নেপালের চা উৎপাদনকারীরা একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তাঁরা ঘোষণা করেছেন যে, আগামী ১৮ই জুন, বৃহস্পতিবার থেকে তাঁরা অনির্দিষ্টকালের জন্য চা উৎপাদন স্থগিত রাখবেন। এর কারণ হলো, নেপাল থেকে আমদানি করা চায়ের জন্য ভারত পরিদর্শন প্রক্রিয়া কঠোর করেছে। ভারত বলছে, তারা নিশ্চিত করতে চায় যে আমদানিকৃত চা যেন ভারতীয় গুণমানের মানদণ্ড পূরণ করে, অর্থাৎ তা যেন সর্বোৎকৃষ্ট মানের হয়। এই সিদ্ধান্তটি নেপালের চা শিল্পের জন্য অসুবিধা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে, কারণ ভারতই এর বৃহত্তম ক্রেতা।
ভারতের সিদ্ধান্ত এবং নেপালের সমস্যা
পিটিআই জানিয়েছে, গত সপ্তাহে টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়া বলেছে যে, আমদানিকৃত চা ভারতীয় মানদণ্ড মেনে চলছে কিনা তা নিশ্চিত করতে তারা অন্যান্য দেশ থেকে আসা চায়ের পরিদর্শন আরও কঠোর করেছে। টি বোর্ড অফ ইন্ডিয়ার ভাইস-চেয়ারম্যান সি. মুরুগান বলেন, “আমরা নেপাল থেকে আসা চা সহ ভারতে আসা সমস্ত চায়ের শতভাগ পরিদর্শন শুরু করেছি।”
তিনি বলেন, ভোক্তাদের সুরক্ষা এবং গুণগত মান বজায় রাখতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই নিয়মটি ভারতে অভ্যন্তরীণ ব্যবহারের জন্য আমদানি করা চায়ের পাশাপাশি মিশ্রণ ও পুনঃরপ্তানির উদ্দেশ্যে আনা চায়ের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
নেপালের চা উৎপাদনকারীরা কী বলছেন?
এক বিবৃতিতে নেপাল চা উৎপাদক সমিতি জানিয়েছে যে, ভারতীয় চা বোর্ড একটি নতুন নিয়ম চালু করার পর হিমালয়ের এই দেশটির চা উৎপাদকরা চা রপ্তানিতে অসুবিধার সম্মুখীন হচ্ছেন। সমিতির সাধারণ সম্পাদক শুক্র দাহাল বুধবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, প্রতি বছর প্রায় ৫০০ কোটি নেপালি রুপি মূল্যের চা ভারতে রপ্তানি করা হয়। তিনি বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মতো বিকল্প বাজারে নেপালি চায়ের রপ্তানি বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নিতে নেপাল সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
বুধবার সংসদে এ বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে নেপালের কৃষি, বন ও পরিবেশ মন্ত্রী গীতা চৌধুরী বলেন, চা রপ্তানিকারকদের বর্তমান সমস্যা সমাধানে সরকার কারিগরি ও কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। সাংসদদের প্রশ্নের জবাবে গীতা চৌধুরী বলেন, সরকারের প্রচেষ্টা ইতিবাচক দিকে এগোচ্ছে।








