২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে সর্বকালের সবচেয়ে বড় অঘটনটি দেখা গেল। ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে ৩৪তম স্থানে থাকা প্যারাগুয়ে এক রোমাঞ্চকর পেনাল্টি শুটআউটে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে ৪-৩ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে দিয়েছে। নির্ধারিত ৯০ মিনিট ও অতিরিক্ত সময় শেষে ম্যাচটি ১-১ গোলে ড্র হওয়ায় খেলা পেনাল্টি শুটআউটে গড়ায়।
৯০ মিনিট শেষে স্কোর ১-১
ম্যাচে, প্রথমার্ধের ৪২তম মিনিটে প্যারাগুয়ে এগিয়ে যায়। মিগেল আলমিরন একটি দুর্দান্ত পাসে মাতিয়াস গালারজাকে বল দেন, যিনি একটি চমৎকার ক্রস করেন। জার্মান ডিফেন্ডারদের থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হয়ে হুলিও এনসিসো হেডের মাধ্যমে গোল করে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। তবে, দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে জার্মানি ম্যাচে ফিরে আসে। ৫২তম মিনিটে, ফ্লোরিয়ান উইর্টজের ক্রস থেকে কাই হ্যাভার্টজ একটি দুর্দান্ত হেডের মাধ্যমে স্কোর ১-১ এ সমতা ফেরান। এরপর উভয় দলই অনেক সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু কেউই জয়সূচক গোলটি করতে পারেনি।
অতিরিক্ত সময়ের ১০২তম মিনিটে জার্মানি এগিয়ে গেছে বলেই মনে হচ্ছিল। একটি কর্নার থেকে জোনাথন তাহ হেড করে বল জালে জড়ান, কিন্তু ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি (ভিএআর) পর্যালোচনায় দেখা যায় যে, ওয়াল্ডেমার আন্তন গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিলকে ধাক্কা দিয়েছিলেন। গোলটি বাতিল হয়ে যাওয়ায় প্যারাগুয়ে বড় ধরনের স্বস্তি পায়।

২৪ বছরের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিল
এরপর পেনাল্টি শুটআউটের মাধ্যমে ম্যাচের নিষ্পত্তি হয়। শেষ পর্যন্ত দুই দলই সমানে সমানে ছিল, কিন্তু সাডেন ডেথে হোসে কানালে প্যারাগুয়েকে এগিয়ে দেন। গোলরক্ষক অরল্যান্ডো গিল দুটি গুরুত্বপূর্ণ সেভ করে জার্মানির আশা ধূলিসাৎ করে দেন এবং প্যারাগুয়ে ৪-৩ গোলের এক ঐতিহাসিক জয় তুলে নেয়। প্রায় ২৪ বছর আগে, ২০০২ বিশ্বকাপের প্রি-কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানি প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে পরাজিত করেছিল। এবার প্যারাগুয়ে সেই হারের প্রতিশোধ নিল। শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়ে এখন ফ্রান্স ও সুইডেনের মধ্যকার ম্যাচের বিজয়ীর মুখোমুখি হবে। যদি তারা তাদের পরবর্তী ম্যাচেও জয়লাভ করে, তবে তারা কোয়ার্টার ফাইনালে নিজেদের স্থান নিশ্চিত করবে।

টানা তৃতীয় বিশ্বকাপে হতাশাজনক অভিযান
এই পরাজয় জার্মানির জন্য আরও বেশি হতাশাজনক ছিল, কারণ তারা গ্রুপ পর্বে ১০টি গোল করে সর্বোচ্চ গোলদাতা দলগুলোর মধ্যে ছিল। প্রথমার্ধে তাদের বলের দখল ছিল ৭৮ শতাংশ, কিন্তু তারা প্যারাগুয়ের দুর্ভেদ্য রক্ষণ ভেদ করতে পারেনি। ২০১৪ বিশ্বকাপ জেতার পর এটি ছিল জার্মানির প্রথম নকআউট ম্যাচ। আগের দুটি বিশ্বকাপে জার্মান দল গ্রুপ পর্বেই বাদ পড়েছিল, আর এবার নকআউট পর্বে পৌঁছেও তাদের যাত্রা ৩২ দলের রাউন্ডেই শেষ হয়ে যায়।








