
প্রথমত: টিম ম্যানেজারের পূর্ব বিজ্ঞপ্তি এবং সুস্পষ্ট লিখিত অনুমতি ব্যতীত, কোনো ব্যক্তি, তার পরিচয়, দলের সদস্যের সাথে সম্পর্ক বা ঘোষিত উদ্দেশ্য নির্বিশেষে, কোনো খেলোয়াড় বা সহায়ক কর্মীর হোটেল কক্ষে প্রবেশ করতে পারবে না।
দ্বিতীয়ত: অতিথি ও দর্শনার্থীদের শুধুমাত্র হোটেলের নির্ধারিত সাধারণ স্থান, যেমন লবি বা হোটেল রিসেপশন লাউঞ্জে গ্রহণ করা হবে। টিম ম্যানেজারের লিখিত অনুমতি ছাড়া কোনো অতিথিকে হোটেলের ব্যক্তিগত কক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে না।
তৃতীয়ত: বিসিসিআই সকল ফ্র্যাঞ্চাইজির দৃষ্টি আকর্ষণ করছে শীর্ষস্থানীয় ক্রীড়া আসরগুলিতে লক্ষ্যবস্তু করে যৌন শোষণ এবং হানি-ট্র্যাপিংয়ের (এক ধরনের ইচ্ছাকৃত গুপ্তচরবৃত্তি বা ব্ল্যাকমেইলিং, যেখানে প্রেম, যৌন আকর্ষণ বা মানসিক প্রলোভনের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তিকে প্রলুব্ধ করা হয়) ঝুঁকির বিষয়ে। এই ধরনের ঘটনার সম্ভাবনা, যা যৌন অসদাচরণ সংক্রান্ত ভারতীয় আইন অনুযায়ী গুরুতর আইনি অভিযোগের কারণ হতে পারে, তা উপেক্ষা করা যায় না। এই ধরনের ঝুঁকি প্রশমিত করার জন্য আইপিএল ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলিকে অবশ্যই সর্বদা সতর্ক এবং সক্রিয় থাকতে হবে।








