প্রতিদিন রিলস দেখা কি আপনার মস্তিষ্কের ওপর প্রভাব ফেলছে? গবেষণায় কি জানা গেল?

আজকাল ইনস্টাগ্রাম রিলস, ইউটিউব শর্টস এবং অন্যান্য শর্ট ভিডিও প্ল্যাটফর্মগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে উঠেছে। আমরা টেরও পাই না কখন কয়েক মিনিটের জন্য শুরু হওয়া একটি স্ক্রোলিং সেশন আধ ঘণ্টা বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে থাকে। কিন্তু ক্রমাগত শর্ট ভিডিও দেখার এই অভ্যাসটি কেবল সময়ই নষ্ট করে না, বরং মনোযোগ এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণের মতো মানসিক প্রক্রিয়াগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় শর্ট ভিডিওর ব্যবহার এবং জ্ঞানীয় নিয়ন্ত্রণের মধ্যে একটি যোগসূত্র দেখানো হয়েছে।

ব্যবহারকারীদের কাছে ক্রমাগত নতুন বিষয়বস্তু পৌঁছে দেওয়ার জন্যই ছোট ভিডিও তৈরি করা হয়। প্রতি কয়েক সেকেন্ড পর পর পরিবর্তিত হওয়া ভিডিও, এর স্পষ্ট দৃশ্য এবং তথ্যের বৈচিত্র্য মস্তিষ্কের মনোযোগকে ক্রমাগত নিযুক্ত রাখে। ২০২৬ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব অংশগ্রহণকারী বেশি ছোট ভিডিও দেখেছেন, তাদের আত্ম-নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা এবং মনোযোগ নিয়ন্ত্রণের মধ্যে একটি নেতিবাচক সম্পর্ক রয়েছে। গবেষকরা একটি ‘গো/নো-গো’ টাস্ক ব্যবহার করে প্রতিরোধমূলক নিয়ন্ত্রণ এবং মনোযোগ পরীক্ষা করেছেন।

মনোযোগ ও আত্মনিয়ন্ত্রণ প্রভাবিত হতে পারে

২০২৪ সালে প্রকাশিত একটি ইইজি (EEG) গবেষণায় ৪৮ জন অংশগ্রহণকারী ছিলেন। গবেষকরা দেখেছেন যে, ছোট ভিডিওর প্রতি আসক্তি বাড়ার সাথে আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত সংকেতের হ্রাস ঘটে; নির্বাহী নিয়ন্ত্রণ হলো মস্তিষ্কের মনোযোগ ধরে রাখা এবং অবিবেচনাপ্রসূত প্রতিক্রিয়া দমন করার ক্ষমতা।

এর মানে এই নয় যে রিলস দেখলে মস্তিষ্কের স্থায়ী ক্ষতি হয়। উপলব্ধ গবেষণাগুলো মূলত পারস্পরিক সম্পর্ক দেখায়, এবং অনেক গবেষণারই সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যেমন সীমিত নমুনা বা ক্রস-সেকশনাল ডিজাইন।

পছন্দের ভিডিওগুলো আরও বেশি মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে

অন্য একটি গবেষণায় ৫৬ জন তরুণ প্রাপ্তবয়স্কের মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পরীক্ষা করা হয়, যখন তারা ছোট ভিডিও দেখছিল। প্রতিবেদন অনুসারে, পছন্দের ভিডিও দেখার সময় আত্ম-নিয়ন্ত্রণ এবং জ্ঞানীয় নিয়ন্ত্রণের সাথে জড়িত মস্তিষ্কের অঞ্চলগুলোর কার্যকলাপে পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। গবেষকরা এটিকে মনোযোগ এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণ সম্পর্কিত প্রক্রিয়ার সাথে যুক্ত করেছেন। এটি থেকে বোঝা যায় যে, সমস্যাটি শুধু ভিডিওর সংখ্যাই নয়, বরং ক্রমাগত এবং উদ্দেশ্যহীনভাবে স্ক্রল করার অভ্যাসও হতে পারে।

কী করা উচিত?

রিলস দেখতে দেখতে যদি আপনার সময়ের খেয়াল হারিয়ে যায়, তবে ছোট ছোট পরিবর্তন সাহায্য করতে পারে। অ্যাপে একটি দৈনিক সময়সীমা নির্ধারণ করা, নোটিফিকেশন কমানো এবং অবসর সময়ে উদ্দেশ্যহীন স্ক্রোলিং এড়িয়ে চলা একটি কার্যকরী সূচনা হতে পারে।

স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওকে সম্পূর্ণ ক্ষতিকর বলে উড়িয়ে না দিয়ে, এর ব্যবহারের ধরণ ও পরিমাণের ওপর মনোযোগ দেওয়াই মূল বিষয়। বিদ্যমান গবেষণা থেকে জানা যায় যে, অতিরিক্ত বা সমস্যাজনক স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিও ব্যবহার মনোযোগ এবং আত্ম-নিয়ন্ত্রণের সাথে সম্পর্কিত হতে পারে, কিন্তু এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব বোঝার জন্য আরও ব্যাপক দীর্ঘমেয়াদী গবেষণা প্রয়োজন।