২ কোটি প্রবীণকে ৯০ ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ট্রাম্পের

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে ঘিরে উত্তাপ ক্রমশই বাড়ছে। রাজনৈতিক প্রচারের এই অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতিতে প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রপতি ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নতুন ও যুগান্তকারী প্রতিশ্রুতি নিয়ে ভোটারদের সামনে হাজির হয়েছেন। ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ঘোষণা অনুযায়ী, তিনি যদি পুনরায় ক্ষমতায় আসেন, তবে প্রায় ২ কোটি বা ২০ মিলিয়ন প্রবীণ নাগরিককে মাসিক মেডিক্যার প্রিমিয়াম বাবদ ৯০ ডলার করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। এই বিশাল এবং ব্যয়বহুল পদক্ষেপটি প্রবীণ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই নেওয়া হয়েছে বলে অভিজ্ঞ রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মত। নির্বাচনী আবহে ট্রাম্পের এই বার্তা প্রবীণ ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করবে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

প্রাক্তন রাষ্ট্রপতির এই ঘোষণার মূল লক্ষ্য হলো মার্কিন প্রবীণদের কাঁধ থেকে স্বাস্থ্যের ক্রমবর্ধমান খরচ কমানো। মেডিক্যার ব্যবস্থা মার্কিন স্বাস্থ্য পরিষেবার একটি অবিচ্ছেদ্য এবং অপরিহার্য অংশ। তবে মুদ্রাস্ফীতির বাজারে এই খাতে প্রিমিয়ামের ক্রমবর্ধমান বোঝা অনেক প্রবীণ নাগরিকের পক্ষেই বহন করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছে। ট্রাম্পের এই প্রতিশ্রুতি সেই ভার কিছুটা হলেও লাঘব করবে বলে দাবি করা হচ্ছে। ট্রাম্প নিজে এই সংক্রান্ত যাবতীয় অর্থনৈতিক উদ্বেগকে উড়িয়ে দিয়ে জোর গলায় দাবি করেছেন যে, বর্তমানে মার্কিন অর্থনীতি যথেষ্ট শক্তিশালী এবং দ্রুতগতিতে উন্নতির পথে অগ্রসর হচ্ছে। সেই সমৃদ্ধ অর্থনীতির সুফল যাতে সাধারণ প্রবীণ মানুষের কাছে সরাসরি পৌঁছাতে পারে, সেই লক্ষ্যেই তিনি এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন।

তবে এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে অর্থনীতিবিদদের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। সমালোচকদের মতে, সরকারি কোষাগার থেকে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ বরাদ্দ করা মার্কিন অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী বাড়তি চাপের সৃষ্টি করতে পারে। যদিও ট্রাম্পের যুক্তি হলো, বর্তমান মার্কিন অর্থনীতি যে হারে বিকশিত হচ্ছে, তাতে এই ব্যয়ভার বহন করা কোনো অসম্ভব কাজ নয়। তিনি বারবার আশ্বস্ত করে বলছেন যে, মার্কিন অর্থনীতির এই গতি বা জোয়ার কোনোভাবেই স্তিমিত হওয়ার সম্ভাবনা নেই। বর্তমানে অর্থনীতির চাকা সচল থাকার ফলেই এই ধরনের জনকল্যাণমূলক প্রকল্প ঘোষণা করা সম্ভব হচ্ছে বলে তিনি বিশ্বাস করেন।

উল্লেখ্য যে, ট্রাম্পের এই ঘোষণা এমন এক সময়ে এল, যখন মার্কিন রাজনীতিতে বিভিন্ন অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে প্রবীণ ভোটাররা সবসময়ই একটি অত্যন্ত নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করেন। ফলে এই ২ কোটি প্রবীণ নাগরিকের কাছে সরাসরি আর্থিক সুবিধার বার্তা পৌঁছে দিয়ে ট্রাম্প ভোটব্যাংকে নিজেদের শক্ত অবস্থান নিশ্চিত করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। ডেমোক্র্যাট বা অন্যান্য বিরোধী পক্ষ এই বিষয়ে কী প্রতিক্রিয়া দেয়, তা এখন দেখার বিষয়। যদিও ট্রাম্পের এই পরিকল্পনার বিশদ রূপরেখা বা এটি কার্যকর করার আইনি পদ্ধতি সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য বর্তমানে খুব একটা উপলব্ধ নেই, তবুও এটি নির্বাচনী প্রচারণার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

অন্যদিকে, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতির প্রেক্ষাপটে জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের গুরুত্ব অপরিসীম। যদিও বিশ্ব রাজনীতির সংযোগ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই স্বাস্থ্য নীতির প্রভাব সরাসরি আমাদের রাজ্যে পড়ার সম্ভাবনা কম, তবুও প্রবীণ নাগরিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তা উভয় দেশেই সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। মার্কিন প্রবীণদের জন্য ট্রাম্পের এই ‘৯০ ডলার’ নীতি শেষ পর্যন্ত কতটা বাস্তবায়িত হয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বিশ্ববাসী। মার্কিন অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে ট্রাম্প যে অটল আত্মবিশ্বাস দেখিয়েছেন, তা আগামী দিনে কতটা বজায় থাকে, তা নির্বাচনের ফলাফলের ওপর অনেকটাই নির্ভর করছে। এই ধরনের আর্থিক প্রতিশ্রুতি ভোটারদের প্রভাবিত করার একটি পুরনো কৌশল হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমানের কঠিন মুদ্রাস্ফীতির বাজারে প্রবীণদের জন্য এই পরিমাণ অর্থ সহায়তা বেশ আকর্ষণীয় বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। নির্বাচনী লড়াইয়ের শেষ লগ্ন পর্যন্ত এই প্রতিশ্রুতি নিয়ে বিতর্ক এবং আলোচনার পারদ যে চড়তেই থাকবে, তা বলাই বাহুল্য। মার্কিন গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ এবং প্রবীণ নাগরিকদের ভাগ্য এখন অনেকটা এই অর্থনৈতিক প্রতিশ্রুতির ওপরই দাঁড়িয়ে রয়েছে।