তৃণমূলের বর্তমান সংকটের কারণ অহংকার ও রামের অভিশাপ: মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু

রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে তৃণমূল কংগ্রেসের চরম বিপর্যয় ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলকে তীব্র কটাক্ষ করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, তৃণমূল কংগ্রেসের এই দুর্দিন কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়, বরং তাদের দলের নেতাদের অতিরিক্ত অহংকার এবং ভগবান রামের অভিশাপের ফলেই এই করুণ পরিণতি ডেকে এনেছে। মঙ্গলবার এক প্রশাসনিক বৈঠকের ফাঁকে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই বিস্ফোরক মন্তব্য করেন।

দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যে শাসনভার সামলানো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আমলে তৃণমূল কংগ্রেসের যে দাপট ছিল, বর্তমানে তা কার্যত মুখ থুবড়ে পড়েছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এদিন সেই প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “অহংকার পতনের মূল। তৃণমূলের নেতারা ভেবেছিলেন তারা আইনের ঊর্ধ্বে। কিন্তু এখন সাধারণ মানুষের আশীর্বাদ তো দূর, উল্টো রামের অভিশাপে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখাই দায় হয়ে পড়েছে।” রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের একাংশের মতে, রাজ্যের শাসক দল হিসেবে বিজেপি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই তৃণমূলের সাংগঠনিক কাঠামো ভেঙে পড়তে শুরু করেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে রাজনৈতিক প্রস্থান ও তৃণমূলের সাম্প্রতিক নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের জেরে দলের অন্দরে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তা এখন চরমে পৌঁছেছে।

উল্লেখ্য, নির্বাচন কমিশন সাম্প্রতিক উপনির্বাচনের প্রাক্কালে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম এবং দলীয় প্রতীক সাময়িক স্থগিত রাখার যে বিতর্কিত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, তা নিয়ে রাজ্য রাজনীতি উত্তপ্ত। এই প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, নির্বাচন কমিশনের এই সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভারতীয় জনতা পার্টির কোনো যোগসূত্র নেই। এটি সম্পূর্ণভাবে নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক অধিকার এবং দলের অভ্যন্তরীণ বিশৃঙ্খলার ফসল। তিনি আরও বলেন, “নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন সংস্থা। তারা কী সিদ্ধান্ত নেবে বা নেবে না, তা নিয়ে আমাদের হস্তক্ষেপ করার কোনো অবকাশ নেই। তৃণমূলের এই পরিস্থিতির জন্য তারা নিজেরাই দায়ী। নিজেদের কুকর্মের ফলেই আজ তারা দেউলিয়া।”

তৃণমূলের বর্তমান সংকট প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী আরও ব্যাখ্যা করেন যে, দলের অন্দরে এখন কার্যত দুই বা তার বেশি গোষ্ঠী তৈরি হয়েছে। একদিকে প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগত একটি অংশ নতুন নাম ও প্রতীক নিয়ে লড়াই করার প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে দলের অন্য একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী সম্পূর্ণ আলাদা পরিচয় তৈরির চেষ্টা চালাচ্ছে। এই দ্বিমুখী লড়াইয়ে তৃণমূল কংগ্রেস এখন কার্যত দুই ভাগে বিভক্ত। একদা শক্তিশালী রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে তৃণমূল যে ভঙ্গুর দশা প্রত্যক্ষ করছে, তা সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল।

মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। রাজ্যের বর্তমান শাসক দল বিজেপি এই সুযোগে তৃণমূলের ব্যর্থতাকে হাতিয়ার করে প্রচারের ময়দানে আরও আগ্রাসী ভূমিকা নিতে শুরু করেছে। যদিও তৃণমূলের তরফ থেকে এখনো এই মন্তব্যের কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে সূত্রের খবর, দলের শীর্ষ নেতৃত্ব এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে আইনি পরামর্শ নেওয়ার কথা ভাবছে। রাজ্যের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী যথেষ্ট কড়া মনোভাব দেখিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, কোনোভাবেই অরাজকতা বরদাস্ত করা হবে না। রাজনৈতিক দলগুলোর অভ্যন্তরীণ কোন্দল তাদের নিজস্ব বিষয়, কিন্তু তাতে যেন রাজ্যের সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবন প্রভাবিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর দিচ্ছে বর্তমান সরকার। आगामी দিনগুলোতে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজ্যের রাজনৈতিক পারদ আরও চড়বে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।