ফৌজদারি মামলায় খালাস পেয়ে আদালত থেকে বড় স্বস্তি পেলেন প্রাক্তন ভারতীয় ক্রিকেটার

ভারতের প্রাক্তন ক্রিকেটার জ্যাকব মার্টিন আদালত থেকে বড় ধরনের স্বস্তি পেয়েছেন। পাতিয়ালা হাউস কোর্ট ২২ বছর পুরোনো একটি ফৌজদারি মামলায় তাঁকে সমস্ত অভিযোগ থেকে খালাস দিয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০, ৪৬৮, ৪৭১, ১২০বি ধারা এবং পাসপোর্ট আইনের ১২ ধারার অধীনে অভিযোগ আনা হয়েছিল। মার্টিন ১৯৯৯ থেকে ২০০১ সালের মধ্যে ভারতের হয়ে ১০টি ওয়ানডে খেলেছেন।

মার্টিন জ্যাকবের বিরুদ্ধে জাল অভিবাসন স্ট্যাম্প সংগ্রহ, আর্থিক লেনদেন এবং ভ্রমণ ব্যবস্থার অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়নি। আর্থিক লেনদেন কিংবা আজওয়া স্পোর্টস ক্লাবের ওপর তার মালিকানা বা নিয়ন্ত্রণের কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ আদালত পায়নি। সাক্ষীরাও অভিযোগগুলো প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

আদালত জ্যাকব মার্টিনকে দোষমুক্ত ঘোষণা করেছে। পরে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এই প্রাক্তন ক্রিকেটার জানান যে, ২০০৪ সালে তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল, যখন তাঁর দলের একজন সদস্য ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যুক্তরাজ্যে থেকে যান এবং একটি জাল অভিবাসন স্ট্যাম্প নিয়ে ভারতে ফিরে আসেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, মূল এফআইআর-এ তাঁর নাম অন্তর্ভুক্তই ছিল না, কিন্তু তদন্ত চলাকালে তা যুক্ত করা হয়। তিনি মনে করেন, তিনি একজন আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার হওয়ার কারণেই এমনটা করা হয়েছিল।

মামলার কারণে চাকরি হারিয়েছিলেন

জ্যাকব মার্টিন বলেছেন যে, এই মামলার কারণে তিনি রেলওয়ের চাকরি হারিয়েছেন এবং ২২ বছর পুরোনো এই মামলাটি তাকে প্রচণ্ড মানসিক চাপে ফেলেছিল। তিনি বলেন, মামলা থেকে খালাস পাওয়াটা তার জন্য স্বস্তিদায়ক এবং জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়।

মার্টিন বলেন, “২০২৪ সালে আমার দল যুক্তরাজ্যে খেলতে গিয়েছিল। একজন ছেলে ছাড়া সবাই ফিরে আসে। যে ছেলেটি যুক্তরাজ্যে থেকে গিয়েছিল, সে ছয় মাস থাকতে পারত, কারণ ভিসার মেয়াদ ছিল ছয় মাস। কিন্তু সে ছয় মাসের বেশি থেকে যায় এবং অন্য একজনের মাধ্যমে একটি জাল স্ট্যাম্প করিয়ে নেয়। সে যখন ভারতে আসে, তখন আইজিআই বিমানবন্দরে তাকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।”

তিনি আরও বলেন, “এফআইআর-এ আমার নাম ছিল না, কিন্তু তদন্ত এগিয়ে যায় এবং ভারতের হয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলার কারণে আমার নাম যুক্ত করা হয়। এই বছরগুলোতে আমি বিসিসিআই-এর কাছ থেকে কোনো সাড়া পাইনি এবং এমনকি রেলওয়ের চাকরিও হারিয়েছি। আমি প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিলাম, কিন্তু এই সিদ্ধান্তটি আমাকে স্বস্তি দিয়েছে।”