নকল ওষুধে লাগবে রাশ! এবার স্ক্যান করলেই জানা যাবে আসল-নকল, নয়া নিয়ম কেন্দ্রের

সন্দীপন দাস, কলকাতা: বাজারে নকল এবং নিম্নমানের ওষুধের রমরমা রুখতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিল কেন্দ্রীয় সরকার। প্রেসক্রিপশন দেখে ওষুধ কেনার পর সাধারণ মানুষের মনে অনেক সময়ই সংশয় থাকে— ওষুধটা আসল তো? এবার সেই আশঙ্কার অবসান ঘটতে চলেছে। এখন থেকে জীবনদায়ী ওষুধ আসল না নকল, তা সাধারণ মানুষ নিজেই নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে যাচাই করে নিতে পারবেন। সৌজন্যে— ওষুধের প্যাকেটে থাকা বিশেষ কিউআর কোড (QR Code)।

কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রক ১৯৪৫ সালের ঔষধ বিধি সংশোধন করে বেশ কিছু অত্যন্ত জরুরি ওষুধকে ‘শিডিউল এইচ২’ (Schedule H2) শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত করেছে। আগে এই নিয়মটি দেশের প্রথম সারির মাত্র ৩০০টি ব্র্যান্ডের ক্ষেত্রে চালু থাকলেও, এবার এর পরিধি অনেক বাড়ানো হলো। ক্যানসার, মানসিক অবসাদ বা অ্যান্টিবায়োটিকের মতো সংবেদনশীল ও গুরুতর রোগের ওষুধকে এই নিয়মের আওতায় আনা হয়েছে। ওষুধ তৈরির কারখানা থেকে শুরু করে তা রোগীর হাত পর্যন্ত পৌঁছানোর সম্পূর্ণ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনাই সরকারের মূল লক্ষ্য।

স্ক্যান করলেই মিলবে কোন কোন তথ্য?

ওষুধের প্যাকেটে থাকা কিউআর কোড বা বারকোডটি মোবাইলের মাধ্যমে স্ক্যান করলেই স্ক্রিনে ভেসে উঠবে যাবতীয় খুঁটিনাটি:

* ওষুধের আসল ব্র্যান্ডের নাম এবং তার জেনেরিক নাম।

* প্রস্তুতকারী সংস্থার নাম ও সম্পূর্ণ ঠিকানা।

* ওষুধের ব্যাচ নম্বর (Batch Number)।

* ওষুধটি তৈরির তারিখ (Manufacturing Date) এবং মেয়াদ শেষের তারিখ (Expiry Date)।

* প্রস্তুতকারী সংস্থার লাইসেন্স নম্বর।

জরুরি নিয়ম: ওষুধের শিশি বা পাতা যদি খুব ছোট হয়, তবে তার বাইরের মূল প্যাকেজিং বা কার্টনের ওপর এই কিউআর কোড ছাপানো বাধ্যতামূলক। কিউআর কোড ছাড়া নির্দিষ্ট ওষুধ বিক্রি করা এখন থেকে সম্পূর্ণ বেআইনি বলে গণ্য হবে।

কবে থেকে কার্যকর হচ্ছে এই নিয়ম?

ওষুধ প্রস্তুতকারী সংস্থাগুলিকে প্রস্তুতি নেওয়ার সময় দিয়ে সরকার দুটি দফায় এই নিয়ম কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে:

*সময়সীমা ও যে যে ওষুধের ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক*

১ জুলাই, ২০২৬ থেকে সমস্ত ধরনের ভ্যাকসিন (টিকা), ক্যানসারের ওষুধ এবং মানসিক রোগের (যেমন বিষণ্ণতা) ওষুধ।

**১ জুলাই, ২০২৮ থেকে  সব ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক বা জীবাণুনাশক ওষুধ।

চিকিৎসক থেকে শুরু করে ওষুধ ব্যবসায়ী এবং সাধারণ রোগী— সরকারের এই সময়োপযোগী সিদ্ধান্তকে সকলেই স্বাগত জানাচ্ছেন। এর ফলে ওষুধের কালোবাজারি এবং নকল ওষুধের মারণ থাবা থেকে সাধারণ মানুষের জীবন অনেকটাই সুরক্ষিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।