হাসপাতালে স্থিতিশীল বাইরন বিশ্বাস, কলকাতায় স্থানান্তরের প্রস্তুতি

রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে আলোড়ন ফেলে দেওয়া সাগরদিঘির বিধায়ক বাইরন বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল বলে জানা গিয়েছে। বেশ কিছুদিন ধরেই তিনি অসুস্থতায় ভুগছিলেন। পারিবারিক সূত্রে পাওয়া খবর অনুযায়ী, চিকিৎসকদের পরামর্শ মেনেই তাঁকে উন্নত চিকিৎসার জন্য খুব শীঘ্রই কলকাতায় নিয়ে আসার পরিকল্পনা করছেন তাঁর পরিবারের সদস্যরা। বর্তমানে বাইরন বিশ্বাস যে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন, সেখানকার চিকিৎসকরা জানিয়েছেন যে তাঁর স্বাস্থ্যের অবস্থা এখন নিয়ন্ত্রণের মধ্যেই রয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার সুবিধার্থেই তাঁকে রাজ্য রাজধানীতে স্থানান্তর করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন পরিবারের ঘনিষ্ঠজনরা।

উল্লেখ্য, রাজ্যের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাইরন বিশ্বাসের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই তাঁর অনুগামী ও শুভানুধ্যায়ীদের মধ্যে উদ্বেগের পরিবেশ তৈরি হয়েছিল। সাগরদিঘির বিধায়ক হিসেবে এলাকায় তাঁর জনপ্রিয়তা অনস্বীকার্য। তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধী দল হিসেবে থাকা অবস্থায় তাঁর শারীরিক অসুস্থতার খবর রাজ্য রাজনীতিতেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্তমান শাসক দল বিজেপি এবং বিরোধী দল তৃণমূল কংগ্রেসের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির মাঝে বাইরনের এই অসুস্থতা এবং তাঁর চিকিৎসার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে রাজ্যবাসীর নজর রয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, কলকাতা নিয়ে আসার জন্য প্রয়োজনীয় অ্যাম্বুলেন্স এবং বিশেষ মেডিক্যাল সরঞ্জামের ব্যবস্থা করা হচ্ছে। কলকাতার কোন হাসপাতালে তাঁকে ভর্তি করা হবে, সেই বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবে শহরের নামী কোনো মাল্টি-স্পেশালিটি হাসপাতালেই তাঁর চিকিৎসা প্রক্রিয়া চলবে বলে প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে বর্তমানে তাঁর শারীরিক প্যারামিটারগুলি স্বাভাবিক বলেই খবর পাওয়া যাচ্ছে। দ্রুত আরোগ্য কামনায় তাঁর এলাকার মানুষজন বিভিন্ন জায়গায় প্রার্থনাও করছেন।

গত কয়েক বছর ধরে পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বাইরন বিশ্বাস একজন গুরুত্বপূর্ণ মুখ হিসেবে উঠে এসেছেন। প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারের আমলে তাঁর বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং পরবর্তী সময়ে নিজের রাজনৈতিক অবস্থান পরিবর্তনের বিষয়টি রাজ্য রাজনীতিতে বিশেষ চর্চার বিষয় ছিল। রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সরকার ও প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও নানা সময়ে বাইরন বিভিন্ন মঞ্চে সরব হয়েছেন। স্বভাবতই, তাঁর মতো একজন বিধায়কের অসুস্থতায় রাজনৈতিক মহলে যেমন উদ্বেগ দেখা দিয়েছে, তেমনই প্রশাসনিক দিক থেকেও তাঁর চিকিৎসার সুরক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে জানানো হয়েছে, বাইরন বিশ্বাসের শারীরিক অবস্থার নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। তাঁকে স্থানান্তর করার প্রক্রিয়াটিও অত্যন্ত সতর্কতা ও বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে সম্পন্ন করা হবে। চিকিৎসার সুবিধার্থে পরিবারের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষের কাছে অনুরোধ করা হয়েছে, তাঁরা যেন তাঁর শারীরিক অবস্থা নিয়ে কোনো গুজবে কান না দেন। আগামী কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে কলকাতায় স্থানান্তরের সময়সূচি চূড়ান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কলকাতার বিশিষ্ট চিকিৎসকদের একটি দল তাঁর পরবর্তী চিকিৎসার বিষয়ে পরামর্শ দেবেন।

এই মুহূর্তে রাজনৈতিক বিভেদ সরিয়ে বাইরনের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছেন সব দলের নেতা-কর্মীরাই। তবে তাঁর কলকাতায় আসা এবং চিকিৎসার পরবর্তী পর্যায়টি রাজনৈতিক দিক থেকে কতটা তাৎপর্যপূর্ণ হবে, তা আগামী কয়েক দিনের ঘটনার প্রবাহ থেকেই স্পষ্ট হবে। বাইরন বিশ্বাস নিজে এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও, তাঁর দ্রুত ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছেন সাগরদিঘির সাধারণ মানুষ। চিকিৎসা সংক্রান্ত যাবতীয় নথিপত্র এবং হাসপাতালের ছাড়পত্র সংগ্রহের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যেই তাঁকে নিয়ে কলকাতার পথ ধরবেন তাঁর পরিজনরা।