পশ্চিমবঙ্গের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সফরসূচি ঘিরে তৈরি হওয়া অনিশ্চয়তা এক বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোমবার উত্তরের আকাশজুড়ে হঠাৎ নেমে আসা দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া এবং অতি নিম্ন দৃশ্যমানতার কারণে মাঝপথ থেকেই ফিরে আসতে বাধ্য হলো মুখ্যমন্ত্রীর হেলিকপ্টার। জানা গিয়েছে, মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়ি থেকে কালিম্পংয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। সেখানে পাহাড়ের প্রশাসনিক বৈঠক এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পাহাড়ি এলাকায় হঠাৎ করেই আবহাওয়ার যে চরম অবনতি ঘটে, তাতে বিমানবাহিনীর পাইলটরা যাত্রীদের সুরক্ষার খাতিরে আর ঝুঁকি না নেওয়ার কঠোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেন।
নির্ভরযোগ্য সূত্র মারফত জানা গেছে, হেলিকপ্টারটি ওড়ার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘন কুয়াশা এবং কালো মেঘের আস্তরণ আকাশপথকে ঢেকে দেয়, যার ফলে দৃশ্যমানতা অত্যন্ত কমে যায়। নিরাপত্তার নিরিখে পাইলট আকাশপথেই হেলিকপ্টারের দিক পরিবর্তন করে পুনরায় শিলিগুড়ির বাগডোগরা বা সংশ্লিষ্ট হেলিপ্যাডের দিকে ফিরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে পাইলটদের এই পেশাদারিত্বকে প্রশাসনিক মহল সাধুবাদ জানিয়েছে। এই ঘটনার ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে মুখ্যমন্ত্রীর কালিম্পং পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে এবং প্রশাসনিক স্তরে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। মুখ্যমন্ত্রীর এই সফরকে কেন্দ্র করে উত্তরবঙ্গের প্রশাসনিক দপ্তরে ব্যাপক তৎপরতা ও প্রস্তুতির আয়োজন ছিল, তবে প্রকৃতির এই রূঢ় রূপ পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করতে বড় বাধা সৃষ্টি করেছে।
উল্লেখ্য যে, বর্তমানে রাজ্যের শাসকদল বিজেপি। এই ঘটনার প্রেক্ষিতে প্রশাসনিক মহলে কিছুটা তোড়জোড় শুরু হলেও, মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত নিরাপত্তাকে সবসময়ই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। যদিও তিনি গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেননি, তবুও মুখ্যমন্ত্রীর পূর্বনির্ধারিত বৈঠক বাতিলের কোনো খবর পাওয়া যায়নি। বরং শিলিগুড়িতে বসেই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ভার্চুয়াল মাধ্যমে তিনি সংশ্লিষ্ট বৈঠকে যোগ দেবেন বলে প্রশাসনিক সূত্রে জোর ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। প্রয়োজনে ডিজিটাল মাধ্যমের সাহায্য নিয়ে তিনি কালিম্পংয়ের স্থানীয় প্রশাসনের আধিকারিকদের সাথে জরুরি প্রশাসনিক আলোচনা সারবেন। এতে কাজের গতি বজায় থাকবে এবং প্রশাসনিক কোনো ক্ষতি হবে না বলেই মনে করছে সরকার।
প্রশাসন সূত্রে আরও বিস্তারিত জানানো হয়েছে যে, পাহাড়ি অঞ্চলের আবহাওয়ার মতিগতি বোঝা সত্যিই অত্যন্ত কঠিন ও অনিশ্চিত। বিশেষ করে বর্ষার মরসুম ও তার পরবর্তী সময়ে আকাশ প্রায়শই মেঘাচ্ছন্ন থাকে, যা বিমান বা হেলিকপ্টার চলাচলের ক্ষেত্রে বড় ধরনের বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এদিন পাইলটরা যথেষ্ট সতর্কতা ও বিচক্ষণতা অবলম্বন করেছেন, যা প্রশংসনীয়। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যে প্রশাসনিক তৎপরতা বজায় রেখেছেন, সেই নিরিখে কালিম্পংয়ের এই বৈঠকটি অত্যন্ত জরুরি ছিল। রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় প্রশাসনিক বৈঠকে যে ধরনের শৈথিল্য বা দীর্ঘসূত্রতা দেখা যেত, বর্তমান শাসকদল বিজেপি সেই জায়গা থেকে পুরোপুরি সরে এসে আরও গতিশীল ও স্বচ্ছ প্রশাসনিক ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেছে। সে কারণেই প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতেও বিকল্প পথে প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে পাহাড়ের জনজীবন ও সুরক্ষা ব্যবস্থা বিঘ্নিত না হয়।
প্রাথমিকভাবে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, হেলিকপ্টারের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ঘটেনি। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক প্রতিকূলতার কারণেই এই বিপত্তি ঘটেছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে মুখ্যমন্ত্রী পরবর্তী সময়ে সশরীরে সফরে যেতে পারেন কি না, তা নিয়ে এখনও চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়নি। তবে কালিম্পংয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যাতে বৈঠকের প্রস্তুতি পুরোমাত্রায় বজায় রাখা হয় এবং ভার্চুয়াল সংযোগের সমস্ত কারিগরি ব্যবস্থা দ্রুত সম্পন্ন করা হয়। দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল ও জরুরি, তাই মুখ্যমন্ত্রী কোনোভাবেই এই আলোচনা স্থগিত রাখতে বা দীর্ঘায়িত করতে চাইছেন না। শিলিগুড়ি থেকেই তিনি রাজ্য প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিকদের সাথে নিরন্তর যোগাযোগ বজায় রেখেছেন এবং সার্বিক পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যালোচনা করছেন। সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা এবং প্রশাসনিক কাজকর্ম যাতে কোনোভাবেই ব্যাহত না হয়, সে বিষয়ে তিনি সদা সচেতন ও সক্রিয়। আপাতত মুখ্যমন্ত্রী শিলিগুড়িতেই অবস্থান করছেন এবং আবহাওয়া দপ্তর থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়ার সংকেত পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর। পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখা হচ্ছে এবং প্রশাসনিক কর্তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন।








