ভিসার মেয়াদ ফুরোতেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কৃত দুই ইরানি প্রতিনিধি

আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ফের নতুন করে উত্তাপ ছড়াল ওয়াশিংটন ও তেহরানের সম্পর্ক। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ভাবে জানানো হয়েছে যে, দুই ইরানি প্রতিনিধিকে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, এই দুই প্রতিনিধি তাদের ভিসার মেয়াদ অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও মার্কিন ভূখণ্ডে অবস্থান করছিলেন, যা দেশটির অভিবাসন আইন ও কূটনৈতিক প্রটোকলের চরম লঙ্ঘন বলে মনে করছে বাইডেন প্রশাসন। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের পক্ষ থেকে এই কড়া পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্ব সহকারে দেখছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন আধিকারিক জানিয়েছেন, মার্কো রুবিও বর্তমানে কোনো ধরনের শৈথিল্য প্রদর্শনের পক্ষপাতী নন। তিনি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন যে, জাতীয় নিরাপত্তা ও আইনের শাসন বজায় রাখার ক্ষেত্রে ওয়াশিংটন সর্বদা আপসহীন। কূটনৈতিক মহলের মতে, মার্কো রুবিও যে তার কঠোর মনোভাবের মাধ্যমে একটি স্পষ্ট বার্তা দিতে চাইছেন, তা এই ঘটনার মাধ্যমেই প্রমাণিত হয়েছে। মূলত, কোনো দেশের প্রতিনিধিরাই মার্কিন আইনের উর্ধ্বে নন, তা ফের একবার মনে করিয়ে দিল মার্কিন প্রশাসন।

উল্লেখ্য যে, এই ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিদের পরিচয় সম্পর্কে খুব বেশি তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি। কেন এবং কোন পরিস্থিতিতে তারা ভিসার মেয়াদ ফুরোনোর পরেও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে থেকে গিয়েছিলেন, তা নিয়ে এখনো ধোঁয়াশা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থাগুলোর খবর অনুযায়ী, ওয়াশিংটন অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পুরো বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। দীর্ঘ সময় ধরে চলা ইরান ও আমেরিকার কূটনৈতিক টানাপোড়েনের মাঝে এই নতুন ঘটনাটি দুই দেশের সম্পর্কের ওপর কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেদিকেই নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিককালে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। মার্কো রুবিওর অধীনে মার্কিন পররাষ্ট্র নীতি আরও বেশি আগ্রাসী ও নিয়ম-নিষ্ঠ হয়ে উঠছে। সেই ধারারই একটি অংশ হিসেবে এই বহিষ্কারের ঘটনাটিকে দেখা হচ্ছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া এখনও পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের কথায়, এই দুই প্রতিনিধিকে অবিলম্বে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং তাদের পুনরায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ আরোপ করা হতে পারে।

উল্লেখ্য, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ এবং ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির প্রেক্ষাপটে এই ঘটনাটির গুরুত্ব অপরিসীম। পশ্চিমবঙ্গের শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের মধ্যে রাজনৈতিক বাকবিতণ্ডা যখন তুঙ্গে, তখন আন্তর্জাতিক স্তরের এমন খবরের গুরুত্ব আমাদের রাজ্যের রাজনীতির প্রেক্ষিতেও অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। যদিও ঘটনাটি সরাসরি পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে যুক্ত নয়, তবে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক টানাপোড়েন বিশ্ব অর্থনীতির ওপর যে প্রভাব ফেলে, তা কলকাতার বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার যখন রাজ্যের পরিকাঠামো উন্নয়নের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগের কথা ভাবছে, তখন বিশ্ব রাজনীতির এই অস্থিরতা পরোক্ষভাবে উদ্বেগের কারণ হতে পারে।

আগের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জমানায় যে ধরনের বিদেশনীতি এবং কূটনৈতিক শিথিলতা লক্ষ্য করা যেত, বর্তমান সরকারের ক্ষেত্রে তা একেবারেই ভিন্ন। শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বাধীন বিজেপি সরকার জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে অত্যন্ত আপসহীন। মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর মনোভাব আমাদের দেশের অভ্যন্তরীণ নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রেও নতুন দিশা দেখাতে পারে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। তবে এই ঘটনার বিস্তারিত তথ্য, ওই দুই ইরানি প্রতিনিধি কোন দপ্তরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বা ঠিক কতদিন তারা অতিরিক্ত সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করেছিলেন, সেই সংক্রান্ত সঠিক তথ্য এখনও পাওয়া যায়নি। ভবিষ্যতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এই বিষয়ে আরও বিশদ বিবৃতি দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। ততদিন পর্যন্ত এই বিষয়টি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে বলেই মনে করা হচ্ছে।