প্রভু কারও অহঙ্কার সয় না, তাই সরকার উল্টাল!’ দিঘায় ‘ধাম’ বিতর্ক নিয়ে মমতাকে বেনজির তোপ পুরীর মুখ্য দয়িতাপতির

পুরী: রথযাত্রার পুণ্যলগ্নেই বাংলার রাজনৈতিক মহলে তীব্র আলোড়ন। এবার সরাসরি রাজ্যের সদ্য প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিশানা করলেন পুরীর জগন্নাথ দেবের মুখ্য বাড়গ্রাহী তথা দয়িতাপতি জগন্নাথ দয়িতাপতি। তাঁর বিস্ফোরক দাবি, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় অহঙ্কারবশত তাঁর কথা শোনেননি এবং দিঘার মন্দিরে ‘ধাম’ লিখেছিলেন। আর সেই অহঙ্কারের কারণেই বাংলায় এবার সরকার পড়ে গিয়েছে (পালাবদল হয়েছে)।

একই সঙ্গে বর্তমান শাসকদলের নেতা শুভেন্দু অধিকারীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ হয়েছেন তিনি। শুভেন্দুকে নিজের ‘শিষ্য’ বলে উল্লেখ করে তাঁর সিদ্ধান্তের প্রশংসাও করেছেন পুরীর এই প্রধান সেবায়েত।

মমতা আমার কথা শোনেনি, শুভেন্দু ধাম কেটে দিল’

পুরীতে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে জগন্নাথ দয়িতাপতি স্পষ্ট জানান, তিনি কোনো রাজনীতি করেন না, যা ন্যায়সঙ্গত সেটাই বলেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশ্যে ক্ষোভ উগরে দিয়ে তিনি বলেন, “আমি কোনো রাজনীতি করি না। যেটা লিগাল, আমি সেটাই বলি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আমার কথা শুনল না। দিঘায় (জগন্নাথ মন্দিরে) ‘ধাম’ লিখল। আমার কথা কিচ্ছু মানল না, পাথরের মূর্তি করল। প্রভু কারও অহঙ্কার সহ্য করেন না। শুভেন্দু আসল, ও তো আমার শিষ্য। ও আসার পরই সঙ্গে সঙ্গে ওই ‘ধাম’ শব্দটা কেটে দিল।”

তিনি আরও যোগ করেন, ধাম লিখে কী লাভ আছে? ধাম তো একটাই—জগন্নাথ ধাম। এই রকম তো হাজার হাজার মন্দির তৈরি হচ্ছে। কী আর আছে… (মমতার) সরকার উল্টে গেল। ভগবান কারও গর্ব সয় না, এই জন্যই বাংলায় সরকার ওল্টাল।”

বাংলার রথযাত্রা কমিটিকে অনুদান: আপ্লুত সেবায়েত

রাজনৈতিক আক্রমণ শানালেও, বাংলার সাধারণ মানুষের প্রতি নিজের ভালোবাসার কথা জানাতে ভোলেননি মুখ্য দয়িতাপতি। সম্প্রতি বাংলার নতুন সরকারের তরফ থেকে রাজ্যের পুরনো রথযাত্রা কমিটিগুলিকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা করা হয়েছে। সরকারের এই সিদ্ধান্তে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বলেন, চৈতন্য মহাপ্রভুর দেশ বাংলাকে আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি শ্রদ্ধা করি। বাংলার মানুষকে আমি মন থেকে আশীর্বাদ জানাই।”