আইনজীবীদের ওপর হামলা ঘিরে উত্তাল কলকাতা, তীব্র নিন্দা মমতা বন্দ্যোপাধ্

কলকাতার আদালত চত্বরে সিপিএম সমর্থিত আইনজীবীদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্য রাজনীতি। এই অনভিপ্রেত ঘটনাকে ঘিরে শাসকদল বিজেপির বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শুক্রবার দুপুরে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে আইনজীবীদের অন্দরে। জানা গিয়েছে, একদল দুষ্কৃতী আচমকা আদালত চত্বরে ঢুকে আইনজীবীদের ওপর চড়াও হয় এবং তাদের মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। আহত আইনজীবীদের তড়িঘড়ি চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয় নিকটবর্তী হাসপাতালে। ঘটনার আকস্মিকতায় হতবাক উপস্থিত অন্যান্য আইনজীবী ও সাধারণ মানুষ।

এই ঘটনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই সরব হয়েছেন তৃণমূল নেত্রী তথা রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি স্পষ্ট ভাষায় এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, রাজ্যে আইন-শৃঙ্খলার অবনতি চরমে পৌঁছেছে এবং শাসকদলের ছত্রছায়ায় থাকা দুষ্কৃতীরা এখন আদালত চত্বরকেও নিরাপদ রাখছে না। তিনি প্রশ্ন তুলেছেন, রাজ্যের বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর আমলে বিচারবিভাগের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরাও যদি সুরক্ষিত না থাকেন, তবে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা কোথায়? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই এই ধরনের পরিকল্পিত আক্রমণ চালানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে যুক্তদের অবিলম্বে চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তির দাবি তুলেছেন তিনি।

এদিকে, ঘটনার পর থেকেই আদালত চত্বরে থমথমে পরিবেশ বজায় রয়েছে। আইনজীবীদের একটি বড় অংশ কর্মবিরতির ডাক দিয়েছেন। তাদের দাবি, যতদিন না দোষীরা ধরা পড়ছে এবং ভবিষ্যতে নিরাপত্তার পূর্ণ নিশ্চয়তা মিলছে, ততদিন তারা কাজে যোগ দেবেন না। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলেও আইনজীবীদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। প্রশাসনের তরফে জানানো হয়েছে, এই ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে কারা এই ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে, তা নিয়ে এখনও স্পষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি। বিস্তারিত তথ্যের অভাবে আপাতত অভিযুক্তদের সঠিক পরিচয় বা তাদের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে কোনো নিশ্চিত মন্তব্য করা সম্ভব হচ্ছে না।

রাজ্যের বিরোধী দলনেত্রী তথা প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আরও জানিয়েছেন, তিনি ব্যক্তিগতভাবে আহত আইনজীবীদের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, গণতন্ত্রের প্রধান স্তম্ভ বিচারবিভাগের ওপর এই ধরনের আক্রমণ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না। এই ঘটনার প্রতিবাদে আগামী দিনে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। অন্যদিকে, শাসকদল বিজেপির তরফ থেকে এই ঘটনার বিষয়ে এখনও কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। রাজ্য রাজনীতির এই অস্থির পরিস্থিতিতে এই ঘটনা নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। আদালত চত্বরের মতো স্পর্শকাতর এলাকায় এই ধরনের অরাজকতা পুলিশ প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও বড়সড় প্রশ্ন চিহ্ন তুলে দিয়েছে।

ঘটনার সময় ঠিক কতজন আইনজীবী আহত হয়েছেন এবং তাদের আঘাতের প্রকৃতি কতটা গুরুতর, সেই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনও আমাদের কাছে পৌঁছায়নি। একইভাবে, হামলার সময় ঠিক কী কারণে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়েছিল, তার নেপথ্যে কোনো নির্দিষ্ট পুরোনো বিবাদ রয়েছে কি না, সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্যের অভাব রয়েছে। তবে ঘটনাস্থলে বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে যাতে পুনরায় কোনো অশান্তি না ছড়ায়। শহরের বুদ্ধিজীবী মহল থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ, সকলেই এই ঘটনার তীব্র নিন্দা করছেন। আইন-শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং বিচারপ্রার্থীদের সুরক্ষার স্বার্থে প্রশাসনের সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হচ্ছে। আগামী দিনে এই ঘটনার তদন্ত কোন দিকে মোড় নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে এখন সমগ্র রাজ্য। আদালত চত্বরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কঠোর করার দাবি তুলেছেন সব মহল থেকেই।