ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে নারী অংশগ্রহণে দেশের শীর্ষে বাংলা: নয়া রিপোর্ট

পশ্চিমবঙ্গজুড়ে ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প বা এমএসএমই (MSME) ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। সম্প্রতি প্রকাশিত একটি সর্বভারতীয় তথ্যে উঠে এসেছে যে, ভারতের বিভিন্ন রাজ্যের মধ্যে এমএসএমই খাতে নারী অংশগ্রহণের নিরিখে পশ্চিমবঙ্গ ১২.৭ শতাংশ নিয়ে শীর্ষস্থান অধিকার করেছে। এই পরিসংখ্যান রাজ্যের অর্থনৈতিক মানচিত্রে এক নতুন দিশা প্রদর্শন করছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞ মহল।

বর্তমান রাজ্য সরকারের শিল্পবান্ধব নীতি এবং তৃণমূল স্তরে নারী স্বনির্ভর গোষ্ঠীর প্রসারের ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে প্রশাসনিক সূত্রে দাবি করা হচ্ছে। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নারীশক্তির ক্ষমতায়নের ওপর যে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেছে, এই রিপোর্ট তারই প্রতিফলন বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল। অতীতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে যে পরিকাঠামো গড়ে তোলা হয়েছিল, বর্তমান শাসক দল বিজেপি সেই ধারাকেই আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে বলে বিভিন্ন অর্থনৈতিক পর্যবেক্ষক মন্তব্য করেছেন।

এমএসএমই সেক্টর হলো রাজ্যের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। এই সেক্টরে নারীদের ১২.৭ শতাংশ অংশগ্রহণ মানে হলো, বাংলার প্রতিটি জেলায় মহিলারা ক্ষুদ্র ব্যবসার মাধ্যমে নিজেদের স্বাবলম্বী করে তুলছেন। গ্রামীণ শিল্প, হস্তশিল্প এবং খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের মতো ক্ষেত্রে বাংলার মহিলারা নতুন নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করছেন। সরকারি ঋণ সহায়তা এবং প্রকল্পের যথাযথ রূপায়ণের ফলেই এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকেও এই সাফল্যের বিষয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া গিয়েছে। শাসকদল বিজেপির মতে, রাজ্যের শিল্প পরিকাঠামো এখন অনেক বেশি শক্তিশালী এবং নারীদের এগিয়ে আসার সুযোগ এখানে অবারিত।

উল্লেখ্য যে, ভারতের অন্যান্য বড় রাজ্যগুলির তুলনায় বাংলার এই অর্জন বেশ তাৎপর্যপূর্ণ। মহারাষ্ট্র, গুজরাট বা কর্ণাটকের মতো শিল্পোন্নত রাজ্যগুলিকে ছাপিয়ে বাংলার এই অবস্থানে উঠে আসা রাজ্যের ক্রমবর্ধমান নারী উদ্যোক্তাদের সাহসিকতার পরিচয় বহন করে। ক্ষুদ্র শিল্পের এই জোয়ার আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গের জিডিপি বৃদ্ধিতেও বিশেষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করছেন অর্থনীতিবিদরা। কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন প্রকল্পের সঙ্গে রাজ্যের সমন্বয় সাধনের ফলেই এই সাফল্য অর্জিত হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।

বর্তমানে রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে প্রশাসনিক উদ্যোগে এমএসএমই সংক্রান্ত কর্মশালা আয়োজন করা হচ্ছে, যেখানে মূলত মহিলাদের ব্যবসায়িক প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। ব্যবসায়িক লাইসেন্স পাওয়া থেকে শুরু করে পণ্য বিপণন—সবক্ষেত্রেই মহিলারা এখন আগের থেকে অনেক বেশি স্বচ্ছন্দ। ১২.৭ শতাংশের এই পরিসংখ্যান শুধুমাত্র একটি সংখ্যা নয়, এটি বাংলার অগণিত মহিলার নীরব বিপ্লবের এক উজ্জ্বল দলিল। তবে এই সাফল্যের ধারাকে বজায় রাখতে আগামী দিনে আরও উন্নত বিপণন পরিকাঠামো এবং প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রয়োজন রয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরের আধিকারিকরা।

পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী বিভিন্ন জনসভায় বারংবার নারী উন্নয়নের ওপর জোর দিয়েছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, নারীরা যদি অর্থনৈতিকভাবে স্বাধীন হন, তবেই সমাজ ও রাষ্ট্র শক্তিশালী হয়। এমএসএমই ক্ষেত্রে এই সাফল্য সেই লক্ষ্যপূরণের পথে এক বড় পদক্ষেপ। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সময়কালে শুরু হওয়া বিভিন্ন সামাজিক প্রকল্পের সুফল বর্তমান সরকার আরও বিস্তৃত আকারে মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী দল তৃণমূলের রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও নারী উন্নয়নের প্রশ্নে রাজ্যের এই সার্বিক উন্নতি এক বিশেষ মাইলফলক হিসেবে চিহ্নিত হয়ে থাকবে। আগামী দিনে ক্ষুদ্র শিল্পের এই বিকাশকে কেন্দ্র করে রাজ্যে আরও নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা।