সেমিকন্ডাক্টর হাব হিসেবে ভারতের উত্থান, আশাবাদী কেন্দ্রীয় মন্ত্রী

ভারতের সেমিকন্ডাক্টর শিল্প নিয়ে আশার আলো দেখালেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অশ্বিনী বৈষ্ণব। নয়াদিল্লিতে আয়োজিত ‘সেমিকন ইন্ডিয়া’ সম্মেলনের মঞ্চ থেকে তিনি ভারতের ভবিষ্যতের রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন। মন্ত্রীর দাবি, ভারত এখন কেবল উচ্চাকাঙ্ক্ষী লক্ষ্যমাত্রার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং মাঠ পর্যায়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশ এক নতুন আত্মবিশ্বাসের পথে এগিয়ে চলেছে। সাংবাদিক পদ্মজা জোশীকে দেওয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে অশ্বিনী বৈষ্ণব জানান, বিশ্ববাজারে ভারতের গুরুত্ব ক্রমেই বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রযুক্তির জগতে দেশ এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে প্রস্তুত।

বর্তমান সময়ে গোটা বিশ্বে সেমিকন্ডাক্টর চিপের চাহিদা আকাশচুম্বী। এই পরিস্থিতিতে ভারত নিজেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে তুলে ধরতে বদ্ধপরিকর। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছরে ভারত যে পরিমাণ পরিকাঠামোগত উন্নয়ন করেছে, তা অভাবনীয়। বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর এবং কারখানা স্থাপনের কাজ দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলায় বিশ্বজুড়ে বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়ছে। ভারত এখন কেবল একটি বাজার নয়, বরং একটি উৎপাদনকারী কেন্দ্র হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করছে। এটি দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।

পশ্চিমবঙ্গের প্রেক্ষিতেও এই ধরনের উন্নয়ন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন সময়ে রাজ্যের শিল্পায়ন নিয়ে জোর দিয়েছেন এবং প্রযুক্তিনির্ভর অর্থনীতির ওপর বিশেষ নজর রেখেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় শিল্পক্ষেত্রে যে স্থবিরতা ছিল, তা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা চলছে বলে দাবি করেছে বর্তমান শাসক দল বিজেপি। রাজ্যের বর্তমান প্রশাসনের লক্ষ্য হলো কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সুবিধাকে কাজে লাগিয়ে রাজ্যকে সেমিকন্ডাক্টর হাবের সহযোগী করে তোলা। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেস অবশ্য সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে তাদের ভিন্ন মত পোষণ করেছে, তবে জাতীয় স্তরে এই অগ্রগতির প্রশংসা না করে পারছে না রাজনৈতিক মহল।

প্রযুক্তিগত উৎকর্ষ সাধনের লক্ষ্যে ভারত সরকার যে ‘সেমিকন ইন্ডিয়া’ প্রকল্পের সূচনা করেছে, তার সুফল ইতিমধ্যেই মিলতে শুরু করেছে। অশ্বিনী বৈষ্ণব উল্লেখ করেছেন, প্রকল্পের রূপায়ণ এখন আর কেবল নথিপত্রে সীমাবদ্ধ নেই। জমি নির্বাচন থেকে শুরু করে কাঁচামাল সংগ্রহ এবং দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির কাজ সমান্তরালভাবে চলছে। সরকার দেশীয় স্টার্টআপগুলোকে সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন এবং তৈরির ক্ষেত্রে বিশেষ প্রণোদনা দিচ্ছে। এতে তরুণ প্রজন্মের জন্য প্রচুর কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে বলে আশা করা হচ্ছে। দেশের প্রতিটি প্রান্তে প্রযুক্তির এই জোয়ার ছড়িয়ে দেওয়ার বিষয়ে কেন্দ্রীয় সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্ব রাজনীতিতে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে যখন সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসছে, তখন ভারত বিশ্বের কাছে এক নির্ভরযোগ্য বিকল্প হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করতে চাইছে। আমেরিকা, জাপান এবং তাইওয়ানের মতো উন্নত প্রযুক্তির দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক আরও নিবিড় হয়েছে। এই সহযোগিতার ফলে অত্যাধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান ভারতে পৌঁছানো সহজতর হয়েছে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর মন্তব্য সেই ধারাবাহিকতাই বহন করছে। দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারে রপ্তানিকারক হিসেবে ভারতকে প্রতিষ্ঠিত করাই হলো মূল লক্ষ্য।

পরিশেষে, ভারতের এই সেমিকন্ডাক্টর অভিযাত্রা আগামী কয়েক দশকে দেশের ভাগ্য বদলে দিতে পারে। ডিজিটাল ভারত গড়ার পথে এটি একটি বড় ধাপ। অশ্বিনী বৈষ্ণব যেভাবে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এই অগ্রগতির রিপোর্ট তুলে ধরেছেন, তাতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আশার সঞ্চার হয়েছে। প্রশাসনিক স্তরে সঠিক সমন্বয় এবং শিল্পোদ্যোগীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ থাকলে ভারত খুব শীঘ্রই বিশ্বের সেমিকন্ডাক্টর মানচিত্রে শীর্ষস্থানে উঠে আসবে। গোটা দেশের লক্ষ্য এখন একটাই—স্বনির্ভরতা এবং প্রযুক্তিগত সার্বভৌমত্ব। বিস্তারিত তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, এই প্রকল্পটি সফল হলে তা ভারতের অর্থনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আনবে।