১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরলেন তসলিমা নাসরিন

নির্বাসিত বাংলাদেশী লেখিকা তসলিমা নাসরিন শুক্রবার (৩১ জুলাই, ২০২৬) প্রায় ১৯ বছর পর কলকাতায় ফিরেছেন। এই সফরকে তিনি এক আবেগঘন প্রত্যাবর্তন হিসেবে বর্ণনা করেছেন, এমন একটি শহরে যেখানে তিনি এখনও নিজেকেই মনে করেন।

নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছে নাসরিন হাতজোড় করে তাঁর জন্য অপেক্ষারতদের অভিবাদন জানিয়ে বলেন, ‘ফিরে এসে আমার খুব ভালো লাগছে।’

শনিবার রবীন্দ্র সদনে একটি মৌলবাদ-বিরোধী সাহিত্য কর্মসূচির আগে তিনি এই সফরে এসেছেন, যেখানে তাঁর কবিতা আবৃত্তি করার কথা রয়েছে।

পশ্চিমবঙ্গের নতুন বিজেপি সরকারের অধীনে এই অনুষ্ঠানটি রাজনৈতিক তাৎপর্য লাভ করেছে, কারণ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এবং বিশিষ্ট লেখক শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় এতে উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

সফরের আগে এক সাক্ষাৎকারে তসলিমা বলেন, কলকাতায় ফেরাটা তাঁর কাছে নিজের দেশে ফেরার মতো মনে হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ” আমার মনে হচ্ছে যেন আমি নিজের দেশের ফিরছি। আমার হৃদয়ে বাংলা কখনও কোনও সীমান্ত বা কাঁটাতারের বেরা দিয়ে বিভক্ত হয়নি। বাংলার পূর্বাঞ্চলের দরজা আমার জঞ্জ্য বন্ধই রয়েছে, তাই আপাতত বাংলার এই অংশটুকুই আমার বাড়ি।”

তসলিমা নাসরিন বলেন, তিনি আনন্দ ও বেদনা উভয় নিয়েই ফিরছেন। তিনি স্মরণ করেন, ২০০৭ সালের নভেম্বরে তাঁর লেখালেখি নিয়ে হওয়া সহিংস প্রতিবাদের মুখে শহর ছাড়তে বাধ্য হওয়ার আগে কলকাতা তাঁকে একটি ঘর, পাঠক, বন্ধু এবং আপন করে নেওয়ার অনুভূতি দিয়েছিল।

২০০৭ সালের নভেম্বরে ব্যাপক প্রতিবাদের মুখে তসলিমা নাসরিন কলকাতা ছাড়তে বাধ্য হন। কিছু গোষ্ঠী তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই ‘দ্বিখণ্ডিত’-এর বিষয়বস্তুর তীব্র বিরোধিতা করে এবং বইটির বিরুদ্ধে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ তোলে। তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকারের আমলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সেনাবাহিনী মোতায়েন করতে হয়, যার পরে তসলিমাকে কলকাতা থেকে জয়পুর এবং তারপর দিল্লিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। ২০০৪ সালে কলকাতাকে নিজের দ্বিতীয় বাড়ি বানিয়ে নেওয়া তসলিমা তখন থেকেই দীর্ঘমেয়াদী বসবাসের অনুমতি নিয়ে দিল্লিতে বসবাস করেছেন। বর্তমানে বসবাসের ঠিকানা আমেরিকা। সেখান থেকে আজ কলকাতায় এসেছেন।