শপথের মঞ্চে শ্যামাপ্রসাদের সহযোগীকে সংবর্ধনা দিলেন নরেন্দ্র মোদী

কলকাতার ঐতিহাসিক ব্রিগেড প্যারেড গ্রাউন্ডে শুভেন্দু আধিকারিকের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠান, যেখানে বিপুল সংখ্যক মানুষ সমবেত হয়েছিলেন। এরই মধ্যে, মঞ্চ থেকে তোলা একটি ছবি সবার নজর কাড়ে। প্রধানমন্ত্রী মোদী একজন বয়স্ক ব্যক্তির গায়ে চাদর জড়িয়ে দেন, তাঁর পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করেন এবং তাঁকে আলিঙ্গন করেন। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী তাঁকে আলিঙ্গন করেই দীর্ঘক্ষণ ধরে সেই বয়স্ক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। প্রধানমন্ত্রী মোদীর এই অঙ্গভঙ্গি সকলের মনে একটি প্রশ্ন জাগিয়ে তোলে: এই বয়স্ক ব্যক্তিটি ঠিক কে, যাঁর সম্মানে প্রধানমন্ত্রী মোদী মাথা নত করেছেন? তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক। 

বাংলার প্রবীণতম বিজেপি কর্মী

বাংলায় বিজেপির প্রথম সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পশ্চিমবঙ্গের বিজেপির অন্যতম প্রবীণ কর্মী মাখনলাল সরকারকে অভিনন্দন জানান এবং তাঁর আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন। ১৯৫২ সালে, কাশ্মীরে ভারতীয় ত্রিবর্ণ পতাকা উত্তোলনের একটি আন্দোলনে শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর সঙ্গে থাকার সময় মাখনলাল সরকার গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। ৯৮ বছর বয়সেও, মাখনলাল সরকার স্বাধীনতা-পরবর্তী ভারতের জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত প্রথম দিকের ব্যক্তিত্বদের মধ্যে অন্যতম।

৯৮ বছর বয়সী মাখনলাল সরকার শিলিগুড়ির বাসিন্দা। তিনি শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জির সহযোগী ছিলেন এবং তাঁর অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শোভাযাত্রার অংশ ছিলেন। একটি দেশাত্মবোধক গান গাওয়ার জন্য কংগ্রেস-শাসিত দিল্লি পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। তিনি আদালতে ক্ষমা চাইতে অস্বীকার করেন। তিনি আদালতে সেই একই গান গেয়েছিলেন, এবং বিচারক তাঁকে বাড়ি ফেরার জন্য একটি প্রথম শ্রেণীর টিকিট ও ১০০ টাকা দেওয়ার আদেশ দেন। 

১৯৮০ সালে বিজেপি গঠিত হওয়ার পর তিনি পশ্চিম দিনাজপুর, জলপাইগুড়ি এবং দার্জিলিং জেলার সাংগঠনিক সমন্বয়কারী হন। মাত্র এক বছরের মধ্যে তিনি প্রায় ১০,০০০ সদস্য তালিকাভুক্ত করতে সাহায্য করেন। ১৯৮১ সাল থেকে তিনি টানা সাত বছর জেলা সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যা ছিল এক অসাধারণ কৃতিত্ব। সেই সময়ে বিজেপি নেতারা সাধারণত দুই বছরের বেশি একই সাংগঠনিক পদে থাকতে পারতেন না।